শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

Bijoynews24.com
শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬
প্রথম পাতা » কুষ্টিয়ার সংবাদ | জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | শিরোনাম | সাক্ষাতকার » জনপ্রিয়তার শীর্ষে সফল উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন
প্রথম পাতা » কুষ্টিয়ার সংবাদ | জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | শিরোনাম | সাক্ষাতকার » জনপ্রিয়তার শীর্ষে সফল উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন
শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জনপ্রিয়তার শীর্ষে সফল উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন

---॥ শামসুল আলম স্বপন ॥

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৩ সালের ২৪শে ফ্রেরুয়ারী কামারুল আরেফিনের জন্ম । পিতা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ মো: আলাউদ্দিন ছিলেন এলাকার এক প্রাইমারী স্কুলের জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক । মমতাময়ী মা হাজী খোদেজা খাতুনের স্নেহ,মমতায় বড় হন দুরন্ত বালক কামারুল আরেফিন।
১৯৮০ সালে আমলা সরকারি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আমলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সাথে। অন্যায়ের প্রতিবাদী যুবক এবং সমাজ সেবক হিসেবে তখন থেকেই কামারুলের নাম ছড়িয়ে পড়ে এলাকাতে। অত্যন্ত বন্ধু বাৎসল্য কামারুলের সহপাটিদের নিয়ে এলাকাবাসীর কল্যাণে ক্লাব-পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, ভাঙ্গারাস্তা মেরামত ইত্যাদী কাজ করে তিনি ছোট বেলা থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ।  এইচএসসি পাশ করার পর তিনি মেহেরপুর কলেজে ভর্তি হন বিএসএস-এ।  হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা থাকা এবং রাজনৈতিক দুরদর্শিতার কারণে কামারুল ছাত্র সমাজের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। কৃতিত্বের সাথে বিএসএস পাশ করার পর তিনি ফিরে আসেন এলাকায়। মনোনিবেশ করেন ঠিকাদারী ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে।
১৯৯৪ সালে তিনি মিরপুর থানা লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে তিনি মিরপুর থানা আওয়ামীলীগের সাংগনিক সম্পাদক ও ২০১১ সালে মিরপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সালে তিনি বিপুল ভোটে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি তার নির্বাচনী ওয়াদা পুরণ করতে যেয়ে এলাকাবাসীর সাথে নিয়ে সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য মিরপুর থেকে সন্ত্রাস দমনে নেন  কঠোর পদক্ষেপ । আর এতেই তার উপর ক্ষুদ্ধ হয় চরমপন্থী-সন্ত্রাসীরা।  জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত হয়ে চরমপন্থী-সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করার জন্য শুরু করে ষড়যন্ত্র । সদরপুর ও  আমলা বাজারের দুটি জনসভায় তাঁর উপর চালানো হয় বোমা হামলা। দু’বারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান অল্পের জন্যে।
৪ দলীয় জোট সরকারের বিরোধীতা করার জন্য  তাঁর উপর নেমে আসে অত্যাচারের ষ্ট্রীমরোলার। হত্যাসহ অজস্র পেনডিং মামলা দিয়ে তাঁকে নাস্তানাবুদ করা হয়। মিথ্যা মামলায় তিনি জেলে যান দু’বার। মজার ব্যাপার হলো কোন মামলাতে তিনি এজাহার ভুক্ত আসামী ছিলেন না । যে কারণে সকল মামলা থেকে তিনি বে-কসুর খালাস পান। একের পর এক মামলা হামলার কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলা নির্বাচনে তিনি ৮৯,৪৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি’র প্রার্থী আব্দুল হক । তিনি ভোট পেয়েছিলেন,৪৪,৩৩৫টি। ওই নির্বাচন নিয়ে চরম আশংকা ছিল যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী কামারুল আরেফিন প্রভাব খাটিয়ে ভোট তার পক্ষে নেবেন। কিন্তু কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে বলেন,মিরপুর উপজেলা নির্বাচনে সব চেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পেরে আমি খুশি।
২০১৪ সালের ২রা এপ্রিল শপথ গ্রহনের মধ্যে দিয়ে কামারুল আরেফিন  উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মিরপুরবাসীর সেবা দান শুরু করেন।
গত আড়াই বছরে তিনি এলজিইডির সহযোগিতায় ১৩২ কি:মি: পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ১৪৪টি রাস্তার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। ১২টি প্রাইমারী স্কুল,৪টি মাধ্যমিক স্কুলসহ ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংষ্কার কাজ করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৩টি ব্রীজ নির্মাণ ও ১২৮ কি:মি: জিকে খাল খনন করিয়েছেন। উপজেলা কমপ্লেক্স ও মিরপুর থানা ভবন নির্মাণ কাজ, বিএডিসির মাধ্যমে ১৩৬ কি:মি: ডোবা-মজা খাল খনন, ৪০টি রেগুলেটর নির্মাণ,দুই শতাধিক মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর দায়িত্বকালে ৫শ জনেরও অধিক গরীব দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে টিউবওয়েল, ১৫০ জন বিধবা নারীর মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি খেলার সামগ্রী প্রদান করেছেন। ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায়  ৪৫১জন বীরমুক্তিযোদ্ধা, ৩৩৩৫ জন বিধবা,৭,৩০৫জন বয়স্ক ব্যক্তি,১৫২০জন প্রতিবন্ধী,৩৫৮জন শিক্ষার্থী, ১৮ জন হিজড়া,৩১জন হরিজন   মাঝে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে থাকেন। তাঁর দায়িত্বকালীন সল্প সময়ে  ৪টি ইউনিয়ন ভবন নির্মাণ ও ৩১২ কি:মি: বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৭ সালের মধ্যে তিনি মিরপুরের সকল গ্রামে বিদ্যূৎ পৌছাতে চান। আর এ কারনেই তিনি এখন মিরপুরবাসীর কাছে সব চেয়ে জনপ্রিয় মানুষ।

উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের বক্তব্য:

মিরপুর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে  উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, এলজিইডি’র সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ ভাইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ । নেতারা আমাকে দারুন ভাবে সহযোগিতা করেছেন । তা না হলে আমার পক্ষে এত অল্প সময়ে এত কাজ করা সম্ভব ছিল না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর সাথে অন্যান্য উপজেলার মত  আমার কোন বিরোধ নেই । তিনি তাঁর মত কাজ করছেন। টি আর কাবিখা নিয়েই সাধারণত বিরোধ সৃষ্টি হয় । কিন্তু আমরা দলীয় পর্যায়ে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পায় না।তিনি তাঁর দলীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কাজ করান।
জেলায় মন্ত্রী এবং ৩জন দলীয় এমপি থাকা সত্বেও কেন আমলা কৃষি কলেজ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি প্রশ্নের জবাবে উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন,১৯৯১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা মিরপুরে  শহীদ মারফত আলীর  বাড়িতে ৪দিন অবস্থান করেন। সে সময় বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও সাথে ছিলেন । জনগণ জননেত্রীর কাছে আমলায় কৃষি কলেজ স্থাপনের দাবী জানালে তিনি বলেছিলেন ক্ষতায় গেলে কৃষি কলেজ স্থাপন করবো । আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিশ্বাস করি আমাদের নেতারা এক সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই আমলায় কৃষি কলেজ স্থাপন করবেন। আমার পক্ষ থেকে যা করার আমি তাই করতে প্রস্তুত ।
দুর্নীতিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা গঠনে নির্বাচনী অঙ্গিকার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে প্রশ্নের জবাবে কামারুল আরেফিন বলেন, শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত করতে না পারলেও আমরা সহনীয় পর্যায়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আর মিরপুর এখন সন্ত্রাস মুক্ত উপজেলা বলা যায় । আমার নিকটতম কোন আত্মীয় সন্ত্রাস করলে তাকেও আমি ছাড় দিই না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার চাওয়া-পাওয়া কিছু নেই । জনগণকে আমি দিতে চাই আমার সাধ্যমত। আমি আমার জীবনটা মিরপুর-ভেড়ামারাবাসীর জন্য উৎস্বর্গ করতে চাই।
তিনি বলেন,আমার পিতা-মাতা আমার আদর্শ । তাঁদের দোয়ার বরকতে শত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে জনসেবা করতে পারছি। দুই সন্তানের জনক কামারুল আরেফিন ব্যক্তিগত জীবনে ,দারুন সুখি মানুষ । তিনি বলেন আমার স্ত্রী শামসুন্নাহার পারভীন শেফালী  সকল কাজের উপদেষ্টা । রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তার অবদান অনেক।
পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে কামারুল আরেফিন বলেন ধর্মীয় এই পবিত্র  উৎসব সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও শান্তি ।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বিজিবি সদস্য মো: শহীদুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা ব্যর্থ
প্রযোজক-অভিনেতা নজরুল রাজ আটক
র‌্যাব সদরদপ্তরে নেওয়া হয়েছে পরীমনিকে
বিকৃত যৌনাচরণের উপকরণসহ পরীমণির সহযোগী রাজ আটক
পরীমনির বাসায় মিলেছে ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইস
তালেবানের হাতে প্রাদেশিক রাজধানীর পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র; আফগান বাহিনী বলছে লড়ে যাবে
ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে আটক করেছে র‌্যাব
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ১৬ বরযাত্রীর মৃত্যু
মিন্টু’র প্রতারণা ফাঁদে পড়ে কুষ্টিয়ার অনেকেই সর্বশান্ত
আর কত টাকা হইলে তাহারা কুষ্টিয়াবাসীকে মাফ করিয়া দিবেন ?
কুষ্টিয়ায় দিবালোকে ঠিকাদারকে হাতুড়ি পেটার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব
কলেজ ছাত্রকে বিয়ের দা’বিতে পাঁচ সন্তানের জননীর অনশন
গোবিন্দগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ
কুষ্টিয়ায় আরো ৯ জনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২.৬৬
মৌলভীবাজারে স্ত্রীর চুলের খোপা কেটে স্ত্রী নির্যাতন ! নির্যাতনকারী স্বামী আটক
গাইবান্ধায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে পৃথক ৩৯ মামলায় ৩১ হাজার ৮শ’ টাকা জরিমানা
ধর্ষণশেষে স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে দিয়ে গেল যুবক, বাবার মামলা
কুষ্টিয়ায় হাতুড়ি বাহিনীর হামলায় ঠিকাদার আহত
চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে নিয়মিত পণ্যট্রেন উন্মুক্ত হচ্ছে