শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

Bijoynews24.com
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | পজেটিভ বাংলাদেশ | ফটো গ্যালারী | বক্স্ নিউজ | মন্তব্য প্রতিবেদন / ফিচার | মিডিয়া | শিরোনাম | সম্পাদকীয় | সাক্ষাতকার » দুই সাংবাদিক বন্ধুর ভালবাসার নিদর্শণ
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দুই সাংবাদিক বন্ধুর ভালবাসার নিদর্শণ

 

---দিকদর্শন  রিপোর্ট :  যে মুহুর্তে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ, জীবনবাজ শত্রুতা, হিংসা, হানাহানির ঘৃণ্য চিত্র সারা দেশে বিদ্যমান, ঠিক সে মুহূর্তে দুই যুগ আগের দুই সাংবাদিক বন্ধুর মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্মান, ভালোবাসার যে চমৎকার নিদর্শণ ফুটে উঠলো তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। উভয়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়টি তাদের দুটি লেখায় ফুটে উঠেছে। নিচে লেখা দুটি প্রকাশ করা হলো।

 

 

 

 

 

কোনো কৃতজ্ঞতাতেই স্বপন ভাইয়ের ঋণ শোধ করতে পারবো না….

 

 

 

সাঈদুর রহমান রিমন ========================

 

 

 

মানুষ মাত্রই বোধহয় প্রশংসাকামী, আবেগঘন স্বীকৃতি প্রাপ্তির গোপন ইচ্ছা পোষণকারী। কিন্তু আমার অতিপ্রিয় সংবাদকর্মি শামসুল আলম স্বপন ভাই যে স্বীকৃতির পাহাড় ছুইয়ে ছাড়বেন তা কল্পনাও করিনি কখনো। বহুদিন আগে কোনো এক গুরুজনের কাছে শুনেছিলাম সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষটি দুনিয়ার সর্বোচ্চ বোকা সাজতে পারে। আর আজ জানলাম, পৃথিবীতে উচু মনের মানুষগুলো মুহূর্তেই নিজেকে সর্বনিম্নে দাঁড় করিয়ে অন্যদের অনেক অনেক উচুতে রাখতেই বেশি পছন্দ করে।

আজ স্বপন ভাই কয়েক লাইনের স্মৃতিকথায় ঠিক ২৩টি বছর পেছনে নিয়ে গেলেন আমাকে। কত স্মৃতি, কথ কথা, পদে পদে আতঙ্ক, জীবনের বিপন্নদশা জেনেও পথ থেকে পথে, নিভৃত জনপদে তথ্য তালাশে ছুটে বেড়ানোর অদম্য নেশা যেন পেয়ে বসেছিল আমাদের। ১৯৯৯ সালে কাজী আরেফসহ পাঁচ জাসদ নেতার নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় কুষ্টিয়ায় পা রেখেই শিখেছিলাম ‘একজন সাংবাদিকের সোর্সের বিস্তৃতি’ কতটা মজবুত হতে পারে। তা শিখেছিলাম আমার বন্ধু মঞ্জুর এহসান চৌধুরী, হালিম আর শামসুল আলম স্বপন ভাইয়ের কাছ থেকে। তাদের সোর্সের মজবুত তথ্য বলয় থাকার কারণেই কালীদাসপুরের সংঘটিত হত্যাকান্ডের পরদিনই আমি লিখতে পেরেছিলাম চরমপন্থী খুনিদের কার হাতে কোন অস্ত্র ছিল, কে কাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুঁড়েছিল। কেউবা জাসদ নেতা পৌর মেয়রের মুখের ভেতরে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে উপুর্যপরি গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল। স্বপন ভাই ছিলেন দূরন্ত সাহসী। তথ্যের ভেতরে পরিভ্রমণ করতে করতে কোনো তথ্যই আর লিখতে বাকি থাকতো না তার। এজন্য প্রায়ই বন্ধু মঞ্জুর এহসান চৌধুরী গালাগাল দিতেন স্বপনকে, বলতেন নিজেদের রক্ষার দেয়াল হিসেবেও কিছু তথ্য অপ্রকাশিত রাখতে হয়। কে শোনে কার কথা, ধর্মীয় বুলিতেও কী স্বপণ ভাইয়ের তথ্য ফাঁস করা বন্ধ হয়? স্বপন ভাইয়ের গোটা কলিজা জুড়ে থাকা সাহসের পাহাড় ডিঙ্গাতে গিয়ে তিনদিনের মধ্যেই আমি কুষ্টিয়ায় অবাঞ্চিত মানুষে পরিনত হই, ক্ষণ গণনা চলতে থাকে গুলিতে প্রাণ হারানোর। কিন্তু চরমপন্থী বাহিনীর ভেতরেও যে স্বপন- মিঠুর শক্তিশালী সোর্স ছিল। তাদের বদান্যতাতেই আগাম খবর পেয়ে যাই। সেক্ষেত্রে একবিন্দু সময় নষ্ট করতে রাজি ছিলেন না আমার বন্ধুজনরা। ইয়ামাহা আর এক্স ১২৫ হোন্ডা স্টার্ট দিয়ে চালকের আসনে স্বপন ভাই, মাঝখানে আমি আর পেছনে বন্ধু হালিম উঠেই দে ছুট ঢাকামুখে। পেছনে কেউ টের পায় তা ভেবে আমার ব্যাগ ব্যাগেজ সবই পড়ে থাকে দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক মিঠু চৌধুরীর গুপ্ত কক্ষটিতে। সেখানেই আমার নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা ছিল। আমরা এক মোটর সাইকেলে দ্রুত গতিতে কুমারখালী, পাংশা, রাজবাড়ী হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে যেতে থাকলেও আরো তিনটি সন্দেহভাজন মোটর সাইকেল চলছিল আমাদেরই আশেপাশে। তবে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছার পর জানতে পেরেছিলাম বন্ধু মিঠু চৌধুরী বিশেষ ব্যবস্থায় চরমপন্থী সম্রাট সিরাজ বাহিনীর ছয় অস্ত্রধারীকে আমাদেরই নিরাপত্তার জন্য ছায়া সঙ্গী হিসেবে পাঠনোর ব্যবস্থা করেছিল। স্বপণ ভাই ওই এবারই আমার জীবন রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েছিলেন তা কিন্তু নয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠনের প্রাআলেই আবার কম্পমান হয়ে উঠে দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলীয় জেলাসমূহ। আমি হাজির হয়ে যাই ঝিনাইদহ জেলা জনপদে। নবনির্বাচিত এমপি মশিউর রহমানের সমর্থকরা তখন আওয়ামীলীগ অধ্যূষিত গ্রামগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করছিল, হামলা, লুটপাট, নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটছিল মুহূর্তে মুহূর্তে। আমার স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন ছিল সোমবার। ঢাকার মুক্তকন্ঠ পত্রিকার প্রথম পাায় ছয় কলাম জুড়ে ছাপা হয়েছিল আমার সংবাদ : “আজ মনোহরপুরবাসীর ভাগ্য নির্ধারনের দিন” শিরোনামে। রাত থেকেই খুলনার ডিআইজির নেতৃত্বে শত শত পুলিশ হাজির হয় ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে, এসপি অফিসের আঙ্গিনায়।

আমার প্রতিবেদনে উল্লেখিত গ্রামগুলোর কয়েক শ’ পরিবারের জীবন বাঁচাতে পুলিশ রীতিমত যুদ্ধসাজে প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে আমি যে চরম অনিরাপদ হয়ে আছি তার ঘূর্ণাক্ষরও টের পাইনি নিজে। এটাও আগাম টের পেয়েছিলেন ঝিনাইদহ’র তৎকালীন প্রভাবশালী পত্রিকা দৈনিক অধিবেশন পত্রিকার সম্পাদক আলী কদর পলাশ ভাই। ভয় পেতে পারি এমন আশঙ্কায় তা প্রকাশও করেননি তিনি। হঠাত রাত সাড়ে চারটার দিকে কঠিন শীতেই ডেকে তোলা হলো আমাকে, বলা হলো বাসার সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে নিঃশব্দে মোটর সাইকেলে উঠেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো নিচে নেমে এক অজ্ঞাত ব্রক্তির মোটর সাইকেলে চেপে বসতেই তা যেন ঘন্টায় আশি কিলোমিটার বেগে ছুটতে থাকলো। প্রচন্ড শীতে এমনিতেই জুবুথুবু অবস্থা…তারমধ্যে মোটর সাইকেল চলার বাড়তি বাতাসে রীতিমত দেহ হীম হয়ে যাবার জোগাড়। মাঝেমধ্যেই হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে সে কথাও মুখ ফুটে বলতে সাহস পাচ্ছি না।

এভাবেই ঘন্টা দেড়েক মোটর সাইকেল চলার পর এক মসজিদের সামনে টিমটিমে কুপির আলোতে চা কেনাবেচার ছোট্ট দোকানটিতে হোন্ডা থামিয়েই চাদর মাপলারে ঢাকা মুখখানা উন্মোচন করে হোন্ডা চালক বললেন এখানেই আগুনে হাত পা ছেকে নিন, খেয়ে নিন চা সিগারেটও। হোন্ডা থেকে নেমে চালকের চেহারার দিকে তাকিয়েই চিৎকার করে বলে উঠেছিলাম স্বপন ভাই আপনি?? তখনই তিনি জানিয়েছিলেন আমরা এখন কুষ্টিয়ার জেলা সীমানায়, এখানে ঝিনাইদহের হারামিগুলোর অস্তিত্ব নেই, যারা আছে আশেপাশে তারা সবাই চেনে। আপনি এখন শতভাগ নিরপদ। আমি শুধু কুয়াশায় ভেজা স্বপণ ভাইয়ের ফর্সা চেহারাটার দিকে তাকিয়ে নিজের চোখের পানি সংবরণে ব্যস্ত ছিলাম। রাতের অন্ধকারে কঠিন শীতকে উপেক্ষা করে একাকী ভদ্রলোক ছুটে গিয়ে ঢাকার এক সংবাদ কর্মিকে তুলে নিয়ে এলেন, জীবন বাঁচানোর আনন্দে তিনি যেন আরো বেশি খুশি, আরো বেশি তৃপ্ত। আপনার প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা জানিয়েই শেষ করতে পারবো না, পারিওনি। শুধু আমার পরিবারের আজীবন সদস্য হয়ে আছেন আপনি স্বমহিমায়। ভাল থাকুন স্বপন ভাই, অনেক ভাল। আপনার মর্যাদা হোক আকাশসম…আর সেদিকে তাকিয়েই যেন তৃপ্তির হাসি হাসতে পারি আমরা আমৃত্যু।

 

 

 

সাঈদুর রহমান রিমন আমার আধুনিক সাংবাদিকতার গুরু

 

 

শামসুল আলম স্বপন ==================

 

 

আমার সাংবাদিকতার গুরু মরহুম আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী এবং জনাব আব্দুর রশীদ চৌধুরী । তাদের সম্পাদিত পত্রিকা সাপ্তাহিক ইস্পাত ও দৈনিক বাংলাদেশ বার্তায় ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পযর্ন্ত আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং সংবাদ লেখার কলাকৌশল শিখিয়েছিলেন এই জন্য আমি দুইজন প্রথিতযশা দুইজন সাংবাদিকের কাছে কৃতজ্ঞ। ১৯৯৯ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুরে ঘটে যায় মর্মান্তিক হত্যা কান্ড। জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ নেতাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তখন আমি মনজুর এহসান চৌধুরী সম্পাদিত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার চীফ রিপোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে আমার অদম্য ইচ্ছা ছিল জাতীয় পত্রিকায় কাজ করার। তাও আবার জনাব মতিউর রহমান চৌধুরী সম্পাদিত বাংলাদেশের মডেল পত্রিকা বাংলাবাজার পত্রিকায়। সে সময় কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন কনক চৌধুরী। কালিদাস পুরে হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার পর বাংলাবাজার পত্রিকার চীফ ক্রাইম রিপোর্টার তরুন সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনকে কুষ্টিয়াতে পাঠানো হয় নিউজ কভারেজের জন্য। তিনি কুষ্টিয়াতে এসে দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় আমাদের সাথে পরিচিত হন। তার লেখা নিউজের প্রতি আমার ছিল ভীষণ দুর্বলতা । ভাবতাম রিমন ভাই এর মত যদি সংবাদ লিখতে পারতাম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার সে প্রত্যাশা পুরন করলেন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই। মিঠু চৌধুরী, এস,এম, হালিমুজ্জামান হালিম ও আমার সাথে রিমন ভাই এর সম্পর্কটা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো।

 

কালিদাসপুর হত্যাকান্ডের ঘটনা সরেজমিন দেখার জন্য কুষ্টিয়ায় আসলেন তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিকুল ইসলাম । সাথে এলেন পুলিশের আইজিপিসহ র্উ্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থী-সন্ত্রাসী নির্মূলে কি ব্যবস্থা নেয়াযায় এ বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে মতবিনিময় সভা আহ্বান করলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার হোসেন । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাইলেন খুলনা বিভাগে চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য কেন ? উপস্থিত সাংবাদিকরা রাজনৈতিক নেতাদের এবং পুলিশের অবহেলার কথা তুলে ধরলো। আমার মনে হলো তিনি তাতে সন্তুুষ্ট হতে পারলেন না। আমি স্বরাষ্টমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বল্লাম আপনি যদি অভয় দেন তা হলে আমি কিছু তথ্য আপনাকে দিতে পারি। তিনি তার ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়ে বললেন এতে আমার পার্সোনাল টেলিফোন নাম্বার আছে আপনার যদি কোন সমস্যা হয় আমাকে ফোন দিবেন।

 

তখন আমি বল্লাম এ অঞ্চলের আইন-শৃংখলা অবনতির জন্য খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি জনাব লুৎফুল কবীর দায়ি। স্বরাষ্টমন্ত্রী প্রশ্ন করলেন কেন ? আমি বল্লাম এ রেঞ্জের সকল ওসিকে প্রতি মাসে ডিআইজিকে মোটা অংকের মাসোহারা দিতে হয় । যে কারণে ওসিরা চরমপন্থী-সন্ত্রাসীদের দমনের চেয়ে ডিআ্ইজির ঘুষের টাকা যোগাড় করতে সময় ব্যয় করেন বেশী। এ কথা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লেন বুঝেছি। ডিআইজি আমার উপর চটলেও খুশি হলেন এ অঞ্চলের পুলিশ সদস্যরা । পরের দিন যশোর থেকে সিনিয়র সাংবাদিক আজমল ফারাজী দৈনিক ইত্তেফাকে ডিআইজির গুনগান গেয়ে বিশাল সংবাদ লিখলেন । নিউজের হেডিং করলেন “ খুলনা রেঞ্জের পুলিশ বদলী আতংকে টতস্থ ” । আমি ডিআইজির বিরুদ্ধে যা বলেছিলাম তা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য ওই নিউজের মাঝে বিভিন্ন মনগড়া তথ্য প্রদান করা হয় । ইত্তেফাকের সংবাদ পড়ে আমার মাথা গরম হয়ে গেল । আমি লিখলাম “ খুলনা রেঞ্জের পুলিশ ঘুষ আতংকে টতস্থ ” এই শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদের প্রতিবাদই বলা যায়। রিপোর্টটি রিমন ভাই এর হাতে দিলে তিনি পড়ে বললেন চমৎকার । আপনি জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেন না কেন ? আমি বল্লাম সুযোগ পায়নি তাই। রিমন ভাই আন্দোলনের বাজার পত্রিকার টেলিফোন ব্যবহার করে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা অফিসে ফোন করে বার্তা সম্পাদক মুক্তাদির চৌধুরীকে অনুরোধ করলেন আমার লেখা সংবাদটি বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রথম পাতায় প্রকাশ করার জন্য । পরের দিন লেখাটি আমার নামে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি পড়ে আমি অভিভুত হলাম। কৃতজ্ঞতা জানালাম রিমন ভাইকে । সেই থেকে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি দীর্ঘদিন । ওই নিউজের কারণে ডিআইজি লুৎফুল কবীর চরম ক্ষুদ্ধ হলেন আমার উপর । পেন্ডিং মামলায় আমাকে গ্রেফতার করার জন্যও তিনি চাপ দিয়েছিলেন তৎকালীন কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি আমার ক্লাশমেট শৈলকুপার সন্তান নজরুল ইসলামকে। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন ডিআই-ওয়ান জনাব হাবিবুর রহমান ও এসপি মো: আনোয়ার হোসেন ডিআইজির সংগে আমার সম্পর্ক উন্নয়নে ভুমিকা রাখেন।

 

সে সময়ে চরমপন্থী-সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বাংলাবাজার পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে সাঈদুর রহমান রিমন চরমপন্থীদের টার্গেটে পরিনত হন। তাকে কুষ্টিয়া শহরে দেখা মাত্র গুলি করারও নির্দেশ দেয় একটি চরমপন্থী সংগঠন। ঢাকা যাওয়ার সকল রাস্তায় বসানো হয় রেকিম্যান । পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে আমি একটি মটর সাইকেলে রিমন ভাইকে মাঝে ছড়িয়ে পেছনে সাংবাদিক হালিমকে উঠিয়ে দুপুর বেলা ঢাকা রোড ধরে বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে রিমন ভাইকে পৌছে দিই ।

আমি “চরমপন্থী-সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য কুষ্টিয়া” শিরোনামে বাংলাবাজার পত্রিকায় যে ২১টি সিরিজ নিউজ করেছিলাম তার প্রেরণা যুগিয়েছিলেন মো: সাইদুর রহমান রিমন ভাই । আমি তার সংবাদ লেখার ধরন রপ্ত করার কারণেই হয়তো বিদগ্ধ পাঠকের মনজয় করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তাই আমি নির্দিধায় স্বিকার করি রিমন ভাই আমার বয়সে ছোট হলেও তিনি আমার আধুনিক সংবাদ লেখার কলাকৌশলের গুরু । তার তথ্যবহুল সংবাদের কারণে মেজর সিনহা হত্যা মামলা থেকে নিস্কৃতি পায়নি মাদককারবারী ওসি প্রদীপ কুমার । নিউজ পড়ে অনেকেই রিমন ভাইকে উপহাস করে বলেছিলেন রিমন মনগড়া সংবাদ লিখেছে । কিন্তু প্রমাণ হলো রিমন ভাই এর লেখা সংবাদই সঠিক। এমন হাজারো সংবাদ লিখে তিনি দেশবাসীর মন কেড়েছেন। আর দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের ঘুম হারাম করে তাদের শত্রুতে পরিনত হয়েছেন। সেই রিমন ভাই দেশের মানুষের কল্যাণে এবং পাঠকদের চাহিদা পুরনের জন্য “দৈনিক দেশপত্র ” পত্রিকা সম্পাদনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন তাতে আমি গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি দেশপত্র পত্রিকাটি বিজ্ঞাপন নির্ভর পত্রিকা হবে না । দেশপত্র হবে বিদগ্ধ পাঠকের আস্থার পত্র।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
নারী হাফেজকে ধর্ষণের মামলায় কারাগারে মাদ্রাসা শিক্ষক
‘লকডাউনের’ প্রথম দিন রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪০৩
লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা, ফেরির মাস্টার বরখাস্ত
লকডাউনের প্রথম সকালে ট্রাকের ধাক্কায় ঝরল ৬ প্রাণ
কঠোর লকডাউন শুরু, শূন্য রাজপথ
চেতনা নাশক ইনজেকশন পুশ করে রোগীদের ধ”র্ষ’ণ করতো এই ডাক্তার!
করোনার ঝুঁকি সত্ত্বেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি
গতবারের চেয়েও কঠোর ভাবে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী-বিজিবি
১৯ দিনের ছুটিতে দেশ
ভূমধ্যসাগরে নৌডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির সলিল সমাধি
কঠোর বিধি-নিষেধের আওতামুক্ত থাকছে যেসব পণ্য ও প্রতিষ্ঠান
বিদেশযাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলবে
একদিনে ভারতে করোনায় ৩ হাজার ৯৯৮ জনের মৃত্যু
মহামারির মাঝে সারা দেশে ঈদ উদযাপন
আজ পবিত্র ঈদুল আজহা
নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে সরকারি নির্দেশনা না মানায় তিন সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে অর্থদন্ড
কুষ্টিয়ায় বাথরুমে ওড়নায় ঝুলছিল মা-ছেলের লাশ
বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ১২ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি