শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮

Bijoynews24.com
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | পজেটিভ বাংলাদেশ | ফটো গ্যালারী | বক্স্ নিউজ | মন্তব্য প্রতিবেদন / ফিচার | রাজনীতি | শিরোনাম | সম্পাদকীয় » “শিশুদের বন্ধু শেখ মুজিব যখন বিশ্ববন্ধু”
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

“শিশুদের বন্ধু শেখ মুজিব যখন বিশ্ববন্ধু”

॥ শামসুল আলম স্বপন ॥

---অজপাড়া গ্রাম টুঙ্গিপাড়া থেকে সেই শিশু এখন বিশ্বদরবারে ।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম আজ বিশ্বের সবার মুখে মুখে । বলা যেতে পারে বঙ্গনায়ক থেকে তিনি এখন বিশ্বনায়ক । বিশ্ববন্ধু হিসেবেও তিনি পেয়েছেন জাতিসংঘের স্বীকৃতি ।
বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমান তৎকালীন ভারতীয় উপ-মহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের  অর্ন্তভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া  গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ জন্ম গ্রহণ করনে। তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার ছিলেন ।  শেখ লুৎফর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সায়েরা বেগমের চার কন্যা এবং দুই পুত্রের মধ্যে  বঙ্গবন্ধু ছিলেন তৃতীয় সন্তান।
১৯২৭ সালে ৭ বছর বয়সে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন ।  ১৯২৯ সালে ৯ বছর বয়সে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করনে। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইন্সটিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। পরে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করনে। ১৯৪৭ সালে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছরে শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদশেরে প্রথম রাষ্ট্রপতি ও  উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ।  প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনকি স্থপতি হিসেবে  শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের “জাতির জনক” বা “জাতির পিতা ” বলা হয়ে থাকে ।  জনসাধারণরে কাছে তিনি মুজিব ভাই হিসেবে বেশী পরিচিত ছিলেন । বাঙলার মানুষকে ভালোবাসার জন্য তিনি “বঙ্গবন্ধু”  উপাধি লাভ করেন । তার কন্যা শেখ হাসিনা এখন দেশের জনপ্রিয়  প্রধানমন্ত্রী।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সেনা প্রধান আইয়ুব খান জোর করেই দেশের ক্ষমতা দখল করে নেন। শেখ মুজিবসহ বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখেন। পাঁচ বছরের জন্য পুরো দেশে রাজনীতি বন্ধ করে দিলে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে শেখ মুজিবুর রহমান তরুণদের এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়ে যান। তিনি বলেছিলেন, ‘এই পাঁচ বছর তোমরা শিশু সংগঠন কঁচি-কাঁচার মেলার মাধ্যমে আন্দোলন সচল রেখো।’ আমরা জানি দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিশু সংগঠনটি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের মাত্র দুই বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জন্যই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন, কচি-কাঁচার মেলা প্রগতিশীল একটি শিশু সংগঠন। শিক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশ ও মানুষকে ভালোবাসার মানসিকতা বিকাশে শিশুরা সেখানে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠার প্রেরণা পাচ্ছে। শিশুরা দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগও পাচ্ছে।

১৯৬৩ সাল। শেখ মুজিবুর রহমান তখনো বঙ্গবন্ধু উপাধি পাননি, জাতির পিতাও হননি। তবে আওয়ামী লীগের বড় নেতা। সেই সময়ই তিনি শিশুদের টানে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে কচি-কাঁচার মেলা আয়োজিত শিশু আনন্দমেলায় এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ‘এই পবিত্র শিশুদের সঙ্গে মিশি মনটাকে একটু হালকা করার জন্য।’ ছোট্ট এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শিশুদের প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।

১৯৭২ সালে একদিন কচি-কাঁচার মেলার কিছু ক্ষুদে বন্ধু তাদের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন গণভবনে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিজের চোখে দেখে শিশুরা প্রায় তিনশ ছবি আঁকে। এর মধ্যে বাছাই করা ৭০টি ছবি রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই দেখান বঙ্গবন্ধুকে। ছবিগুলো বঙ্গবন্ধু রাশিয়া সফরের সময় সে দেশের শিশুদের জন্য নিয়ে যাবেন শুভেচ্ছা-উপহার হিসেবে।

বঙ্গবন্ধু খুব খুশি হলেন ক্ষুদে শিল্পীবন্ধুদের কাছে পেয়ে। তিনি তাদের হাসিমুখে আদর করলেন। তিনি আগ্রহ ভরে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো দেখছিলেন আর মন খুলে ছবি ও ছবির আঁকিয়েদের প্রশংসা করছিলেন। তিনি মুগ্ধ হয়ে বললেন, ‘আমার দেশের শিশুরা এমন নিখুঁত ছবি আঁকতে পারে, এসব না দেখলে তা বিশ্বাস করা যায় না।’ তিনি শিশুদের সঙ্গে সে দিন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা কাটান এবং যতেœর সঙ্গে খাবার পরিবেশন করেন।

---শুধু তাই নয়। বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময়ে কচি-কাঁচার মেলা, খেলাঘরসহ অন্যান্য সংগঠনের শিশুবন্ধুদের অনুষ্ঠান ও সমাবেশে যেতেন। তাদের মার্চপাস্ট, লাঠিখেলা, নাটক প্রভৃতি পরিবেশনা উপভোগ করতেন। শিশুদের  উপস্থাপনা দেখে অভিভূত হয়েছেন। প্রশংসা করতেন। তিনি এত সহজে, এত আন্তরিকভাবে শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতেন যে, শিশুরাও তাঁকে খুব কম সময়ের মধ্যেই আপন করে নিত।
১৯৭২ সালের শেষের দিকের কথা। একদিন সকালে বঙ্গবন্ধু হাঁটতে বেরিয়েছেন, যেমনটি রোজ বের হন। সঙ্গে বড় ছেলে শেখ কামাল। হঠাৎ বঙ্গবন্ধু দেখলেন- একটি বাচ্চা ছেলে। তার কাঁধে বইয়ের ব্যাগ ঝুলানো। ছেলেটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে। বঙ্গবন্ধু ছেলেটিকে কাছে ডাকলেন। জানতে চাইলেন কেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে? ছেলেটি জানালো তার পায়ে কী যেন ফুটছে এ জন্য ব্যথা করছে। বঙ্গবন্ধু ছেলেটির পায়ের জুতা খুলে দেখেন জুতার ভেতর লোহার সুচালো মাথা বের হয়ে আছে। যার খোঁচায় পা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু তখনই ছেলেটির চিকিৎসার জন্য তাঁর দেহরক্ষী পুলিশকে নির্দেশ দিলেন। ছেলেটির হাতে কিছু টাকাও দিলেন। পরম মমতায় ছেলেটিকে আদর করে বিদায় নিলেন।

শিশুদের প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধু শিশুদের কল্যাণে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন অ্যাক্ট) জারি করেন। এই আইনের মাধ্যমে শিশুদের নাম ও জাতীয়তার অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। শিশুদের প্রতি সব ধরনের অবহেলা, শোষণ, নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন, খারাপ কাজে লাগানো ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন- আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে আজকের শিশুদেরই। তাই শিশুরা যেন সৃজনশীল, মননশীল এবং মুক্তমনের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে- তিনি সব সময় সেটাই চাইতেন। অহিংসা দিয়ে, মানবপ্রেম দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে সমাজে যে আদর্শ বঙ্গবন্ধু নির্মাণ করে গেছেন তার মৃত্যু নেই, তাঁর ক্ষয় নেই। তিনি বেঁচে আছেন বাংলার প্রতিটি উদীয়মান শিশুর মাঝে ।

প্রতিবেদক :
শামসুল আলম স্বপন
সম্পাদক
বিজয় নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
ষ্টাফ রিপোটার
দৈনিক আমাদের সময়
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা)
মোবাইল নং- ০১৭১৬৯৫৪৯১৯



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
মুসলমানদের নিকট মসজিদুল আকসা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
গভীর রাতে মসজিদে কিশোরীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ ইমাম আটক
শতাধিক রকেট হামলা হামাসের, ২ ইসরাইলি নিহত
বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ
ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব
অসামাজিক কার্যকলাপ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে আটকে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী
বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার
মিরপুর থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার
বিএডিসির কর্মকর্তা করোনায় মৃত্যু
টিকটক-লাইকিতে আসক্তি নিয়ে ঝগড়া, স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ
চিলাহাটি জে.ইউ.ফাজিল মাদ্রাসায় দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত
মিয়ানমারে সেনা ঘাঁটি দখল করে আগুন ধরিয়ে দিল বিদ্রোহীরা
বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে এক ডজন বিয়ে করলো তরুণী
রিকশাচালকের ৬০০ টাকা কেড়ে নেয়ায় পুলিশের তিন সদস্য সাময়িক বরখাস্ত!
চিলাহাটিতে অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র ও টাকা বিতরণ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে চীনা রকেটের ১০০ ফুট অংশ
কুষ্টিয়া পৌরসভার কর কর্মকর্তা বরখাস্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ইসলাম ওএসডি
পুলিশকে চাঁদা দিয়ে না খেয়ে রোজা রাখলেন রিকশাওয়ালা
একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল হেফাজত নেতা জাকারিয়ার
এসআইয়ের ড্রয়ার থেকে ঘুষের আড়াই লাখ টাকা বের করলেন এএসপি