শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

Bijoynews24.com
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯
প্রথম পাতা » ইভটিজিং / ধর্ষণ | ক্রাইম রির্পোট | জাতীয় সংবাদ | নারী ও শিশু নির্যাতন | বক্স্ নিউজ | শিরোনাম » জেলে দেখা করে খুনিরা, হত্যার পরিকল্পনা হয় হোটেলে বসে
প্রথম পাতা » ইভটিজিং / ধর্ষণ | ক্রাইম রির্পোট | জাতীয় সংবাদ | নারী ও শিশু নির্যাতন | বক্স্ নিউজ | শিরোনাম » জেলে দেখা করে খুনিরা, হত্যার পরিকল্পনা হয় হোটেলে বসে
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জেলে দেখা করে খুনিরা, হত্যার পরিকল্পনা হয় হোটেলে বসে

 

 

---Bijoynews : ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল দুটি হোটেলে বসে। খুনিদের একাংশ জেলে থাকা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসেই এই হত্যাকাণ্ডের ছক এঁকেছিল। জেলেখানায় অন্যদের সঙ্গে দেখ করতে গিয়েছিল পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নুর উদ্দিনও। হত্যাকাণ্ডের পর কে কীভাবে পালিয়ে যাবে কার কী দায়িত্ব সব কিছুই ঠিক করা হয়েছিল হোটেলে বসেই।

সাত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে মোট ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে সংস্থাটি।

যেদিন হয়েছিল হত্যার পরিকল্পনা

নুসরাতের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে চলতি মাসের ৪ এপ্রিল জেলখানায় দেখা করতে গিয়েছিলেন নুর উদ্দিনসহ বেশ কয়েক জন। সেদিন জেল থেকে সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে তারা একটি হোটেলে বসে প্রাথমিক আলোচনা করেন। এরপরের দিন অর্থাৎ ৫ এপ্রিল আবারও একটি হোটেলে একত্রিত হয়েছিলেন খুনিরা। মূলত সেই দিনই হত্যার চূড়ান্ত চক তৈরি করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারসহ মামলার তদন্তে থাকা একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।  বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আসামিদের একাংশ ৫ এপ্রিল হোটেলকে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলে যে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে।  নুসরাতকে আগুনে পোড়ানোর দুটি কারণ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা।’

হত্যার সময় খুনিদের কার কী দায়িত্ব ছিল

পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে এবং মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে খুনিরা কে, কীভাবে হত্যায় অংশ নিবে। মূলত চার জনের দায়িত্ব ছিল ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়া। দুই জনের দায়িত্ব ছিল ওই ভবনের সিঁড়ি ঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে অন্যদের পরিস্থিতির আপডেট জানানো। আর দুই জন দায়িত্ব ছিল, ছাদের ওপরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং চার জনকে নিরাপদে সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিরাপদে বের করার ব্যবস্থা করা। এদের মধ্যে হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ তিন জনের দায়িত্ব ছিল সাবক্ষনিক গেট পাহাড়া দেওয়া।  দুই মেয়ের দায়িত্ব ছিল বোরকা ও কেরোসিন সংগ্রহ করা।  এছাড়াও অন্যরা সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য প্রস্তুত ছিল।

বোরকা পরে টয়লেটে লুকিয়ে ছিল দুই খুনি

নুসরাতকে যে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল সেই ভবনের ছাদে দুটি টয়লেট ছিল। আর ওই দুই টয়লেটে দুজন খুনি আগে থেকেই বোরকা পরে বসে ছিল। নুসরাতকে যখন ছাদে ডেকে আনা হয়, তখন বাথরুম থেকে ওই দুজন খুনি বেরিয়ে এসে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

তবে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কীভাবে বোরকা পরা দুজন ব্যক্তি প্রবেশ করে ছাদে লুকিয়ে ছিল এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘খুনিরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করে লুকিয়ে ছিল সেটা লোকাল প্রশাসনের জানার কথা। তবে এই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে যে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তারা কীভাবে প্রবেশ করে ছাদের টয়লেটে লুকিয়ে ছিল।’

গায়ে আগুন দিয়ে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে যায় খুনিরা

পিবিআই তদন্তে সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনিরা ছাদের ওপরে নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে দ্রুত নিচে নামেন। এ সময় নুসরাতের চিৎকারে যখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকে। তখন নুসরাতের খুনিরা ওই সব মানুষের ভিড়ে নিজেরাও মিশে যায়। তারাও অন্যদের মতো চিৎকার করে করে দগ্ধ নুসরাতকে বাঁচাতে সহযোগিতার অভিনয় করতে থাকেন।

গায়ে আগুন নিয়ে কেন সিঁড়ি দিয়ে নিচে দৌড় দিয়েছিল নুসরাত

নুসরাতকে যখন গায়ে আগুন দেওয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই দিক-বেদিক হারিয়ে ছাদের ওপর থেকে নুসরাতের নিচে পড়ে যাবার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু নুসরাত কেন গায়ে আগুন নিয়েই দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমেছিলেন তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলে ছিলেন।

এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার  বলেন, ‘নুসরাতকে যে ভবনের ছাদে আগুন দেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল মূলত একটি সাইক্লোন সেন্টার। তাই এই সাইক্লোন সেন্টারের ছাদটি ছিল বেশ সুরক্ষিত। ঘটনার পরে আমাদের পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল। তারা দেখেছেন ভবনের ছাদটি চারদিকে থেকে প্রায় ১০ ফিটের মতো উঁচু দেয়াল দেওয়া। সে কারণে স্বাভাবিক কোনো মানুষই ওই দেয়াল টপকে নিচে লাফ দিতে পারবে না। ছাদ থেকে নিচে নামার জন্য একটি মাত্র সিঁড়িই হচ্ছে নামার উপায়। এই কারণে নুসরাত গায়ে আগুন নিয়েই ওই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমেছিল।’

এর আগে, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষকে।

পরে গত ৬ এপ্রিল আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সকাল ৯টার দিকে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে গেলে কৌশলে নুসরাতকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চার থেকে পাঁচ জন বোরকা পরা ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
নেত্রকোনার দুই রাজাকারের ফাঁসি
দৈনিক জয়যাত্রা অফিস থেকে অপহৃত উদ্ধার : আসামীদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন
বাহ! কি চমৎকার সাংবাদিকতা ?
যে কারনে বিধবাদের বিয়ে করতে চান বেশির ভাগ সৌদি যুবক
দুই দফা খননেও সুফল মেলেনি গড়াই নদীর
একাধিক প্রেম করায় প্রেমিককে মেরে পুঁতে রাখে ফারজানা!
বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষিকা নিহত
বাংলাদেশের কোনো ছবিতে অভিনয় করছি না, বললেন কোয়েল মল্লিক
আসামীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় বাদি ও তার পরিবার
পাকিস্তানি কিশোরীকে ধর্ষণের মূলহোতা গ্রেফতার
কুষ্টিয়ায় গৃহবধুকে শারীরিক নির্যাতন করে গালে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা
সুন্দরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন
শিক্ষকের কাজের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা, ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা!
কুষ্টিয়ায় স্থানীয় পত্রিকা অফিস থেকে অপহৃত উদ্ধার : গ্রেফতার ৫
বাসে তল্লাশিকালে চালককে পিটিয়ে হত্যা ডিবি পুলিশের
হাকালুকি হাওরে বাদাম চাষে বিপ্লব
ধর্ষণের পর সে বললো ‘বাহ! বেশ মজা তো’
অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা নেয়নি পুলিশ
ইবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন ও প্রশাসন ভবন অবরোধ
বাবার টাকায় প্রশাসন চললে সরকারের টাকা গেল কই?