শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৫

Bijoynews24.com
সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | নির্বাচন | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম » ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | নির্বাচন | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম » ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা
সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকরা

---Bijoynews : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনে পর্যবেক্ষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষক। আজ সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানান। প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেন এবং অনুমতি পান।তাদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষক আজ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আজ ১১ই মার্চ বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে এই নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সঞ্চার হয়।

আমরা কয়েকজন শিক্ষক নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামূলক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে অনুমতি দেন এই বলে যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব চাইলেই পালন করতে পারবো। আমরা সকাল নয়টা থেকে বিকেল দুইটা পর্য়ন্ত ছাত্রদের হল এসএম হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, এফ রহমান হল, শহীদুল্লাহ হল এবং ছাত্রীদের হল রোকেয়া হল এবং কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করি।

আমরা কুয়েত মৈত্রী হল থেকে আমাদের পর্য়বেক্ষু শুরু করি কারণ, আমরা শুরুতেই জানতে পারি এই হলে ভোটদানে অনিয়মের কথা। আমরা জানতে পারি, ভোট গ্রহণ শুরু হবার আগে ছাত্রীরা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাদের কাছে ভোটদানের পূর্বে শূন্য ব্যালট বাক্স দেখতে চান কিন্তু তাদের এই ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করা হয়।এতে ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে কেন্দ্রের পাশের কক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের পক্ষে পূরণ করা প্রচুর ব্যালটপেপার উদ্ধার করে।

সেগুলোর বেশ কিছু আমরা শিক্ষকরাও দেখতে পেয়েছি। এরকম অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ না হলেও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের লজ্জিত ও মর্মাহত দেখতে পাই। এক পর্যায়ে রোকেয়া হলে গোলযোগের খবর পাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, সকালের কুয়েত মৈত্রী হলের অভিজ্ঞতার পর, সরকারি ছাত্রসংগঠনের বাইরের নানান প্যানেলের শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রের পাশের রুমে ব্যালট পেপারের সন্ধান পান এবং সেগুলোকে দেখানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। কিন্তু সেগুলো ছিল সাদা ব্যালট পেপার। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিরোধীদের ওপর চড়াও হয়। বিরোধীপক্ষের কয়েকজন আহত হন। উভয় পক্ষের উত্তেজনায় এরকম অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে রোকেয়া হলে, যারা নিন্দা জানাই আমরা। এতে আরো বলা হয়, ছাত্রদের হলের ভেতরে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কতকগুলো অনিয়ম চোখে পড়ে-

ক. ভোটারের আইডি চেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদস্যরাই বেশিমাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন এবং অনাবাসিক ছাত্রদের ভোট দিতে বাধাপ্রদান ও নিরুৎসাহিত করেন তারা
খ. ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেও, অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভোটারের সারির আশেপাশে অবস্থানগ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন
গ. ভোটকেন্দ্রের অব্যবহিত বাইরে কৃত্রিম জটলা করে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শ্লথ হয় এবং বাকিরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয়
ঘ. অনেকক্ষেত্রে বুথের ভেতরে আমরা সময় গণনা করে দেখেছি ৫ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছে কোনো কোনো ভোটার যা ইচ্ছাকৃত মনে হবার কারণ রয়েছে
ঙ. ভোট চলাকালেই রোকেয়া হলের সামনে একটি সংগঠনের ২০/২৫ জন কর্মীকে বাইকের হর্ন বাজিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা আরো বলেন, একটি বড় অসঙ্গতি মনে হয়েছে, ব্যালট পেপারে কোন সিরিয়াল নাম্বার ছিল না। ৪৩ হাজার ভোটারের একটি নির্বাচনের ব্যালটপেপারে সিরিয়াল নাম্বার না থাকাটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ এতে নির্বাচনের ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম ঘটানো অনেক সহজ হয়ে যায়। কোন হলে কোন সিরিয়াল গেল, তাও ট্র্যাক রাখার উপায় থাকার কথা না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা এটাই বলতে চাই এই বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনাগুলো আমাদের খুবই লজ্জ্বিত করেছে। এই ঘটনা জনগণের করে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে যা সার্বিকভাবে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিঘিœত করবে। এত বছর পরে অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষক সবার এবং এই ব্যর্থতা সমগ্র শিক্ষক সম্প্রদায়ের নৈতিকতার মানদন্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা চাই এই ব্যর্থতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। সেই সাথে এই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হউক।

বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন- গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কামরুল হাসান, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রুশাদ ফরিদী, সহকারি অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, তাহমিনা খানম, সহকারি অধ্যাপক, ব্যবস্থপনা বিভাগ ও অতনু রব্বানী, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
ইনু-মেনন বাকস্বাধীনতা চান
ভোট শেষে ফেরার পথে ব্রাশফায়ারে নিহত ৭
মিরপুরে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী অফিসে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতিকের সমর্থকদের হামলা, ব্যাপক ভাংচুর
ক্রাইচচার্চের মসজিদে জড়ো হয়ে ৩৫০ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
রাঙামাটিতে দুর্বৃত্তের ব্রাশফায়ারে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৭
কুষ্টিয়ায় শুরু হচ্ছে ৩ দিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব”
ভোটার ৫৩৬০ জন, ৫ ঘন্টায় আসেননি একজনও
যুদ্ধাপরাধীদের পর হবে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার : তুরিন আফরোজ
মৌলভীবাজারে দুই কক্ষে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েনি ১টিও!
দেড় ঘণ্টায় মাত্র ৬ ভোট!
ডিম কেনার তহবিলে জমা ২০ লাখ টাকা, ডিম বালক এখন বিশ্বনায়ক
মসজিদে হামলা: ৭টি গুলির পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বাবা-মেয়ে
একটি কারণেই মৃত্যুদন্ড হচ্ছে না ট্যারেন্টের
মসজিদে হামলা নিয়ে এরদোগানের ডাকে বৈঠকে বসছে ওআইসি
মৌলভীবাজারে ভোটার শূন্য ৭ উপজেলার ভোটকেন্দ্রে
মেহেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত
ধরে আনছে ভোটার, এজেন্টদের প্রবেশে বাধা
যৌনপল্লীতে মেয়েকে বিক্রির সময় বাবা আটক
খাদ্যমন্ত্রীর বাসায় মেয়ের স্বামীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছাত্রী হলে জন্ম নেয়া সন্তানের বাবা জাবি ছাত্র!