শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫

Bijoynews24.com
শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | নির্বাচন | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম | সংগঠন সংবাদ » বিজয় নিউজ ভোটার জরিপ : কুষ্টিয়া ৪টি আসনে জয়ের মালা পরবেন যারা ?
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | নির্বাচন | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম | সংগঠন সংবাদ » বিজয় নিউজ ভোটার জরিপ : কুষ্টিয়া ৪টি আসনে জয়ের মালা পরবেন যারা ?
শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিজয় নিউজ ভোটার জরিপ : কুষ্টিয়া ৪টি আসনে জয়ের মালা পরবেন যারা ?

 


॥ শামসুল আলম স্বপন ॥

---বিজয় নিউজ :  ৩০ ডিসেম্বর রোববার অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মালা পরবেন কারা এ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলাব্যাপী চলছে নানা গুঞ্জন। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে এ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে ১৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন এমনটি আশা করছেন ভোটাররা। এ নিয়ে বিজয় নিউজের পক্ষ থেকে ৪টি আসনে চালানো হয়েছে ভোটার জরিপ। প্রস্তত করা হয়েছে নির্বাচনী প্রতিবেদন ।

 

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) :

 

সীমান্ত সংলঘ্ন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন। জেলার বৃহত্তম এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনী আসন। কুষ্টিয়া-১ আসনে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপির দাপট থাকলেও এখন তা আগের মত নেই। ভোটার তালিকার সর্বশেষ হিসাব মতে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১১৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭শ’ ৪৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ২শ’ ৫৯ জন। স্বাধীনতার পর এই আসনে তুলনামুলক ভাবে বিএনপির প্রার্থীরাই বেশী জয়লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান আক্কাস বিজয় লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে আহসানুল হক মোল্লা পর তিনবার এমপি নির্বাচতি হন। আহসানুল হক মোল্লার মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপি নেতা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন আফাজ উদ্দিন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রবীণ নেতা আফাজ উদ্দিনের সাথে টক্কর দিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে এমপি হন রেজাউল হক চৌধুরী।
এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন এ্যাড: আ,ক,ম সওয়ার জাহান বাদশা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। বাচ্চু মোল্লা নাশকতা মামলায় কারাগারে থাকার কারণে এবং ক্ষমতাসীন দলের বাধার মুখে নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমত চালাতে পারেননি এমনকি বিএনপি সকল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও দিতে পারেন এ কথা বলছেন বিএনপি’র নেতা-কর্মী ।
ভোটার জরিপে দেখা গেছে যদি ৭৫ শতাং ভোট পোল হয় তাহলে কাষ্টিং ভোটের ৪৫ শতাং ভোট পাবেন অওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাড: আ,ক,ম সওয়ার জাহান বাদশা । ২৫ শতাং ভোট পাবেন বিএনপি’র রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা । এ হিসেব মতে কুষ্টিয়া -১ আসনে জয়ের মালা পরবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড: আ,ক,ম সওয়ার জাহান বাদশা ।

 


কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) :

 

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) মিরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ভেড়ামারা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন । এই আসনে মিরপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশী। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা  ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬শ ৮৭ জন। এর মধ্যে মিরপুর উপজেলায় রয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ভোটার ৫১৩ জন এবং ভোড়ামারা উপজেলায় রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৩২ জন। এ আসনে ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান শাসনামালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রউফ চৌধুরী বিজয়ী হন। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রউফ চৌধুরী জয়লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে ব্যারিষ্টার আব্দুল হক ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচত হন। ১৯৮৬ সালে জামায়াতের আবদুল ওয়াহেদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে এরশাদের শাসনামলে আহসান হাবীব লিংকন লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী হন। ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালের বিজয়ী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরী বিএনপিতে যোগদান করে ১৯৯১ সালে আবারও বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার বিএনপি’র প্রাথী হিসাবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু নৌকা প্রতিক নিয়ে অংশ নিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন ইনু। এর আগে জাসদ দলীয় প্রার্থী হিসাবে মশাল প্রতিকে নির্বাচন করে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে হাসানুল হক ইনু বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। অনুরূপভাবে মাহবুব-উল আলম হানিফও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
আসনটি জেলার রাজনীতিতে অন্যান্য আসনের থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন জোটের দুই হেভিওয়েট নেতা জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ’র বাড়ি এই নির্বাচনী এলাকায়। জাতীয় সংসদের ৭৬ নম্বর আসনটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু। জোটের স্বার্থে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাহবুবউল আলম হানিফকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসানুল হক ইনু। ওই নির্বাচনে ইনুকে মনোনয়ন দেয়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ইনুর মনোনয়ন বাতিল করে হানিফকে মনোনয়ন দেয়ার দাবী তুলেছিল নেতাকর্মীরা। এমনকি ইনুর মনোনয়ন বাতিল করা না হলে আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতারা পদত্যাগের ঘোষনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় জোটের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে হানিফকে পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে এই আসন থেকে ইনু বিনা প্রতিন্দন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। হানিফ-ইনুর ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রভাব পড়েছে মিরপুর-ভেড়ামারার রাজনীতিতে। দুই দলের কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ইউনিয়নে ইউনিয়নে শুরু হয়েছে দু’দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ। গত এক বছরে প্রাণ হারিয়ে দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। উভয় দলের পার্টি অফিসে ঘটেছে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা। পাল্টাপাল্টি মামলায় জেলে ঢুকেছে দুই দলের অনেক নেতাকর্মী। এখনো জেলে রয়েছে অনেকে। আর ইনুকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ। ইনু আওয়ামীলীগের কাঁধে ভর করে দুবার নির্বাচিত হলেও গত ১০ বছরে  আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের কোন খোঁজ নেননি বরং মামলা দিয়ে  হামলা চালিয়ে সর্বশান্ত করেছেন এ অভিযোগ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের । তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েও আওয়ামীলীগের কাউকে ডাকেননি পাশাপাশি ইনুর একটি বে-ফাস বক্তব্যে চরমক্ষুদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা। তিনি একটি জনসভায় বলেছিলেন “আমরা জোটে না থাকলে আওয়ামীলীগ হাজার বছর ক্ষমতায় যেতে পারবে না- রাস্তা রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরবে। তাই  নির্বাচনে ইনুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে মিরপুর ও ভেড়ামারা দুটি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা । পরিস্থিতি উপলদ্ধে করে গত ২৫ ডিসেম্বর জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। এ আসনে ইনুর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নির্বাচন করছেন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে সাবেক এমপি আহসান হাবিব লিংকন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট বিএনএফ’র সাইফুল ইসলাম। লিংকনের  অভিযোগ জাসদ তাকে মাঠে নামতে দেয়নি। এ আসনে ৭০ শতাংশ ভোট পোল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পোলিং ভোটের ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু এমনটি আশা করছেন জাসদের নেতা কর্মীরা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আসন হাবিব লিংকন তিনি ২০ শতাংশ ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর):

 

কুষ্টিয়া সদর সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৮ জন। এই আসনে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। ২০০৮ সালের আগে কুষ্টিয়া সদর আসনটি ছিল বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল খালেক চন্টু’র কাছে হেরে যান আওয়ামীলীগের প্রার্থী ব্যারিষ্টার আমির-উল ইসলাম। এই আসনে স্বাধীনতার পর বেশির ভাগ সময়ই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপি থেকে দুবার নির্বাচিত হন আলহাজ্ব আব্দুল খালেক চন্টু।  একবার অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন । কিন্তু সে দৃশ্যপট এখন আর নেই। ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপির দুর্গে হানা দেয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের আওয়ামীলীগ প্রার্থী খন্দকার রশিদুজ্জামান দুদু জয়লাভ লাভ করেন। এরপর থেকেই এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থা নড় বড়ে হয়ে যায়।
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। সেই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনএফের প্রার্থী লিটন খান ।
কুষ্টিয়া  আসনে নির্বাচনে ্রপতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ । তিনি মাসে অন্তত: একবার  কুষ্টিয়ায় এসে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন। ঘরোয়া বৈঠক এবং গ্রামে গ্রামে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। এছাড়া এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিগত সময়ে বিএনপি উন্নয়নের যে সব ওয়াদা করেছিল তার বাস্তবায়ন হানিফের হাত দিয়ে হয়েছে। এলকাবাষি বলছে হানিফ’র রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,মানুষের প্রতি মমতাবোধ,ধৈর্য সহনসশীলতা,সুন্দর আচরণ এবং কুষ্টিয়ায় দৃশ্যমান বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কুষ্টিয়াবাসীর অন্তর জয় করেছেন তিনি । এ সব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ,বাইপাস সড়ক নির্মাণ, হরিপুর শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ ( বিএনপি’র ১৫ বছর শাসনামলে এই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের জন্য বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি),সুইমিং পুল নির্মাণ,মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ,জিমনেসিয়াম ও ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ,সুপেয় পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা করা,শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিৎ করা,বিনোদন পার্ক নির্মাণ, বিভিন্ন মাদ্রসা,স্কুল,কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, রাস্তা ঘাট পাকাকরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করেন। এছাড়া মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়ার উন্নয়নে হাতে নিয়েছেন যুগান্তকারী কর্মসূচি :
১. আইটি পার্ক নির্মাণ ২. এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়ম ৩. আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ ৪. কেন্দ্রীয় মসজিদ ভবন নির্মাণ ৫.গড়াই নদীর তীর রক্ষা বাধ নির্মাণসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প।
অভিজ্ঞ মহল বলছে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিগত আওয়ামীলীগের ১০ বছরের শাসনামলে মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়াতে যে উন্নয়ন করেছেন তা স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে কেউ করতে পারেননি । বাকী যে প্রকল্প গুলো তিনি হাতে নিয়েছেন এবার নির্বাচিত হলে  অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন এ বিশ্বাস জন্মেছে কুষ্টিয়াবাসীর মনে।
অবকঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, কুষ্টিয়ার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নেও মাহবুবউল আলম হানিফ বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন ১৯৯৯ সাল থেকে। যখন অনেকেই তাঁকে চিনতেন না। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ১৯৯৯ সালের ১৬ই ফ্রেরুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলার কালিদাসপুর ঘটে যায় এক মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনা । চরমপন্থীরা প্রকাশ্য জনসভায় ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ নেতাকে। এতে সরকার অত্যন্ত বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। সরকার চরমপন্থীদের নির্মুলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করে। শক্তি প্রয়োগের আগে সরকার কৌশল হিসেবে চরমপন্থীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে চরমপন্থীদের করা সুযোগ দেয়। প্রথমে যশোরে পরে ২৩ জুলাই কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে চরমপন্থীদের আত্মসমর্পন করার ব্যবস্থা করা হয়। এ দিন তৎকালীন স্বরাষ্টমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র সমর্পন করেন ফাঁসির আসামী গণবাহিনীর প্রধান কসাই সিরাজ, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মেম্বর পরে চেয়ারম্যান আজিবর রহমান ,আব্দালপুর ইউনিয়নের চরপড়া গ্রামের আইনাল হক আনুসহ শতাধিক স্বশস্ত্র ক্যাডার। যারা গণবাহিনী তৈরী করেছিলেন তাদের কেউ নন, আত্মঘাতী অন্ধকারের পথ ছেড়ে চরমপন্থীদের আলোর পথে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন আজকের জননন্দিত নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি । তাঁর কারণে কুষ্টিয়ার ২০ লক্ষ মানুষ আজ ঘুমোতে পারছে শান্তিতে।
সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জননেতা হানিফ কঠোর অবস্থানে থাকায় কুষ্টিয়া অনেকটা মাদক মুক্ত। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিও রয়েছে তাঁর সহমর্মিতা। এ সব কারণেই মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়াবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এ কথা বলছেন সাধারণ জনগণ।কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও বাইপাস সড়কের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি করতে পেরেছেন। এছাড়া ছোট বড় অসংখ্য উন্নয়ন  করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন ।
এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী মাহবুবউল আলম হানিফের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তাকে মেনে নিতে পারেনি বিএনপির অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের অনুসারিরা ।  জাকির সরকারকে মাঠে নামতে দেবে না সোহরাব উদ্দিনের অনুসারিদের এমন ঘোষনার পর তিনি প্রকাশ্যে আসেননি । ফেসবুকে ম্যাসেস দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন আর বলছেন তিনি অবরুদ্ধ । বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা এ কারণে হতাশ।  ।
ভোটার জরিপে দেখা যাচ্ছে এ আসনে ৮৫ শতাংশ ভোট পোল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । কাষ্টিং ভোটের ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতিকে জয় লাভ করবেন মাহবুবউল আলম হানিফ । বিএনপি’র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার ২০ শতাংশ ভোট পাবেন এমনটি ধারণা করছে ভোটাররা।

 

কুষ্টিয়া-৪(কুমারখালী-খোকসা) :

 

খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩  লাখ ৫১ হাজার ২শ’৩৪ জন। এর মধ্যে কুমারখালী উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৯ জন এবং খোকসা উপজেলায় ভোটার ১ লক্ষ ১৬৫ জন । এই আসনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুর রউফ এমপি নির্বাচিত হন।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে  আওয়ামীলীগের ক্লিলিন ইমেজের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ। বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী । প্রথম প্রথম আব্দুর রউফ বিরোধীতা করলেও কেন্দ্রের কঠোর মনোভাবের কারণে সকল বিরোধিতা ভুলে নৌকার পক্ষে কাজ করছে সকল নেতা-কর্মী। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী । নির্বাচন চলাকালীন সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার আসামী হন তিনি । এ কারণে ভালোভাবে মাঠে নামতে পারেনি তিনি। কর্মীরাও ছিলো নিষ্ক্রীয় । এ আসনে ৭০ শতাংশ ভোট পোল হতে পারে। এর মধ্যে নৌকা প্রতিকে ভোট পড়বে ৪০ শতাংশ আর ধানের শীষ প্রতিকে ২০ শতাংশ এমনটি ধারণা করছে সচেতন জনগণ।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
‘আমাদের বিয়ে নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না’
সিলেট সীমান্তে বিজিবি-চোরাচালানি গোলাগুলিতে কিশোর নিহত
মীরসরাইয়ে স্বামীকে গলাকেটে হত্যা, প্রথম স্ত্রী আটক
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সাবেক প্রধান বন সংরক্ষকের সাজা আপিলেও বহাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান সমাপ্ত, আটক ১
কুমিল্লায় একই পরিবারের পাঁচ জনের হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬
কুষ্টিয়ায় জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদানের খবরে তোলপাড়
ক্রিকেট জুয়ায় কাঁপছে দেশ
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই
এখন থেকে কেউ মিথ্যা মামলা করলে জেলে যেতে হবে
গাইবান্ধায় মানুষদের চরম বিপাকে ফেলেছে ট্রাক্টর নামক মালামাল পরিবহনের যানটি
সুন্দরগঞ্জে পাকা সড়ক বিনষ্ট করছে একশ্রেণীর বাহন
লালপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জামিরুলের দাফন সম্পন্ন
মৌলভীবাজারে ইয়াবাসহ আটক-১
ইবি কর্মকর্তার পিতার মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক
প্রাথমিক জেলা মনিটরিং অফিসার হঠাৎ ক্লাসে : নীলফামারীতে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বাংলা রিডিং পড়তে পারে না
নিজ গ্রামের বাড়ি আসছেন রেলপথ মন্ত্রী
ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে যত্রতত্র বেকারী, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিন্মমানের খাবার তৈরী