শিরোনাম:
●   NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় ! ●   কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? ●   কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে ●   ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ●   অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক ●   কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি ●   দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড ●   ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’ ●   আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি ●   সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি
ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

Bijoynews24.com
বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০২০
প্রথম পাতা » অনিয়ম-দুর্নীতি | অপরাধ জগত | অর্থ-বাণিজ্য-কৃষি | কুষ্টিয়ার সংবাদ | খুলনা | জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম » কুষ্টিয়া চিনিকলে দুর্নীতির মহোৎসব : আরো ৩১ জনের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন : সিবিএ সভাপতির পকেটে গেল ১২লাখ টাকা
প্রথম পাতা » অনিয়ম-দুর্নীতি | অপরাধ জগত | অর্থ-বাণিজ্য-কৃষি | কুষ্টিয়ার সংবাদ | খুলনা | জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | রাজনীতি | শিরোনাম » কুষ্টিয়া চিনিকলে দুর্নীতির মহোৎসব : আরো ৩১ জনের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন : সিবিএ সভাপতির পকেটে গেল ১২লাখ টাকা
বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কুষ্টিয়া চিনিকলে দুর্নীতির মহোৎসব : আরো ৩১ জনের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন : সিবিএ সভাপতির পকেটে গেল ১২লাখ টাকা

---

 

বিশেষ সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়া চিনিকলে পিএফ ফান্ডের দুর্নীতি কেলেংকারী বেড়েই চলেছে। গতকাল রবিবার আরো ৩১জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে  পিএফএর ফাইনাল বিলের টাকা উত্তোলনে বাধ্য করেছে মিলের সিবিএ নেতারা। ৩১জন শ্রমিক ও কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের ফাইনাল বিল উত্তোলন করেছেন ৯২লাখ টাকার বেশি আর সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন এদের নিকট থেকে ১৩.৩৩% হারে ১২লাখ ২৬হাজার টাকা আগাম চেকের মাধ্যমে গ্রহন কওে নিজের পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সিবিএ নেতারা দ্রুত প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের তাগাদা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে যারা টাকা উত্তোলন করেছেন তাদের বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
গতকাল কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নিয়ে কুষ্টিয়া চিনিকলের দুর্নীতি বিষয়ে দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মিলের সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগশাজসে এত বড় ধরনের দুর্নীতির বিষয়টি বিভিন্ন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টরালেন্স দেকিয়ে যাচ্ছে সেখানে কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রকাশ্যে অবৈধভাবে শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কিভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে সেটাই এখন জনগনের প্রশ্ন?
এদিকে মিলের চিনি বিক্রির লসের টাকা সমন্বয় করতে সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ৪৫লাখ টাকা উত্তোলনের পরেও শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের  বিলের উপর ১৩.৩৩% টাকা বেআইনীভাবে কর্তন ও শ্রমিকদের বেতন থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা কর্তনের বিষয়টি সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। একটির টাকা সমন্বয় করার জন্য তিনটি খাত থেকে কর্তন করা টাকা গুলো যাচ্ছে কার পকেটে? কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রভিডেন্ট ফান্ড দুর্নীতির সাথে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন,সিবিএ সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান,সহসভাপতি সুমন আহমেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর ও নির্বাহী সদস্য আবুল কাশেমের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সিবিএ নেতারা ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত থেকে মিলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ বহু দিনের। দুর্র্নীতির মাধ্যমে মিলকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার পর এবার এই চক্রটি শ্রমিক ও কর্মচারীদের (ভবিষ্যত তহবিল) প্রভিডেন্ট ফান্ডের দিকে কুনজর পড়েছে। নেতাদের ভয়ভীতির কারনে শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। জানা গেছে কয়েক দিন আগে মিলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৩মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করা হয় আর ঐ বিল থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্ব স্ব বিভাগের নেতাদের আস্থাভাজন কর্মচারীদের উপর। এদের মধ্যে বিল গেট সাবজোন-বি এর দায়িত্ব পেয়েছেন সীমা আক্তার নামের একজন কর্মচারী।আর ভেড়ামারা সাবজোনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সভাপতির ঘনিষ্টজন চুক্তিভিত্তিক সেন্টার গার্ড আকমর হোসেনকে। জোনের টাকা উত্তোলন করছেন আর চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী যারা এই টাকা দেবে না তাদের চাকুরীচুত্য করার হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই চাকুরীচ্যুত হওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা এবং টাকা মনোনিত ঐ ব্যক্তির হাতে টাকা দিচ্ছেন। এদিকে ২০১৫সালের সরকারী গেজেটের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজস্ব কর্তনকৃত টাকা,ঋণ গ্রহন,ঋণ আদায়,ঋণ গ্রহনের লভ্যাংশসহ হিসাব প্রতিবেদন আকারে প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে প্রতিবেদন দেয়ার নিয়ম এবং বার্ষিক কর্তনকৃত টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব নিকাশ প্রতি বছর শেষে পরবর্তি বছরের তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে স্ব-স্ব ব্যক্তিকে লিখিত জানাতে হবে কিন্তু মিল কর্তৃকপক্ষ এই গেজেটের কোন নিয়মই মানছেন না। মিলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারী তার নিজস্ব জমাকৃত অর্থের ৯৫% টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মিলের সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সিবিএর অধিকাংশ সদস্যসহ তাদের আত্মীয় স্বজন ও মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীরা  ২০০% থেকে প্রায় ৬০০% পরিমান টাকা নিয়মবহির্ভুতভাবে ক্ষমতার দাপটে ব্যবস্থাপনাকে মেনেজ করে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহন করেছে। ট্রাষ্টিবোর্ডের নিয়মানুযায়ী ১০কিস্তিতে তা পরিশোধের বিধান থাকলেও সিবিএ নেতাদের এবং তাদের মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
এদিকে একটি সরল হিসেবে দেখা গেছে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বর্তমান মুলধন ৫কোটি ৫৪লাখ ৮০হাজার টাকা। ৫০০টন চিনি বিক্রয়ে যদি ৪০লাখ টাকা লস হয় তাহালে মিলের ৩৬০জন স্থায়ী ও মৌসুমী শ্রমিক ও কর্মচারীর উপর কর্তন করলে সেখানে জনপ্রতি ১০হাজার ১১১টাকা হয়। তার পরেও ১৩.৩৩% হারে কেন এত বেশি টাকা কর্তন করে নেয়া হচ্ছে? সরল হিসেবে আরো দেখা গেছে ৫ কোটি ৫৪লাখ ৮০হাজার টাকার উপর ১৩.৩৩%হারে টাকা কর্তন করলে আদায়কৃত টাকার পরিমান দাঁড়ায় ৭৩লাখ ৯৫হাজার ৪৮৪টাকা। আর ২৩০জন চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী শ্রমিক ও কর্মচারীর তিন মাসের গড় বেতন ৩৯হাজার টাকা হিসেবে ১৩.৩৩% হারে কর্তন করলে সেখানে আরো ১১লাখ ৯৫হাজার ৫৪০টাকা উত্তোলন করা হবে। কুষ্টিয়া চিনিকলের চিনি বিক্রয়ের ৪০লাখ টাকার লস মেটাটে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে ৯০লাখ ৯১হাজার টাকার বেশি। অতিরিক্ত টাকা গুলো সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাগ বাটোয়ারা কওে নিজেদেও পকেটস্ত করছে বলে অভিযোগ। বিগত বছর গুলোতে মিলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়ে আসছে।  কিন্তু মিলের প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টায় ব্যাংক হিসেবে টাকা জমা না দিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করায় শ্রমিক কর্মচারীরা দুর্নীতির করাল গ্রাসে পতিত হয়ে বিপুল পরিমান টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে গতকাল রবিবার আরো ৩১জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে  পিএফএর ফাইনাল বিলের টাকা উত্তোলনে বাধ্য করেছে মিলের সিবিএ নেতারা। ৩১জন শ্রমিক ও কর্মচারী উত্তোলন করেছেন ৯২লাখ টাকার বেশি আর সিবিএ সভাপতি  ফারুক হোসেন এদের নিকট থেকে ১৩.৩৩% হারে ১২লাখ ২৬হাজার টাকা আগাম চেকের মাধ্যমে গ্রহন করেছেন বলে জানা যায়।


কুষ্টিয়া চিনিকলে দুর্নীতির মহোৎসব
শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলন করছেন সিবিএ সভাপতি
কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড বানিজ্য চলছে

 

 

 

বিশেষ সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়া চিনিকলে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। দীর্ঘদিন ধরে সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগসাজসে নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে বর্তমানে দেশের বৃহৎ চিনিকলটি বন্ধের পথে। অভিযোগ উঠেছে, মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগশাজসে সিবিএ নেতারা শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্যত তহবিল) বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে চিনি বিক্রির লসের টাকা সমন্বয় করতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে বলে জানা যায়।                                                                                   শুধু তাই নয়, মিলের লোকসান দেখিয়ে শ্রমিকদের মুল বেতন থেকেও টাকা কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোন টাকায় মিলের একাউন্টে জমা হচ্ছে না। সিবিএ নেতারা বলছেন এই টাকা মিলের একাউন্টে জমা দিলে অডিটে ঝামেলায় পড়তে হবে। তাদের দাবি, মিলের ৫শত টন চিনি বিক্রি করে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা লস হয়েছে। ৬০ টাকা কেজি দরে প্রায় ৩ কোটি টাকার চিনি ফ্রি সেলে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করতে হয়েছে। এই ক্ষতি সমন্বয় করতে মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের এবং বেতন থেকে টাকা কর্তন করা হচ্ছে। তবে সমন্বয়ের টাকা মিলের একাউন্টে জমা না করে কেন ব্যক্তিগত চেক নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসন। মিলের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান শ্রমিক ও কর্মচারীদের অভিযোগে এসব দুর্নীতির সাথে মিলের এমডি গোলাম সরওয়ার মোরশেদ ও সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিলের ১৫জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী এবং ১০জন মৌসুমী শ্রমিক-কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলেছেন। এদের সকলের কাছ থেকে শতকারা ১৩.৩৩% হারে ব্যক্তিগত নামে ব্যাংকের আগাম চেক নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদন নিয়ে সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন সব টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করছেন। মিলের সাবেক ও বর্তমান শ্রমিক ও কর্মচারীরা জানান, মিলের চরম আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতাদের যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগকারীরা আরো জানান- বিগত ৫বছর মিলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাব নিকাশ অডিট করা হয় না। ২০১৬ সালে মিলের স্থায়ী শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৫কোটি টাকা ৫বছর মেয়াদী জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনা হয়। একই দিনে মৌসুমী শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৫০লক্ষ টাকার একই সঞ্চয়পত্র কেনা হয়। ২০১৮সালে স্থায়ী শ্রমিকদের ৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্রের মধ্যে এক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু  ঐ কোটি টাকার কোন লভ্যাংশ এই হিসেবে জমা পড়েনি। ধারনা করা হচ্ছে ঐ লভ্যাংশের টাকা লোপাট হয়েছে। তবে তদন্তে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। শ্রমিকদের অভিযোগ, লভ্যাংশ মিল কর্তৃপক্ষ ও সিবিএ নেতারা যোগশাজসে আত্মসাত করেছে। স্থায়ী শ্রমিকদের বাকি ৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র গত ০৪/১০২০২০ তারিখে  ভেঙ্গে ফান্ডে এক কোটি ৫৪লাখ ৮০হাজার লভ্যাংশ পায় মিল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মৌসুমী শ্রমিকদের ৫০লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে লাভ পান ১৪ লাখ ৬০হাজার ৬২৫টাকা। মৌসুমীদের টাকা ২০১৯সালে উত্তোলন করা হয়। সেই টাকা অবসরপ্রাপ্তসহ শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে বিতরন করা হয়। বর্তমানে স্থায়ীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে লভ্যাংশসহ মুল টাকার পরিমাণ ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮০হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক কর্মচারীদের এই টাকা থেকে অবসর প্রাপ্তদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমুদয় টাকা পরিশোধ ও শ্রমিক কর্মচারীদের ঋণ দেয়া হচ্ছে। অবসর প্রাপ্ত স্থায়ী ৬৩জন শ্রমিক কর্মচারীর পাওনা ২কোটি ৮লাখ ৩০হাজার ৪৫৩টাকা আর মৌসুমী অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী ২৩জনের পাওনা ২২লাখ ১৯হাজার ১৭৭টাকা।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-মিলের সার সরবরাহকারী কর্মচারী  কেরামত আলী গত ২০জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর স্ত্রী রাহিমা ১৫ অক্টোবর স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলন করেন। তিনি অভিযোগ করে জানান-আমার স্বামীর প্রাপ্ত টাকার পরিমান ছিল ৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৭০ টাকা। সমুদয় টাকার চেক আমার হাতে তুলে দেন সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন। এর আগে আমাকে ভুল বুঝিয়ে ফারুক  আমার নিকট থেকে আমার ব্যাংক হিসেবের একটি চেকের পাতা নেন এবং সাথে সাথে ৫৮হাজার ৭৬০টাকা চেকের পাতায় লিখে নেন এবং ব্যাংকে আমার চেক জমা হওয়ার সাথে সাথে ফারুক সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া চিনিকল শাখা থেকে এই টাকা তুলে নেন। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান-কুষ্টিয়া চিনিকলে একমাত্র আমার স্বামীই করোনায় মারা গেছেন। মিল থেকে তার জন্য কোন রকমের সহযোগিতা করেনি বরং তাঁর সঞ্চিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের মোটা অংকের টাকা নেয়ায় আমার পরিবারের মারাত্বক ক্ষতি হল। তিনি জানান- প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আমার স্বামীসহ সকল শ্রমিক ও কর্মচারীর নিজস্ব টাকা। প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা কর্তন করে নেয়া বেআইনী ও অমানবিক। তিনি এব্যাপারে সুস্থ্য বিচারের দাবী করেন।
মিলের ড্রাইভার বাবুল হোসেন কয়েকদিন আগে অবসর যাওয়ার চিঠি হাতে পেয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলন করতে যান। সেখানে সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তার ব্যাংক হিসেবের একটি চেকের পাতায় স্বাক্ষর করে নেন। পরে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার চেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেরাই অনুমোদন করে আনেন এবং আমার দেয়া চেকের পাতায় ১৩.৩৩% হারে ৪৭হাজার ৯৮০টাকা লিখে নেয় এবং ঐদিন ব্যাংক থেকে তারা টাকা তুলে নেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় অনেক আগে থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা আছে। মিলের চিনি ক্রয় বিক্রয়ের হিসেবের সাথে প্রভিডেন্ট ফান্ডের কোন সম্পর্ক নেই। তারপরও যদি মিল কর্তৃপক্ষ প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা কর্তন করতে চাই, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে কর্তন না করে কেন আমাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে চেক নেয়া হচ্ছে?
এব্যাপারে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদের সাথে অফিসে দেখা করতে গেলে ব্যস্ত আছেন বলে কথা বলেননি তিনি। পরে মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ধরেন নি। সিবিএ সভাপতি ফারুক  হোসন জানান, মিলের ৬০ টাকা কেজি দরের চিনি ৫২টাকায় ফ্রি সেলে বিক্রয় করা হয়েছে। এতে মিলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লক্ষ টাকা। ক্ষতিপূরন সমন্বয় করতে মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ এবং বেতনের টাকা কর্তন করে ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান- আমরা শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্বার্থে এই কাজ করছি। এদিকে মিলের চিনি বিক্রিতে ৪০লক্ষ টাকা সমন্বয়ের কথা বলে ইতিমথ্যে গোপনে সিবিএ নেতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগশাযশে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ৪৫লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যা সম্পুর্ণ বেআইনী ও দুর্নীতির শামিল। চিনি বিক্রিতে মিলের ক্ষতি হয়েছে ৪০লাখ টাকা আর কেন ৪৫লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে উত্তোলন করা হলো তার সদুত্তর দিতে পারেননি সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন। এদিকে মিলের চিনি বিক্রির লসের টাকা সমন্বয় করতে সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ৪৫লাখ টাকা উত্তোলনের পরেও শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের  বিলের উপর ১৩.৩৩% টাকা বেআইনীভাবে কর্তন ও শ্রমিকদের বেতন থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা কর্তনের বিষয়টি সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। একটির টাকা সমন্বয় করার জন্য তিনটি খাত থেকে কর্তন করা টাকা গুলো যাচ্ছে কার পকেটে? কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রভিডেন্ট ফান্ড দুর্নীতির সাথে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন,সিবিএ সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান,সহসভাপতি সুমন আহমেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর ও নির্বাহী সদস্য আবুল কাশেমের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সিবিএ নেতারা ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত থেকে মিলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ বহু দিনের। দুর্র্নীতির মাধ্যমে মিলকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার পর এবার এই চক্রটি শ্রমিক ও কর্মচারীদের (ভবিষ্যত তহবিল) প্রভিডেন্ট ফান্ডের দিকে কুনজর পড়েছে। নেতাদের ভয়ভীতির কারনে শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। জানা গেছে কয়েক দিন আগে মিলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৩মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করা হয় আর ঐ বিল থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্ব স্ব বিভাগের নেতাদের আস্থাভাজন কর্মচারীদের উপর। এদের মধ্যে বিল গেট সাবজোন-বি এর দায়িত্ব পেয়েছেন সীমা আক্তার নামের একজন কর্মচারী। তিনি ঐ জোনের টাকা উত্তোলন করছেন আর যারা এই টাকা দেবে না তাদের চাকুরীচুত্য করার হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই চাকুরীচ্যুত হওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা এবং টাকা মনোনিত ঐ ব্যক্তির হাতে টাকা দিচ্ছেন। এদিকে ২০১৫সালের সরকারী গেজেটের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজস্ব কর্তনকৃত টাকা,ঋণ গ্রহন,ঋণ আদায়,ঋণ গ্রহনের লভ্যাংশসহ হিসাব প্রতিবেদন আকারে প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে প্রতিবেদন দেয়ার নিয়ম এবং বার্ষিক কর্তনকৃত টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব নিকাশ প্রতি বছর শেষে পরবর্তি বছরের তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে স্ব-স্ব ব্যক্তিকে লিখিত জানাতে হবে কিন্তু মিল কর্তৃকপক্ষ এই গেজেটের কোন নিয়মই মানছেন না। মিলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারী তার নিজস্ব জমাকৃত অর্থের ৯৫% টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মিলের সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সিবিএর অধিকাংশ সদস্যসহ তাদের আত্মীয় স্বজন ও মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীরা  ২০০% থেকে প্রায় ৬০০% পরিমান টাকা নিয়মবহির্ভুতভাবে ক্ষমতার দাপটে ব্যবস্থাপনাকে মেনেজ করে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহন করেছে। ট্রাষ্টিবোর্ডের নিয়মানুযায়ী ১০কিস্তিতে তা পরিশোধের বিধান থাকলেও সিবিএ নেতাদের এবং তাদের মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
এদিকে একটি সরল হিসেবে দেখা গেছে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বর্তমান মুলধন ৫কোটি ৫৪লাখ ৮০হাজার টাকা। ৫০০টন চিনি বিক্রয়ে যদি ৪০লাখ টাকা লস হয় তাহালে মিলের ৩৬০জন স্থায়ী ও মৌসুমী শ্রমিক ও কর্মচারীর উপর কর্তন করলে সেখানে জনপ্রতি ১০হাজার ১১১টাকা হয়। তার পরেও ১৩.৩৩% হারে কেন এত বেশি টাকা কর্তন করে নেয়া হচ্ছে? সরল হিসেবে আরো দেখা গেছে ৫ কোটি ৫৪লাখ ৮০হাজার টাকার উপর ১৩.৩৩%হারে টাকা কর্তন করলে আদায়কৃত টাকার পরিমান হয় ৭৩লাখ ৯৫হাজার ৪৮৪টাকা। আর ২৩০জন চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী শ্রমিক ও কর্মচারীর তিন মাসের গড় বেতন ৩৯হাজার টাকা হিসেবে ১৩.৩৩% হারে কর্তন করলে সেখানে আরো ১১লাখ ৯৫হাজার ৫৪০টাকা উত্তোলন করা হবে। কুষ্টিয়া চিনিকলের চিনি বিক্রয়ের ৪০লাখ টাকার লস মেটাটে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে ৯০লাখ ৯১হাজার টাকার বেশি। অতিরিক্ত টাকা গুলো সিবিএ নেতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাগ বাটোয়ারা করবেন শ্রমিক কর্মচারীরা জানেিয়ছেন।

 

 

কুষ্টিয়া চিনিকলে অবৈধভাবে শ্রমিক ওকর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে প্রধান কার্যালয়ের তদন্ত কমিটির তদন্ত শুরু

 

 

বিশেষ সংবাদদাতা॥

 কুষ্টিয়া চিনিকলের পিএফ ফান্ডের টাকা উত্তোলনে  অবৈধভাবে ১৩.৩৩% টাকা কর্তনে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিলের সিবিএ নেতাদের যোগাশজসে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্র শিল্প সংস্থার একটি তদন্ত কমিটি । গত রবিবার থেকে দুই সদস্য বিশিষ্ট এই সদন্ত কমিটি মিলে অবস্থান করে তাদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্র শিল্প সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের  উপমহা ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) রাজেশ সাহা। কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পিএফ এর ফাইনাল বিল উত্তোলনে অবৈধভাবে ১৩.৩৩% হারে টাকা উত্তোলনের দুর্ণীতি বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকা’য়  তিনটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তদন্ত কমিটি মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারী যারা সাম্প্রতি পিএফ এর ফাইনাল বিলের টাকা উত্তোলন করেছেন তাদের সাথে সাক্ষাতে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা যায়। তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়।  তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতারা অনেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তদন্ত কমিটির নিকট টাকা উত্তোলনে কোন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়নি এবং আমরা শ্রমিক ও কর্মচারীরা সমুদয় টাকা উত্তোলন করেছি এমন তথ্য তদন্তকারীর নিকট দিতে বলা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতাদের কথার বাইরে কেউ তথ্য প্রদান করলে তাকে মিল থেকে চাকুরীচ্যুত করা হবে বলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীদের এমন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে গত দুদিনে  পিএফ ফান্ডের ফাইনাল বিল গ্রহন করা বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও কর্মচারী তদন্ত কমিটির নিকট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অসহযোগিতা এবং সিবিএ নেতাদের যোগশাজসে শ্রমিক ও কর্মচারীদের পিএফ এর ফাইনাল বিল থেকে ১৩.৩৩% টাকা অবৈধভাবে চেক গ্রহনের মাধ্যমে কর্তন করে রাখার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা যায়। তদন্ত কর্মকর্তাদের নিকট তাদের কর্তনকৃত ১৩.৩৩% টাকা ফেরত দেয়ার আহবান জানান সেই সাথে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিরও দাবী করেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসে কুষ্টিয়া চিনিকল কর্তপক্ষ ৫০০টন চিনি বিক্রয় করে স্থানীয় ডিলারদের নিকট। এই চিনি বিক্রয়ে মিলের নাকি ক্ষতি হয়েছে ৪০লক্ষ টাকা। এদিকে মিলের চিনি বিক্রির লোকসানের টাকা সমন্বয় করতে সিবিএ নেতারা ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদের যোগশাজসে পিএফ থেকে ৪৫লাখ টাকা উত্তোলন করার পরেও শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের  বিলের উপর ১৩.৩৩% টাকা বেআইনীভাবে কর্তন ও শ্রমিকদের বেতন থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা কর্তন কওে এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে যেসব শ্রমিক ও কর্মচারী ঋণ গ্রহন করছেন তাদেও নিকট থেকেও ১৩.৩৩% টাকা কর্তন করা হয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ফাইনাল বিল নিতে এসে মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতাদের কাছে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা উপায়ন্ত না পেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোন সুরাহা করতে না পারায় কয়েকজন বাদে সকলেই ১৩.৩৩% হারে টাকার চেক তুলে দিয়েছেন সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমানের হাতে। কর্তনকৃত টাকা চেকের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া চিনিকল শাখার স্বস্ব হিসাব থেকে উত্তোলন করেছেন। অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত টাকার পরিমান প্রায়  কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের এই শাখায় তদন্ত করলেই এই দুর্নীতি ধরা খুবই সহজ হবে। সিবিএ নেতারা যাদের ফাইল নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট গিয়েছেন তারই চেক হয়েছে। যিনি নেতাদের নিকট যাননি তাকে সিবিএ নেতাদের সাথে বৈঠক করে বনিবনাম শেষে তাদের ফাইনাল বিল হয়েছে। পিএফএর ফাইনাল বিলে কোন রকমের টাকা কর্তন হয়নি এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সংখ্যা ১০এর কাছাকাছি। এদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন জাসদ সমর্থিত নেতা রয়েছেন। তাছাড়া কুমারখালীর এমপি‘র সুপারিশ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সুপারিশসহ আরো কয়েকটি সুপারিশের কারনে তাদের নিকট থেকে কোন টাকা কর্তন করতে পারেননি সিবিএ নেতারা। এই দুর্নীতির বড় প্রমান এখানেই যে মিলের ৬৩জন স্থায়ী ও ২৩জন মৌসুমী শ্রমিক,কর্মচারী ও কর্মকর্তার ফাইনাল বিল হয়েছে এর মধ্যে ১০জনের কাছাকাছি বিনা কর্তনেই সমুদয় টাকার চেক পেয়েছেন আর বাকীরা ১৩.৩৩হারে কর্তনের চেক নেতাদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। আবার এর মধ্যে কয়েকজনের পরিমান নির্দিষ্ট থেকে কমও রয়েছে বলে জানা যায়।
একটির টাকা সমন্বয় করার জন্য তিনটি খাত থেকে কর্তন করা টাকা গুলো কাদের পকেটে গেছে? কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রভিডেন্ট ফান্ড দুর্নীতির সাথে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন,সিবিএ সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান,সহসভাপতি সুমন আহমেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর ও নির্বাহী সদস্য আবুল কাশেমের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদিকে ২০১৫সালের সরকারী গেজেটের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজস্ব কর্তনকৃত টাকা,ঋণ গ্রহন,ঋণ আদায়,ঋণ গ্রহনের লভ্যাংশসহ হিসাব প্রতিবেদন আকারে প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে প্রতিবেদন দেয়ার নিয়ম এবং বার্ষিক কর্তনকৃত টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব নিকাশ প্রতি বছর শেষে পরবর্তি বছরের তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে স্ব-স্ব ব্যক্তিকে লিখিত জানাতে হবে কিন্তু মিল কর্তৃকপক্ষ এই গেজেটের কোন নিয়মই মানছেন না। মিলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারী তার নিজস্ব জমাকৃত অর্থের ৯৫% টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মিলের সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সিবিএর অধিকাংশ সদস্যসহ তাদের আত্মীয় স্বজন ও মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীরা  ২০০% থেকে প্রায় ৬০০% পরিমান টাকা নিয়মবহির্ভুতভাবে ক্ষমতার দাপটে ব্যবস্থাপনাকে মেনেজ করে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহন করেছে। ট্রাষ্টিবোর্ডের নিয়মানুযায়ী ১০কিস্তিতে তা পরিশোধের বিধান থাকলেও সিবিএ নেতাদের এবং তাদের মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।

 

কুষ্টিয়া চিনিকলে অবৈধভাবে শ্রমিক ওকর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে প্রধান কার্যালয়ের তদন্ত কমিটির তদন্ত শুরু

 

বিশেষ সংবাদদাতা॥
কুষ্টিয়া চিনিকলের পিএফ ফান্ডের টাকা উত্তোলনে  অবৈধভাবে ১৩.৩৩% টাকা কর্তনে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিলের সিবিএ নেতাদের যোগাশজসে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্র শিল্প সংস্থার একটি তদন্ত কমিটি । গত রবিবার থেকে দুই সদস্য বিশিষ্ট এই সদন্ত কমিটি মিলে অবস্থান করে তাদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্র শিল্প সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের  উপমহা ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) রাজেশ সাহা। কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পিএফ এর ফাইনাল বিল উত্তোলনে অবৈধভাবে ১৩.৩৩% হারে টাকা উত্তোলনের দুর্ণীতি বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকা’য়  তিনটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তদন্ত কমিটি মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারী যারা সাম্প্রতি পিএফ এর ফাইনাল বিলের টাকা উত্তোলন করেছেন তাদের সাথে সাক্ষাতে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা যায়। তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়।  তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতারা অনেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তদন্ত কমিটির নিকট টাকা উত্তোলনে কোন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়নি এবং আমরা শ্রমিক ও কর্মচারীরা সমুদয় টাকা উত্তোলন করেছি এমন তথ্য তদন্তকারীর নিকট দিতে বলা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতাদের কথার বাইরে কেউ তথ্য প্রদান করলে তাকে মিল থেকে চাকুরীচ্যুত করা হবে বলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীদের এমন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে গত দুদিনে  পিএফ ফান্ডের ফাইনাল বিল গ্রহন করা বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও কর্মচারী তদন্ত কমিটির নিকট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অসহযোগিতা এবং সিবিএ নেতাদের যোগশাজসে শ্রমিক ও কর্মচারীদের পিএফ এর ফাইনাল বিল থেকে ১৩.৩৩% টাকা অবৈধভাবে চেক গ্রহনের মাধ্যমে কর্তন করে রাখার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা যায়। তদন্ত কর্মকর্তাদের নিকট তাদের কর্তনকৃত ১৩.৩৩% টাকা ফেরত দেয়ার আহবান জানান সেই সাথে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিরও দাবী করেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসে কুষ্টিয়া চিনিকল কর্তপক্ষ ৫০০টন চিনি বিক্রয় করে স্থানীয় ডিলারদের নিকট। এই চিনি বিক্রয়ে মিলের নাকি ক্ষতি হয়েছে ৪০লক্ষ টাকা। এদিকে মিলের চিনি বিক্রির লোকসানের টাকা সমন্বয় করতে সিবিএ নেতারা ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদের যোগশাজসে পিএফ থেকে ৪৫লাখ টাকা উত্তোলন করার পরেও শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের  বিলের উপর ১৩.৩৩% টাকা বেআইনীভাবে কর্তন ও শ্রমিকদের বেতন থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা কর্তন কওে এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে যেসব শ্রমিক ও কর্মচারী ঋণ গ্রহন করছেন তাদেও নিকট থেকেও ১৩.৩৩% টাকা কর্তন করা হয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ফাইনাল বিল নিতে এসে মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিএ নেতাদের কাছে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা উপায়ন্ত না পেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোন সুরাহা করতে না পারায় কয়েকজন বাদে সকলেই ১৩.৩৩% হারে টাকার চেক তুলে দিয়েছেন সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমানের হাতে। কর্তনকৃত টাকা চেকের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া চিনিকল শাখার স্বস্ব হিসাব থেকে উত্তোলন করেছেন। অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত টাকার পরিমান প্রায়  কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের এই শাখায় তদন্ত করলেই এই দুর্নীতি ধরা খুবই সহজ হবে। সিবিএ নেতারা যাদের ফাইল নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট গিয়েছেন তারই চেক হয়েছে। যিনি নেতাদের নিকট যাননি তাকে সিবিএ নেতাদের সাথে বৈঠক করে বনিবনাম শেষে তাদের ফাইনাল বিল হয়েছে। পিএফএর ফাইনাল বিলে কোন রকমের টাকা কর্তন হয়নি এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সংখ্যা ১০এর কাছাকাছি। এদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন জাসদ সমর্থিত নেতা রয়েছেন। তাছাড়া কুমারখালীর এমপি‘র সুপারিশ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সুপারিশসহ আরো কয়েকটি সুপারিশের কারনে তাদের নিকট থেকে কোন টাকা কর্তন করতে পারেননি সিবিএ নেতারা। এই দুর্নীতির বড় প্রমান এখানেই যে মিলের ৬৩জন স্থায়ী ও ২৩জন মৌসুমী শ্রমিক,কর্মচারী ও কর্মকর্তার ফাইনাল বিল হয়েছে এর মধ্যে ১০জনের কাছাকাছি বিনা কর্তনেই সমুদয় টাকার চেক পেয়েছেন আর বাকীরা ১৩.৩৩হারে কর্তনের চেক নেতাদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। আবার এর মধ্যে কয়েকজনের পরিমান নির্দিষ্ট থেকে কমও রয়েছে বলে জানা যায়।
একটির টাকা সমন্বয় করার জন্য তিনটি খাত থেকে কর্তন করা টাকা গুলো কাদের পকেটে গেছে? কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রভিডেন্ট ফান্ড দুর্নীতির সাথে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন,সিবিএ সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান,সহসভাপতি সুমন আহমেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর ও নির্বাহী সদস্য আবুল কাশেমের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদিকে ২০১৫সালের সরকারী গেজেটের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজস্ব কর্তনকৃত টাকা,ঋণ গ্রহন,ঋণ আদায়,ঋণ গ্রহনের লভ্যাংশসহ হিসাব প্রতিবেদন আকারে প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীকে প্রতিবেদন দেয়ার নিয়ম এবং বার্ষিক কর্তনকৃত টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব নিকাশ প্রতি বছর শেষে পরবর্তি বছরের তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে স্ব-স্ব ব্যক্তিকে লিখিত জানাতে হবে কিন্তু মিল কর্তৃকপক্ষ এই গেজেটের কোন নিয়মই মানছেন না। মিলের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারী তার নিজস্ব জমাকৃত অর্থের ৯৫% টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মিলের সিবিএ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সিবিএর অধিকাংশ সদস্যসহ তাদের আত্মীয় স্বজন ও মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীরা  ২০০% থেকে প্রায় ৬০০% পরিমান টাকা নিয়মবহির্ভুতভাবে ক্ষমতার দাপটে ব্যবস্থাপনাকে মেনেজ করে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহন করেছে। ট্রাষ্টিবোর্ডের নিয়মানুযায়ী ১০কিস্তিতে তা পরিশোধের বিধান থাকলেও সিবিএ নেতাদের এবং তাদের মদদপুষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক  পিএফ ফান্ডের ফাইনাল বিলের সমুদয় টাকার চেক পেলেন

 

 

 

বিশেষ সংবাদাদাত:  কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের হস্তক্ষেপে কুষ্টিয়া চিনিকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক  খাইরুল বাশার তার পিএফ ফান্ডের ফাইনাল বিলের সমুদয় টাকার চেক হাতে পেয়েছেন।
শিক্ষক খায়রুল বাশার জানান - দীর্ঘ ১মাস ধরে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদ ও সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারন সম্পাদকের নিকট ধরনা দিয়েও নিজের প্রাপ্য টাকা উত্তোলনের সুযোগ না পেয়ে তিনি জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসনের অফিসে দেখা করে বিষয়টি জানালে জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষনাৎ হস্তক্ষেপে তিনি সমুদয় টাকার চেক গতকাল হাতে পেয়েছেন।
তিনি জানান- মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক স্যারের অফিসে উপস্থিত হয়ে স্যারকে জানান- আমি  দীর্ঘ দিন সুনামের সাথে মিলের স্কুলে শিক্ষকতা করেছি। কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু অবসরাকালীন নিজের গচ্ছিত পিএফ ফান্ডের টাকা উত্তোলন করতে এসে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অসহযোগিতা ও সিবিএ নেতাদের দৌরাত্বের হাত থেকে বাঁচতে বহুবার ধরনা দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি। তিনি জেলা প্রশাসককে জানান- ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যারের নিকট গেলে তিনি সিবিএ নেতাদের সাথে যোাগাযোগ করে পিএফএর টাকা দ্রুত তুলে নেয়ার কথা বলেন। না হলে টাকা শেষ হলে আর টাকা পাবেন না বলে জানান। এদিকে সিবিএ নেতারা অবৈধভাবে ১৩.৩৩%হারে টাকার চেক তাদের হাতে তুলে দিলেই তারা চেক প্রদানে সহযোগিতা করবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এসময় জেলা প্রশাসক শিক্ষকের অভিযোগ শোনার পর ফোনে কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদের সাথে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক তাকে বলেন-আপনার স্কুলের একজন শিক্ষক আমার নিকট উপস্থিত হয়েছেন। আপনি দ্রুত তাঁর পিএফএপের টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা নিন।  এদিকে গতকাল বুধবার সকালে শিক্ষক খায়রুল বাশার এমডি’র সাথে দেখা করতে গেলে তিনি চেকে স্বাক্ষর করে পিএফ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে চেক প্রদানের নিদের্শ দেন। কিন্তু সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমানের হস্তক্ষেপে ঐ কর্মচারী তাকে চেক দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এসময় শিক্ষক খায়রুল বাশার এমডি‘র নিকট বিষয়টি জানালে এমডি নিজে চেয়ার থেকে উঠে এসে চেকটি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিকট থেকে শিক্ষক খায়রুলের হাতে তুলে দেন। পরে তিনি চেকটি ব্যাংকে নিজের হিসাবে জমা দেন। এব্যাপারে শিক্ষক খায়রুল বাশার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসককে মোবাইলে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষক খায়রুল ইসলাম জানান-জেলা প্রশাসক স্যারের হস্তক্ষেপ ছাড়া আমি পুরো টাকা পেতাম না। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আমার কথা গুলো আন্তরিকতার সাথে শোনেন এবং তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে আমি তাঁর নিকট চির কৃতজ্ঞ। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মো, আসলাম হোসেন আন্দোলন বাজারকে জানান- একজন শিক্ষক  তার গচ্চিত টাকা উত্তোলনে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে, সেই সাথে টাকা কর্তন করে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে এ বিষয়টি সহ্য করার মত নয়, শোনার পর আমি সাথে সাথে চিনিকলের এমডিকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। এমডি গতকাল নিজেই স্বউদ্যোগে ঐ শিক্ষকের হাতে সমুদয় টাকার চেক তুলে দিয়েছেন জানতে পেরে আমার ভাল লেগেছে। এতে শিক্ষক উপকৃত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেন,সাধারন মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ববোধ থেইে আমাকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের অনেক ভাল মন্দ বিষয় দেখতে হয়। তেমনি একটি বিষয় ঐ শিক্ষকের বেলায় ঘটেছে। আমার কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মানুষ তাঁর অধিকার ও প্রাপ্যতা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন এটা ভাল লাগার বিষয় বটে।
উল্লেখ্য-কুষ্টিয়া চিনিকলের চিনি বিক্রির লোকসান মেটাতে অবৈধভাবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মোরশেদ এবং সিবিএ নেতাদের যোগশাযসে মিল থেকে ৪৫লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে সেই সাথে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ ফান্ডের ফাইনাল বিল থেকে ১৩.৩৩% হারে টাকা চেকের মাধ্যমে নিজেদের হস্তগত করেছে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন থেকেও একই হারে অবৈধভাবে টাকা নগদে গ্রহন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সৌভাগ্যবান কয়েকজন কর্মচারীকে ১৩.৩৩% হারে টাকা দিতে হয়নি নেতাদের হাতে।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-কয়েকজন প্রভাবশালীর সুপারিশের কারনে তাদের নিকট থেকে টাকা কর্তনের চেষ্টা থেকে নেতারা বিরত ছিল। তথ্যসুত্র : দৈনিক নয়াদিগন্ত



এ পাতার আরও খবর

NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় ! NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় !
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’ ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় !
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি
আজ বিআরবি কেবল ইন্ড্রাষ্টিজ লিমিটেড এর ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন
মণ্ডপে হামলা : উস্কানিদাতা ইসলামিক বক্তা গ্রেপ্তার
প্রেমিককে স্বামী বানিয়ে প্রবাসীর সম্পদ লিখে নেন সাকুরা
আবারও বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম
তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে সাঈদ খোকনের চ্যালেঞ্জ ইসলাম ত্যাগ করেন, দুই দিনও মন্ত্রী থাকতে পারবেন না
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আপত্তিকর অবস্থা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে যুবকের মৃত্যু
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠিত
চিলাহাটি গার্লস্ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের প্রদায়ন ও নবাগত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত
স্বামী বিদেশে নেওয়ার আগেই রাতের আধারে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন স্ত্রী