শিরোনাম:
●   NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় ! ●   কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? ●   কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে ●   ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ●   অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক ●   কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি ●   দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড ●   ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’ ●   আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি ●   সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি
ঢাকা, সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮

Bijoynews24.com
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | মন্তব্য প্রতিবেদন / ফিচার | রাজনীতি | শিরোনাম | সম্পাদকীয় | স্পেশাল রির্পোট » কর্মমুখর এক সংগ্রামী চেতনার নাম বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম
প্রথম পাতা » জাতীয় সংবাদ | বক্স্ নিউজ | মন্তব্য প্রতিবেদন / ফিচার | রাজনীতি | শিরোনাম | সম্পাদকীয় | স্পেশাল রির্পোট » কর্মমুখর এক সংগ্রামী চেতনার নাম বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কর্মমুখর এক সংগ্রামী চেতনার নাম বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম

॥ রবিউল হক খান ॥

 ---

 

সফল ব্যবসায়ী কর্মমুখর এক সংগ্রামী নাম বিশিষ্ট সমাজ সেবক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম। যিনি বাল্যকাল থেকে একজন সাংস্কৃতিমনা ও সদালাপী ব্যক্তিত্ব। যার গান শুধু এলাকায়ই নয়, কুষ্টিয়া বাসীকে মুগ্ধ করেছে সুরেলা কন্ঠের অধিকারী যুবক রবিউল ইসলাম। এলাকার অবহেলিত মানুষ ও সমাজের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সফলতাও যেন হাতছানি  দিয়ে ধরা দিয়েছিল একের পর এক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঁড়া দিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ঝাপিয়ে পড়েন দেশ মাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে। মহান স্বাধীনতা অর্জন শেষে আনন্দিত রবিউল ইসলাম সমাজ গঠনে নেমে পড়েন, এলাকা বাসীকে সাথে নিয়ে কাজ শুরু করেন এলাকার উন্নয়নে। তখন হরিশংকরপুর ছিলো মজমপর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড, তিনি শুরু করেন প্রথম মোহিনী মিলে ট্রেডিং ব্যবসা। ব্যবসা থেকে যা উপার্জন করতেন তার অধিকাংশ লভ্যাংশ খরচ করতে থাকেন হরিশংকরপুর বাসীর উন্নয়নে। ভগ্ন সড়ক নির্মাণ, অসহায় শিশুদের শিক্ষা দানে প্রথম অবদান রাখেন, একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। সে সময়ের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র রচয়িতা ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রনেতার অন্যতম সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর সহচর ব্যারিষ্টার এম, আমীর উল ইসলাম এর সাথে পারিবারিক সখ্যতা থাকায় সুযোগ আর হাত ছাড়া করেননি তিনি উন্নয়নের পথ চলা আরও প্রসারিত হয়ে উঠে। জনগনের ভালোবাসা পেয়ে ১৯৮৩ সালে তিনি প্রথম কুষ্টিয়া পৌরসভার কমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দিতা করে কুষ্টিয়ার ১২ টি ওয়ার্ড এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কমিশনার নির্বাচিত হন। শুরু করেন দমদম সড়ক নামে নতুন সড়ক নির্মান। লাহিনী থেকে চাউলের বর্ডার পর্যন্ত মিললাইন থেকে উত্তর লাহিনী পর্যন্ত প্যানেল মেয়র তাইজাল খানের সহযোগীতায় ইউসুফ আলী খান সড়কসহ ওলি গলির বেশকিছু সড়ক নির্মাণ কাজ। তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এলাকাবাসীর চাপে ৪ বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে টানা ২০ বছর বিপুর ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের কাজ শুরু করেন যা এখনও প্রদর্শিত। হরিশংকরপুর এলাকায় কোন ড্রেন না থাকায় পানি পয়ঃনিষ্কাসনের সমস্যা ছিল চরমে। সে সমস্যা সমাধানে লাহিনী বটতৈল থেকে চাউলের বর্ডার পর্যন্ত চওড়া ড্রেন নির্মান করে পানি পয়ঃনিষ্কাসনের ব্যবস্থা করেন এবং সড়কটি পাকা করেন। তার অবদানের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া শহরের ব্যবসায়িক ও বাবুপাড়া খ্যাত মিলপাড়া গড়াই নদীর তীরে একটি নিষিদ্ধ পল্লী (পতিতালয়) ছিল যার জন্য এ এলাকার ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেয়া দুরহ হয়ে পড়তো। তিনি সে সময়ে এ্যাডঃ বদরুদ্দোজা গামা ও তারই বন্ধু প্যানেল মেয়র তাইজাল আলী খানের সাথে একত্রিত হয়ে এলাকাবাসীর সাথে নিয়ে নিষিদ্ধ পল্লী পুড়িয়ে নিচিহ্ন করে দিয়ে পরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করে শতশত পরিবারের বসতি স্থাপন করেদেন। বর্তমানে চড় মিলপাড়া নামে পরিচিত এখন হাজার হাজার পরিবার বসতি স্থাপন করে বসবাস করছে। দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হয়ে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত হন এবং কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোড প্রসস্তকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। চরমিলপাড়ার শিশুদের শিক্ষার কথা ভেবে তিনি ১টি মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে মিশন স্কুল ২ শাখা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেন। যে স্কুলে অনেক শিশু কিশোর লেখাপড়া করছে মিশন স্কুলের পূর্ণ মর্যাদায়।
অত্যন্ত মানবীয় হাজী রবিউল ইসলাম সব সময় গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে ১৯৮০ সালে আনোয়ার আলী প্রথমবারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরের বছর ১৯৯০ সালে চর মিলপাড়ায় হঠাৎ আগুন লেগে ৯টি বাড়ী পুড়ে নিচিহ্ন হয়ে গেলে চেয়ারম্যান আনোয়ার আলীর সাথে পরামর্শ করে বিশিষ্ট শিল্পপতি কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান জনাব আগা ইউসুফের মাধ্যমে ঐ পুড়ে যাওয়া ৯টি বাড়ী তৈরি করে দেন।


ধার্মিক হাজী রবিউল ইসলাম :

 

মহৎ এই ব্যক্তি অত্যন্ত ধার্মিক সৎ ও যোগ্য সদালাপী ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় সহ বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্জ ব্রত পালন করেছেন। তিনি কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে হরিশংকরপুর মসজিদ ও মাদ্রাসা আধুনিকিকরণ করেছেন। এছাড়াও তিনি নিজ উদ্যোগসহ কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে জেলার প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির উন্নয়ন কাজে অর্থ অনুদান করে থাকেন। সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাৎসবে জেলার প্রতিটি মন্দিরে ১০০০ করে নগদ অর্থ দিয়ে থাকেন।


রাজনীতিক হাজী রবিউল ইসলাম
:

 ---

  ২০০৪ সালে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক ভাবে কাজ শুরু করেন। সভা সমাবেশে যোগ দিয়ে সুন্দর সাবলীল বক্তব্যে বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলাকে আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। ১৯৭৩ সালের পর প্রথম বারের মত ২০০১ সালে খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদুসহ ৪টি সংসদীয় আসনেই নৌকার প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়। কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুব আলম হানিফ এমপির অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতা কুষ্টিয়া উন্নয়নের রূপকার উন্নয়নের সহযোগী নেতায় পরিনত হন।
কুষ্টিয়া উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির চলমান ও শেষ হওয়া কিছু উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হলো যার উন্নয়নের সহযোগী হাজী রবিউল ইসলাম স্বারথী হিসেবে কাজ করেছেন। ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন, ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হরিপুর কুষ্টিয়া সংযোগ সেতু শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ,  ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া ষ্টোডিয়াম আধুনিক করণ, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সকল সুবিধা সম্বলিত গোপিনাথ জিউর মন্দির, ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের আধুনিক অডিটোরিয়াম (নির্মিতব্য), ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ টাওয়ার নির্মাণ (চলমান), শহরের পূর্বপাশে মহাশ্মশ্বান সংলগ্ন আধুনিক ইকোপার্ক  নির্মাণ হচ্ছে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে । খুলনা বিভাগের মধ্যে সেরা মার্কেট হাউস নির্মান (চলমান), ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুইমিংপুল  নির্মাণ, ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবন নির্মাণ, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া বটতৈল থেকে ত্রী মোহনী পর্যন্ত ফোর লেনসহ লালন শাহ সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (অনুমোদিত)।

 

সামাজিক আচার অনুষ্ঠান : 

 

সামাজিক দায় বদ্ধতায় তিনি অসহায় দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের জন্য অর্থ অনুদান সহ গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার সুবিধাত্বে অনুদান ও বই খাতা কলম কিনেদেন। সমাজের কোথাও কোন সমস্যা বা ঝগড়া বিবাদ দেখা দিলে তাৎক্ষনিক সমস্যা সমাধান করেন। হৃদয়বান মানুষটি কখনো কঠোরও হন যখন বিচার শালিসে বসেন তখন আপন পর না বেছে নিরপেক্ষ বিচার শেষে রায় দেন । কেউ অসন্তুষ্ট হলেও তিনি সঠিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। সমাজের উন্নয়নে সকলের সাথে কাঁধে কাধঁ রেখে গণমানুষের সেবা করে চলেছেন।


জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান :

২০১৬ সালে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। তিনি কোন হিংসা বা মনে কষ্ট না নিয়ে আনোয়ার আলী কে মেয়র হিসেবে বিজয় করতে ব্যাপক পরিশ্রম করে সফল হন। পরে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে ২০১৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদে নৌকার প্রার্থী হিসাবে হাজী রবিউল ইসলামকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রথমে জেলা পরিষদের দখলকৃত সড়কের পাশের জায়গা দখল মুক্ত করেন। জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির নির্দেশে বাশঁগ্রাম, পাহাড়পুর, আব্দালপুর, ঝাউদিয়া, ইউনিয়নের দুপক্ষের দীর্ঘ দিনের বিবাদ নিরসন করেন। খানা খন্দ ভরা সড়ক গুলো নির্মাণ করেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেট নির্মাণসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে লক্ষাধিক করে টাকা অনুদান দেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির সহায়তায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩১ একর খাস জমির উপর ইকো পার্ক ও  কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সামনে ৪২ শতক জমির উপর ৯৫ লক্ষ.টাকা ব্যয়ে খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টি  নন্দন বিশাল আকারের বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ করেন যার নাম দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।

বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী :

 

বৃহত্তর ৪নং ওয়ার্ড বর্তমানে ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড এ কোন বালিকা বিদ্যালয় না থাকায় তিনি সমাজ সেবক তাইজাল আলী খান, হাজী আমিরুল ইসলাম যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন মৃধা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অজিত কুমার দে, নুরুল ইসলাম ফটিক ও এম, এ, কাশেম এর সাথে  পরামর্শ করে তাদের সহযোগীতায় মিলপাড়ায় একটি মনোরম পরিবেশে মিলপাড়া বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দ্বিতীয়বার জেলা আওয়ামী লীগের  সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হলে প্রিয় নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি হাজী রবিউল ইসলম কে মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ ও আফসার উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মনোনয়ন করেন এবং তার সহযোগীতায় ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ভগ্নস্কুল মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ ভেঙ্গে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেন এবং আফসার উদ্দিন বালিকা মাদ্রাসাটি ২ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করেন। যার নাম করণ করা হয় বেগম ফজিলাতুন মুজিব একাডেমি ভবন নাম করণ করা হয়।
এছাড়াও মিলপাড়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার ব্যাপক অবদান রয়েছে।

 

মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা:

 

 মিলপাড়া, উত্তর লাহিনী, হরিশংকরপুর মাদক ও সন্ত্রাসীদের কারনে ঘর থেকে বের হাবার উপক্রম ছিলনা তখন তিনি তার জীবনকে বাজী রেখে সন্ত্রাস মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে জেহাদের ডাক দেন। সে সময় সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি ও পুলিশ র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে ৫৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এখন এলাকায় শান্তির বাতাস বইছে।
করোনা কালীন সেবাঃ
মহামারী ভাইরাস কোভিড-১৯ করোনার কালীন সময়ে মানবীয় এই নেতা হাজী রবিউল ইসলাম নিজের জীবনের ভয় না করে ছুটে বেরিয়েছেন মানুষের সেবায়। দিয়েছেন সাহায্যের হাত বাড়ীয়ে। সরকারী ত্রান সহ নিজ অর্থে অসহায়দের মাঝে নিজ হাতে ত্রান পৌছে দিয়েছেন বাড়ী বাড়ী চাল, ডাল, তেল, আলু, চিনি, সেমাই সহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের খোঁজ নিয়েছেন মোবাইল মারফত পৌঁছে দিয়েছেন ঔষুধ সহ খাদ্য সামগ্রী।


যে কাজটি করে বেশী প্রশংসিত হয়েছেন :

মহামারী করোনা কালীন যে সকল মধ্যবিত্ত যারা কারো কাছে চাইতে পারে না লজ্জায়, অথচ না খেয়ে থাকে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরী করে অতি গোপনে রাতের আধারে তাদের বাড়ীতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে  দিয়েছেন। Stay home save life  শ্লোগানে মাইক প্রচার করে মাস্ক পরার আহবান জানিয়ে বিনামূল্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ কোভিড-১৯ প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরন করেন।

কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি:

 

 তিনি প্রথম ২০০০ সালে পরিচালক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১৫ সাল থেকে অদ্যবধি পরপর তিন বার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও কুষ্টিয়া উন্নয়নের মাহানায়ক উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন সব সভা সমাবেশে।

 

একজন সফল ব্যবসায়ী:

একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি সুনামের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছেন। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে সূতার মিল, ডাল মিল, সিড ওয়েল শোধন ও তুলার ব্যবসা। নিয়মিত আয়কর দিয়ে থাকেন এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করদাতা মনোনীত হয়েছেন ২০১৫ সালে । দীর্ঘ মেয়াদী করদাতা হিসেবে জেলার একমাত্র ব্যবসায়ী তিনি ।

ক্রীড়া প্রেমী:

তিনি  একজন ক্রীড়া প্রেমি। তিনি  নবারুন ব্যায়ামাগার প্রতিষ্ঠা করে ঐ ক্লাবের ফুটবল টিম পর পর দুইবার বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ শিল্ড (রৌপ্যে নির্মিত) চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া জেলা ফুটবলদল বংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হলে সকল খেলোয়ারদের সংবর্ধনা দেন। তিনি ২০১৬ সালে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন। সরকারি ও ব্যবসায়িক কাজে অনেক রাষ্ট্র ভ্রমন করেছেন।

যে সকল সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জড়িত:

আজীবন সদস্য কুষ্টিয়া লালন একাডেমী, চেয়ারম্যান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কুষ্টিয়া, সভাপতি ফ্যামিলি প্লানিং এসোসিয়েশন, সভাপতি আফছার উদ্দিন বালিকা ডিগ্রী কলেজ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মাদীয়া দাখিল মাদ্রাসা,কুষ্টিয়া, সহ-সভাপতি কুষ্টিয়া আলিয়া মাদ্রসা, আজীবন সদস্য জেলা শিল্পকলা একাডেমীসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।

সুখী পরিবার :

 

রাজনীতিক, জন প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম  সজ্জন মানুষ হিসেবে একজন সুখী মানুষ তিনি।  ১৯৫২ সালে হরিশংকরপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী আব্দুল গফুর, মাতা জহুরা খাতুন।  ভাই বোনের মধ্যে তিনি বড় । স্ত্রী বানু ইসলাম একজন গৃহিণী ও সমাজ সেবিকা ও ধার্মিক। তিনি  ২ ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে রশিবুল ইসলাম একজন সফল ব্যবসায়ী ও ছোট ছেলে রাশেদুল ইসলাম একজন চিকিৎসক,তার স্ত্রী রাখি তিনিও চিকিৎসক । তারা সরকারি উভয়ই জব করেন ।
বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলামের তিন মেয়ে  যথাক্রমে রেবেকা সুলতানা (এম,এ পাস), হাফিজা সুলতানা ( এম,বি,এ পাস), ও রুমানা সুলতানা ( বি,এ পাস ) সকলেই বিবাহিত।

 

 

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাঁড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন হাজি রবিউল ইসলাম

১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে  বঙ্গবন্ধুর ঐসিহাসিক ভাষণে পর মুক্তিকামী মানুষের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ । “ আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমাদের যার যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবে।” বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনামুলক বক্তব্য শুনে  আন্দোলিত হন ২০ বছর বয়সের কুষ্টিয়ার টকবকে যুবক মো: রবিউল ইসলাম । তিনি ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে  উপস্থিত থেকে সবার সাথে শপথ নেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের ।  ঢাকায় গিয়ে তিনি ওঠেন আত্মীয়র সুবাদে কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান প্রখ্যাত কন্ঠ শিল্পী আব্দুল জব্বারের মগবাজারস্থ বাড়ীতে। শুধু আত্মীয়র সুবাধে নয়, মো: রবিউল ইসলাম ছিলেন কন্ঠ শিল্পী আব্দুল জব্বারের ভক্ত ও তাঁর সঙ্গীত শিষ্য । তিনি ছোট বেলায় সঙ্গীতের তালিম নিতেন কন্ঠ শিল্পী আব্দুল জব্বারের কাছে।

২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী কারফিউ জারি করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ ঢাকা সিটি অবরোধ করে চালাতে থাকে লুটপাট,হত্যা,ধর্ষন,অগ্নিসংযোগ । ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মো: রবিউল ইসলাম কুষ্টিয়া ফেরার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। কারফিউ  শিথিল হলে ৩১ মার্চ কন্ঠ শিল্পী আব্দুল জব্বারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি পায়ে হেটে কমলাপুর রেল ষ্টেশনের পাশে অবস্থিত বিআরটিসির ডিপো তেকে বাসে চড়ে আসেন আরিচা ঘাটে । ঘাটপার হয়ে তিনি ট্রেনে উঠে রওয়ানা দেন কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে।  পথি মধ্যে চোখে পড়ে পাক হানাদাদের বাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুরতার  শিকার পরিবার গুলোর বিভৎস্য দৃশ । চড়াইকোল ষ্টেশনে আসার পর ট্রেন আর এগুতে পারেনি। মুক্তিকামী জনতা উপড়ে ফেলেছিল রেল লাইন ।  ওখান থেকে তিনি পায়ে হেটে ফিরে আসেন নিজ পৈত্রিক ভিটা কুষ্টিয়ার হরিশংকরপুরে। বাড়ীতে এসে দেখলেন বাবা-মা ভাই-বোন কেউ বাড়ীতে নেই । প্রতিবেশীরা জানালেন তারা কুমারখালীর মধুপুরে তাঁর খালার বাড়িতে চলে গেছেন হানাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে। মো: রবিউল ইসলাম ১৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে গেলেন খালারবাড়ীতে। বাড়ীর মধ্যে ঢুকতেই মা  ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন । মা ভক্ত মো: রবিউল ইসলাম মায়ের কান্না সহ্য করতে পারেননি। তিনিও মায়ের কান্নায় অস্থির হয়ে ওঠেন,  কানতে থাকেন অঝোরে । সৃষ্টি হয় আবেগঘন মুহুর্ত ।

---
এপ্রিল মাসটা তিনি খালার বাড়িতেই পরিবারে সাথে কাটালেন । এপ্রিল মাসের শেষের দিকে তিনি   তাঁর বাবা-মাকে জানালেন রেসকোর্স ময়দানের শপথের কথা । ওয়াদা রক্ষায় যেতে চাইলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে । এ কথা শুনে বাবা-মা অত্যন্ত খুশি হয়ে ছেলেকে দোয়া করলেন প্রাণ ভরে। তাঁরা বললেন আল্লাহ তোমার প্রতি সহায় হউন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তোমাকে আমরা আল্লাহর কাছে সমার্পন করলাম। দেশস্বাধীন করে তুমি বীরের বেশে আমাদের কাছে ফিরে এসো এই দোয় করি।  মে মাসের ৭ তারিখ । তিনি পোষাক ও কিছু শুকনো খাবার (চিড়ি-মুড়ি) আর বাবার দেয়া কুড়ি টাকা নিয়ে রওয়ানা দিলেন ভারতের উদ্দেশ্যে। সারা দিন হেটে পৌছালেন কুষ্টিয়া দৌলতপুরের প্রাগপুরে। পথে পেলেন অনেক হিন্দু শরনার্থী । সেই সাথে দেখা হয় বাল্যবন্ধু শাহরিয়ার সাথে  ।
সকাল ১১টার দিকে তিনি সবার সাথে পায়ে হেটে সাঁকো দিয়ে পার  হন মাথা ভাঙ্গা নদী । উঠলেন পশ্চিমবঙ্গের করিমপুরে।  সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন তাঁর ওস্তাদ কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার  আগর তলা দিয়ে কলকাতায় পৌছেছেন। এ সংবাদ শুনে তিনি খুশি হয়ে মনে মনে ভাবলেন কন্ঠযোদ্ধা হবেন। গানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করে স্বাধীনতাকামী মানুষদের উজ্জিবিত করবেন । ছোট বেলা থেকেই তার সঙ্গীতের প্রতি ছিল অসাধারন টান।

শাহরিয়ার তাকে নিয়ে গেলেন তার বোন মমতাজের শ্বশুর বাড়ী হাওড়ার পাচলা গ্রামে। সেখানে তিনি বন্ধুর সাথে অবস্থান করলেন ১০দিন।  খোঁজ নিয়ে তিনি জানলেন কলকাতার প্রিন্সেসষ্ট্রীটে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বে আছেন স্বাধীন বাংলা সরকারের মন্ত্রী এ,এইচ,এম কামরুজ্জামান । তিনি   বাংলাদেশীদের গ্রহন করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের কাজে ন্যাস্ত ছিলেন । সেখানে গিয়ে তিনি সাক্ষাত পান তাঁর প্রিয় বন্ধু আমিরুল ইসলাম, মানিক ঘোষ, পলাশ স্যান্নালসহ অনেক পরিচিত মুখের সাথে। এ সময় মো. রবিউল ইসলামের সাহস কয়েকগুন বেড়ে যায় । বন্ধুরা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নেয়ার দৃঢ়তা ব্যক্ত করেন। ওখানে পরিচয় হয় কুষ্টিয়া কুমারখালী বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের কৃতিসন্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এম,এ,বারীর সাথে। কারা উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়ার উপযুক্ত তা তিনি বাছাই করে দিতেন। তাকে পেয়ে সবাই আনন্দিত হলেন ।  মুক্তিযুদ্ধে উন্নততর প্রশিক্ষণ নেয়ার আগ্রহ জানালেন মো: রবিউল ইসলামসহ ওই টিমের সকলে।  এম,এ,বারী সাহেব মো. রবিউল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, মানিক ঘোষ, পলাশ স্যান্নালকে উন্নততর প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহনের জন্য তালিকা ভুক্ত করলেন এবং জানিয়ে দিলেন ওই রাতেই তাদের ফ্লাইট । গোপনীয়তা বজায় রেখে ৫৫ জনের একটি দলকে নেয়া হয় দমদম বিমান বন্দরে। তাদেরকে উঠানো হয় একটি কার্গো বিমানে। জানিয়ে দেয়া হয় পন্যবাহী বিমানে কোন সীট নেই । ফ্লোরে সবাইকে থাকতে হবে । বিমানের প্রচন্ড শব্দে কান ঝালাপালা হবার মত। সবাই তারা কান চেপে ধরে বসে রইলেন প্রায় ২ ঘন্টা । সিলনের বাগডুকরা সামরিক বিমান ঘাটিতে যখন তাদেরকে অবতরণ করানো হয় তখনো রাতের আধাঁর কাটেনি।

এ সময় কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান নূর আলম জিকু সহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদেরকে গ্রহন করেন। এরপর সামরিক বাহনীর ট্রাকের করে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য নেয়া হয় আসাম রাজ্যের প্রায় এক হাজারফুট উ”্চে অবস্থিত পাহাড়ের হাফলং সামরিক ট্রেনিং সেন্টারে। এখানে এসে তাদের সাতে দেখা হয় কুষ্টিয়ার এ্যাড, আব্দুল্লাহ হেল বাকী, খুরম শাহরিয়ার সহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্স ( বিএলএফ) এর সদস্যদের সাথে। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে ট্রেনিং সেন্টারের ব্যারাকে বিশ্রাম নেন তারা । ওই ক্যাম্পে মো: রবিউল ইসলামের সাথে বাম পাশে মানিক ঘোষ এবং ডান পাশে ঘুমাতেন আমিরুল ইসলাম । এমন বন্ধুত্ব আজ টিকে আছে তাদের মাঝে।

তাদেরকে ৫৯ দিনের কঠোর প্রশিক্ষণ  দেয়া হয় । প্রথমে সামরিক শৃঙ্খলার উপর  প্রশিক্ষণ দেয়া হয়  ৩দিন।  এরপর ৩০৩ রাইফেল, এসএল আর, এসএমজি, এলএমজি, দেড় ইঞ্চি মটার, ৩ ইঞ্চি মটার, রেড এ্যাম্বুশ, স্কাইপিং, বুবিট্রাফ, হ্যান্ড গ্রেনেড থ্রো , এক্ল্রুসিভ ডেটেনেটর ব্যবহার, ল্যান্ড মাইন স্থাপনসহ যুদ্ধের নানা রকম কলাকৌশর শিক্ষা দেয়া হয়। ভারতীয় সেনা বাহিনী মেজর হর্ভজন সিংহসহ অনেকেই প্রশিক্ষণ দেন তাদেরকে। ৫৯ দিনের প্রশিক্ষণ কালে কঠোর পরিশ্রমে তারা শারীরিক ভাবে অনেকটা দুর্বল হলেও দেশের স্বাধীনতার জন্য তাদের মনবল ছিল অটুট।
প্রশিক্ষণ শেষে ৫৫ জনের ব্যাচটি আবার ফিরে আসেন কলকাতার দমদম বিমান বন্দরে। এখানে এসে ওই টিমের সাথে দেখা হয় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা জনাব তোফায়েল আহমেদ, জনাব নূর আলম জিকু, জনাব হাসানুল হক ইনু এবং জনাব এমএ,বারীর সাথে। দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে কি ভাবে নিজেকে রক্ষা করে শত্রুদের উপর আক্রমন চালাতে হবে তারা তা ব্রিফিং দেন।
সে সময় বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেছে রাজাকার আর পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ।  ভারত ফারাক্কার সকল গেইট খুলে দেয়ার কারণে বাংলাদেশের সব জেলা  তখন প্লাবিত।  ৫৫ জনের এই মুক্তিযোদ্ধা টিমকে ২টি ভাগে বিভক্ত করে ২টি নৌকায় পর্যাপ্ত অস্ত্র-শস্ত্র,গোলাবারুদ সহ প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে খরচ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। মো: রবিউল ইসলাম,আমিরুল ইসলাম,মানিক ঘোষ,পলাশস্যান্নাল সহ ২৭জন মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য টিম কমান্ডারের  দায়িত্ব দেয়া হয় কুষ্টিয়া কোর্টপাড়ার আব্দুল মান্নানকে। আল্লাহর নাম শ্মরণ করে দেশস্বাধীনের প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাতের আধাঁরে রওয়ানা হন এই ২টিম। দৌলতপুর দিয়ে তারা মিরপুর এসে জানতে পারেন হালসাতে রাজাকার ক্যাম্পের রাজাকাররা সাধারন মানুষের উপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে।  তারা গেরিলা পদ্ধতিতে রাজাকার ক্যাম্প ঘিরে ফেলে সম্মুখ যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এ যুদ্ধে বেশ কিছু রাজারকার নিহত হয় এবং কয়েকজন পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।  ওই রাতেই মুক্তিযোদ্ধা টিম কুষ্টিয়া সদরে আলামপুরের এক হিন্দুর পরিত্যাক্ত বাড়ীতে এসে অবস্থান নেন ২রা সেপ্টেম্বর ।
রাজাকাদের মাধ্যেমে খবর পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে । শুরু হয় তুমুল প্রতিরোধ যুদ্ধ। দিনব্যাপী এ যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী অনেক সেনা হতাহত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রণেভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়  হানাদার বাহিনী । এ যুদ্ধে অংশ নেয়া সকল মুক্তিযোদ্ধা অক্ষত থাকে । এ যুদ্ধে মো: রবিউল ইসলাম এলএমজি গানার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

৩ সেপ্টেম্বর রাতে নৌকাযোগে মুক্তিযোদ্ধা দলটি পৌছায় বংশী তলায় । এখানে এসে তাদের সাতে দেখা হয় জনাব জাহিদ হোসেন জাফর ,জনাব জাফরি, জনাব নোমান ,জনাব তাজু, জনাব দিদারসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধার । এখানে বসে পরিকল্পনা করা হয় কুষ্টিয়া শহর  হানাদার মুক্ত করার ।  কিন্তু ওই এলাকার রাজাকারদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ৫ই সেপ্টেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কাকডাকা ভোরে  বংশীতলার আখ সেন্টারের পশ্চিম পাশে পাকারাস্তার ধারে এ্যাম্বুশ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে । এ খবর পেয়ে প্রায় ২৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। এ যুদ্ধে জনাব আব্দুল কুদ্দুস এলএমজি গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । এই  যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পাক বাহিনী পিছু হটতে থাকে। এক পর্যায়ে পাক বাহিনী পালাতে থাকলে আনন্দে আত্মহারা মুক্তিযোদ্ধরা তাদের অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে করতে গুলি ছুড়তে থাকেন। এমন সময় পাক বাহিনীর একটি সাবর্জেট সামরিক বিমান ঘটনাস্থলে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর অতর্কিত ভাবে ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলে শহীদ হন জনাব তাজুল ইসলাম তাজু, জনাব দিদারসহ ৭জন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধশেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্বাচারা হাইস্কুল ফিল্ডে মর্যাদার সাথে দাফন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে বংশীতলার যুদ্ধ। এরপর ৬ ডিসেম্বর করিমপুর যুদ্ধে অংশ নেন মো: রবিউল ইসলাম। কুখ্যাত রাজাকার আত্তাব মুন্সীর বাড়ীতে এ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা জনাব নাসির উদ্দিন মৃধা মারাত্মক ভাবে আহত হন, মারা যান রাজাকার আত্তাব মুন্সীর শিষ্য করিমপুরের রাজাকার আয়ুব আলী ।
১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত হলে মো: রবিউল ইসলাম সহ মুক্তিযোদ্ধা ফিরে আসেন নিজ নিজ বাড়ীতে । ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা দেয়ার আহবান জানালে মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদের সাথে নিয়ে মো: রউিউল ইসলাম ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমার্পন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। এরপর ১৬ই আগষ্ট বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: রবিউল ইসলাম,বন্ধু বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন মৃধা ,   শহীদুল ইসলাম বিজয়, তাইজাল আলী খান ৫ বন্ধু সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন । রাজনৈতিক কারণে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এবং ১৯৮৪ সালে এরশাদের সামরিক সরকারের আমলে আবারও গ্রেফতার হন তারা। জেল থেকে সাড়া পেয়েই তিনি কুষ্টিয়া পৌরসভায় কমিশনার পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন।  এ সময় পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এ্যাড. বদরুদোজা গামা । বীরমুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান সে সময় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনপ্রিয় নেতা হাজি রবিউল ইসলাম টানা ২০ বছর কমিশনার হিসেবে পৌরবাসীর সেবা করেন।



এ পাতার আরও খবর

NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় ! NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় !
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’ ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
NID জালকারী হাজির কারণে কুষ্টিয়া সদরে নৌকার ভোট বিপর্যয় !
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি
আজ বিআরবি কেবল ইন্ড্রাষ্টিজ লিমিটেড এর ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন
মণ্ডপে হামলা : উস্কানিদাতা ইসলামিক বক্তা গ্রেপ্তার
প্রেমিককে স্বামী বানিয়ে প্রবাসীর সম্পদ লিখে নেন সাকুরা
আবারও বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম
তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে সাঈদ খোকনের চ্যালেঞ্জ ইসলাম ত্যাগ করেন, দুই দিনও মন্ত্রী থাকতে পারবেন না
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আপত্তিকর অবস্থা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে যুবকের মৃত্যু
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠিত
চিলাহাটি গার্লস্ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের প্রদায়ন ও নবাগত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত
স্বামী বিদেশে নেওয়ার আগেই রাতের আধারে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন স্ত্রী