শিরোনাম:
●   কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার ●   কাফন মিছিলের পর শাবিতে এবার গণঅনশনের ডাক ●   ●   কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? ●   কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে ●   ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ●   অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক ●   কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি ●   দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড ●   ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

Bijoynews24.com
সোমবার, ১৬ মে ২০১৬
প্রথম পাতা » ধর্ম » সূরা আন-নিসা : বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ঈমানের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান
প্রথম পাতা » ধর্ম » সূরা আন-নিসা : বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ঈমানের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান
সোমবার, ১৬ মে ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সূরা আন-নিসা : বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ঈমানের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান

 

---: প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী :                                                                               

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

‘মু’মিনদের মাঝে কোন রকম অক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও যারা ঘরে বসে থেকেছে, আর যারা নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছে-এরা উভয়ে কখনো সমান নয়; আল্লাহতায়ালা ঘরে বসে থাকা নিষ্ক্রীয় লোকদের তুলনায় জানমাল দিয়ে জিহাদকারীদের উঁচু মর্যাদা দান করেছেন, যদিও এদের সবার জন্যে আল্লাহতায়ালা উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন, কিন্তু আল্লাহতায়ালা ঘরে বসে থাকা লোকদের ওপর ময়দানের মুজাহিদদের অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে স্বয়ং আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকেই, এর সাথে রয়েছে তাঁর ক্ষমা ও দয়া, মূলত আল্লাহতায়ালা বড়ই ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু।

যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছে তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়ার সময় ফেরেশতারা যখন জিজ্ঞেস করবে,  সেখানে তোমরা কেমন ছিলে? তারা বলবে, আমরা দুনিয়ায় দুর্বল ও অক্ষম ছিলাম, ফেরেশতারা বলবে, কেন আল্লাহর এ যমীন কি প্রশস্ত ছিল না? তোমরা ইচ্ছা করলে সেখানে চলে যেতে পারতে, আসলে এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের আবাসস্থল জাহান্নাম, আর তা কত নিকৃষ্টতম আবাস!’

নামকরণ : পরিচিতি হিসেবে এই সূরার নাম রাখা হয়েছে আন-নিসা, যেখানে অন্যান্য বিষয়ের সাথে নারীদের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

নাযিলের সময়কাল ও বিষয়বস্তু : এটা কোন একক ভাষণ নয়। তৃতীয় হিজরীর শেষ থেকে পঞ্চম হিজরীর শুরু পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া বিভিন্ন ভাষণের সমষ্টি। যেমন ওহুদ যুদ্ধে ৭০জন সাহাবীর শাহাদতের প্রেক্ষিতে তাঁদের মিরাস বন্টন ও তাঁদের রেখে যাওয়া ইয়াতিম সন্তানের ভরণ-পোষণ, ওহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে চতুর্দিকে শত্রুর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার জবাবে মুসলমানদেরকে পাল্টা মোকাবেলায় প্রস্ততকরণ, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভয়কালীন নামায ও তায়াম্মুমের বিধান, কাফির অধ্যুষিত এলাকায় মুসলিম কেউ থাকলে সতর্কতা অবলম্বন ও তাদেরকে দারুল ইসলামে চলে আসার আহবান, মুনাফিকরা অনেক সময় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানাবিধ প্রচারণা চালায়ে মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করতো-এমতাবস্থায় সত্য-মিথ্যা যাচাই ও দায়িত্বশীলকে অবহিতকরণ, মুসলমানদের নৈতিক চরিত্রের সংশোধন, দাওয়াতে দ্বীনের কাজ জারী রাখা ইত্যাদি বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা : এখানে জিহাদে অংশগ্রহণ ছিল ফরজে কিফায়া। ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধের (ফরজে আইন) ডাক আসলে সেখানে সক্ষমদের পক্ষে তালবাহানার কোন সুযোগ নেই এবং এমতাবস্থায় তারা মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত হয়। সাধারণভাবে জিহাদের (ফরজে কিফায়া) আহবান জানানো হলে সর্বোত্তম বিবেচিত হবেন তারা, যারা জিহাদের ময়দানে উপস্থিত হবেন। যদিও ইসলামী রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের (ঈমান ও নেক আমলের বিনিময়ে) জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কার, তথাপি উভয়ের মধ্যে (ঘরে বসে থাকা ও জিহাদে অংশগ্রহণকারী) রয়েছে মর্যাদাগত বিশাল পার্থক্য। এখানে স্মরণযোগ্য যে, এ সূরাটি নাযিল হয়েছে মদীনায় একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর। যুদ্ধের ডাক কেবল রাষ্ট্রশক্তিই দিতে পারে। কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির পক্ষ থেকে যুদ্ধের ডাক মূলত সমাজে ফেতনা সৃষ্টিরই নামান্তর এবং সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও হত্যাকান্ড ঘটানো হত্যাযোগ্য অপরাধ। রসূল (সা.)-এর ১৩ বছরের মক্কাজীবনে গুপ্তহত্যার ঘটনা একটিও পাওয়া যায় না। তিনি ও তাঁর সাথীরা একতরফাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সময়ে বলা হয়েছে-‘হাত গুটিয়ে রাখ এবং নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর’। দ্বীন কায়েমেরে স্বাভাবিক পথ হলো-মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান জানানো এবং যারা শরীক হবে তাদেরকে পরিশুদ্ধ (নেক আমলে ভূষিত) করা ও ইসলামের অনুকূলে জনমত গঠন। রসূল (সা.) কর্তৃক কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম নয় বরং এই স্বাভাবিক নিয়ম অনুসরণের পরও কাফির-মুশরিকদের প্রচন্ড বিরোধীতার সম্মুখিন হন। সত্য-মিথ্যার এ দ্বন্দ্ব চিরন্তন এবং এ বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে যারা ঈমানের ওপর অবিচল থাকবে তাদের জন্যই সুসংবাদ। ঈমান ও নেক আমলে সমৃদ্ধ এক দল লোক যদি কোন জনপদে তৈরী হয় এবং সেই জনপদের মানুষ যদি সক্রিয় বিরোধীতা না করে, তবে সেই সমাজে খিলাফত প্রতিষ্ঠা (মু’মিনদের কর্তৃত্ব) আল্লাহতায়ালার দায়িত্ব।

এখানে কুফুরি রাষ্ট্রে আধা মুসলমান ও আধা কাফিরের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। ইসলাম চায় তার অনুসারীরা পূর্ণরূপে ইসলাম মেনে চলুক। কিন্তু বাতিল ব্যবস্থাপনার অধীনে পূর্ণরূপে আল্লাহর দ্বীন মেনে চলা সম্ভব নয়। যদি কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে হিজরতের সুযোগ থাকে তবে কুফুরি রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে জীবন-যাপনের কোন সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় হিজরত করে পরিপূর্ণ মুসলিম জীবন-যাপনের জন্য আল্লাহপাক নির্দেশ প্রদান করেছেন। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোন একটি দেশে কারো জীবন যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে তার পক্ষে হিজরত করা যায়। কিন্তু কোন একটি দেশে সবাইকে হিজরত করার মত পরিবেশ ও সুযোগ বর্তমানে নেই। বরং যেখানে দ্বীন আদৌ মানা সম্ভব নয়, মানা যায় এমন দেশে সেখান থেকে হিজরত করা উচিৎ। বর্তমান পরিবেশে যে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, সে তার অবস্থান থেকে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে ফেরেশতাদের পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মৌখিক প্রচার-প্রসারের সাথে সত্যের সাক্ষ্যদাতা হিসেবে (আমল-আখলাক পরিশুদ্ধির মাধ্যমে) অপরের সম্মুখে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে হবে। চারিপার্শ্বে যারা অবস্থান করে তারা যেন আমাদেরকে ইসলামের এক একজন মূর্তপ্রতীক হিসেবে দেখতে পায়, অর্থাৎ আমাদেরকে দেখেই ইসলামকে চিনতে ও বুঝতে পারে। কথা-বার্তা, আচার-আচরণ, লেন-দেন, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি, সততা, বিশ্বস্ততা, আমানতদারিতা ইত্যাদি মানবীয় গুণে সমৃদ্ধ হয়ে একজন যথার্থ দ্বায়ী হিসেবে নিজেকে পেশ করতে পারলে আশা করা যায় আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর পথে চলাটা সহজ করে দিন। আমিন।

 

লেখক:

উপাধ্যক্ষ (অব.), কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ



এ পাতার আরও খবর

কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ? কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’ ‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
কুষ্টিয়ায় পরিবেশ বান্ধব জিকজাক ইট ভাটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওরা কারা ?
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী তাদের প্রিয় নেত্রী সম্পা মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছে
ঢাকাসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
অবশেষে ‘‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুুর’’ (গড়াই সেতু) টোলে পে-অর্ডারর জাতিয়াতির টাকা ফেরৎ দিল ব্যাংক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মশাল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি
দৌলতপুরে কৃষি, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড
‘একটি গোষ্ঠী ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়’
আবরারের মাও যেন বলতে পারে, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাহবাগে ‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি
আজ বিআরবি কেবল ইন্ড্রাষ্টিজ লিমিটেড এর ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন
মণ্ডপে হামলা : উস্কানিদাতা ইসলামিক বক্তা গ্রেপ্তার
প্রেমিককে স্বামী বানিয়ে প্রবাসীর সম্পদ লিখে নেন সাকুরা
আবারও বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম
তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে সাঈদ খোকনের চ্যালেঞ্জ ইসলাম ত্যাগ করেন, দুই দিনও মন্ত্রী থাকতে পারবেন না
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আপত্তিকর অবস্থা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে যুবকের মৃত্যু
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠিত
চিলাহাটি গার্লস্ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের প্রদায়ন ও নবাগত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত
স্বামী বিদেশে নেওয়ার আগেই রাতের আধারে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন স্ত্রী