ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » হজ সফরের প্রস্তুতি নিবেন যে ভাবে
বুধবার ● ১১ জুলাই ২০১৮
Email this News Print Friendly Version

হজ সফরের প্রস্তুতি নিবেন যে ভাবে

---আমিন মুনশি: চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামি ১৪ জুলাই থেকে। ইতিমধ্যে অনেকেই হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। অনেকে নিচ্ছেন। তাই আসুন, জেনে নেয়া যাক কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন পূণ্যময় হজ সফরের।

১) মানসিক প্রস্তুতিঃ প্রথমে আপনার নিয়ত পরিশুদ্ধ করুন। কেননা নিয়তের ওপরই আমল নির্ভরশীল। হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল’। তাই লোক-দেখানো, হজ করলে সমাজে মান-মর্যাদা বাড়বে, নামের সাথে আলহাজ লেখা যাবে, নির্বাচনি লড়াইয়ে জনতাকে অধিক পরিমাণে প্রভাবিত করা যাবে ইত্যাদি ভাবনা থেকে নিজেকে পবিত্র করুন। এসব মনোবৃত্তিকে ‘রিয়া’ বলা হয়। রিয়া মারাত্মক অন্যায় যাকে হাদিসে ছোট শিরক বলা হয়েছে। ছোট শিরক বুকে ধারণ করে হজ করলে হজ কবুল হবে না কথাটি ভালোভাবে স্মরণ রাখুন। তাই রিয়া থেকে মুক্ত থাকুন ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন তিনি যেন রিয়া-মুক্ত হজ পালনের তাওফিক দান করেন। রাসূলুল্লাহ [সা.] নিজেও এরূপ প্রার্থনা করতেন। এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ [সা.] আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেছেন, হে আল্লাহ! এমন হজের তাওফিক দাও যা হবে রিয়া ও সুনাম কুড়ানোর মানসিকতা হতে মুক্ত।

২) তাওবাহ ও হক আদায়মূলক প্রস্তুতিঃ যে দিন থেকে হজ পালনের নিয়ত করেছেন সেদিন থেকেই মনে করবেন যে আপনার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ইতোপূর্বে যদি আপনি আল্লাহর হক নষ্ট করে থাকেন, সালাত, সিয়াম যাকাত আদায় ইত্যাদির কোনোটিতে অবজ্ঞা-অনীহা-অমনোযোগ দেখিয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসুন। হক্কুল্লাহ বিষয়ে সকল জানা-অজানা গুনাহ-পাপ থেকে মুক্তি কামনা করে আল্লাহর দরবারে আহাজারি করুন। কাঁদুন। মুক্তিকামনা করুন হৃদয় উজাড় করে, আল্লাহ তালার সীমাহীন রহমত ও ক্ষমাশীল হওয়ার কথা খেয়াল রেখে। এখন থেকে হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকারের আওতাভুক্ত প্রতিটি বিষয়ই অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে আদায় করুন। বিগত পাপ-অন্যায়ের জন্য তাওবা করুন।
তাওবার নিয়ম হলঃ ক. সকল প্রকার গুনাহ-পাপ থেকে ফিরে আসা, ও তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা। খ. পূর্বের সকল পাপ-অন্যায়ের প্রতি অনুশোচনা ব্যক্ত করা। গ. এমন অপরাধে ভবিষ্যতে আর কখনো জড়াবেন না এমর্মে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়া। অপরাধ যদি হক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে তাওবার পূর্বে তা মীমাংসা করে নিতে হবে। ক্ষতিপূরণ দিয়ে হোক বা ক্ষমা চেয়ে হোক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে সমঝতায় আসার পর তাওবা করতে হবে। এর অন্যথা হলে তাওবার দ্বারা কোনো ফল পাওয়া যাবে না। মনে রাখবেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে সুরাহা না করলে কিয়ামতের দিন আপনার সমস্ত নেক আমল তার আমল-নামায় লিখে দেয়া হবে। নেক আমলের অনুপস্থিতিতে ওই ব্যক্তির পাপের বোঝা আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হবে। তাই এবিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। হজ করলেও হক্কুল ইবাদ ক্ষমা হয় না, যতক্ষণ না ক্ষতিপূরণ দিয়ে অথবা ক্ষমা চেয়ে ওই ব্যক্তিকে রাজি-খুশি করা হবে। কাউকে আর কোনো দিন অবৈধভাবে কষ্ট দেবেন না, কারও অর্থ-কড়ি বেহালালভাবে কখনো খাবেন না এই প্রতিজ্ঞা করুন। সাথে সাথে যাদের সাথে আপনি অতীতে অসদাচরণ করেছেন বা যাদের অর্থসম্পদ হারামভাবে আপনার দখলে এসেছে তাদের কাছে ক্ষমা চান। তাদের প্রাপ্য-সম্পদ ফিরিয়ে দিন। তাদের ভালো চেয়ে দোয়া করুন। নিজের অন্যায়ের জন্যও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। ইস্তিগফার করুন।

৩) শারীরিক প্রস্তুতিঃ হজের ফ্লাইট শুরু হওয়ার এখনো বেশ বাকি। তাই শারীরিকভাবে যাঁরা অসুস্থ বা সফর করার অযোগ্য রয়েছেন, অতিসত্বর চিকিৎসা গ্রহণ করে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলুন এবং হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে মেনিনজাইটিস টিকা গ্রহণ বা মেডিক্যাল চেক-আপের বিষয়ে এখন থেকেই ভেবে রাখুন। প্রয়োজন বা সুযোগ হলে আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুত গ্রহণ করা ভালো।

৪) স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধক গ্রহণঃ হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ঢাকায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধক নিতে হবে। এ ছাড়া হজের আগে উত্তরা আশকোনা হজ অফিসেও এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা এবং স্বাস্থ্যসনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। হজে যাওয়ার আগে এই স্বাস্থ্যসনদ নিতে হবে। আর ৭০ বছর বা ততোধিক বয়স্ক হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত বোর্ডের বিশেষ স্বাস্থ্যসনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবে বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রত্যেক হজযাত্রীকে স্বাস্থ্যসনদ, পরিচয়পত্র এবং কবজি বেল্ট বহন করতে হয়। এটি বাধ্যতামূলক। তাই হজের আবেদনপত্রে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করা জরুরি।

৫) আর্থিক প্রস্তুতিঃ অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থে হজ করতে গেলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। এ ধরনের ব্যক্তি ‘লাব্বাইক’ বললে আল্লাহ তার লাব্বাইক প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তোমার কোনো লাব্বাইক নেই, তোমার জন্য সৌভাগ্য বার্তাও নেই। তোমার পাথেয় হারাম, তোমার অর্থ-কড়ি হারাম, তোমার হজ গায়ের-মাবরুর, অগ্রহণযোগ্য। সে হিসেবে হজের প্রাথমিক প্রস্তুতিই হবে হালাল রুজি-রোজগারের মাধ্যমে নিজের ও পরিজনের প্রয়োজন মেটানো ও সম্পূর্ণ হালাল রিজিক-সম্পদ থেকে পাই-পাই করে একত্রিত করা। যদি হালাল রিজিক উপার্জন করে হজে যাওয়ার মতো পয়সা জোগাড় করতে না পারেন তবে আপনার ওপর হজ ফরজ হবে না। হজে আপনাকে যেতেই হবে, কথা এ রকম নয়। বরং ঘরসংসারের জরুরি প্রয়োজন মিটিয়ে হজে যাওয়ার খরচা হাতে আসলে তবেই কেবল হজ ফরজ হয়। তাই কখনো হারাম পয়সায় হজ করার পরিকল্পনা করবেন না। যদি এমন হয় যে আপনার সমগ্র সম্পদই হারাম, তাহলে আপনি তাওবা করুন। হারাম পথ বর্জন করে হালাল পথে সম্পদ উপার্জন শুরু করুন। আর কোনো দিন হারাম পথে যাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করুন। এক পর্যায়ে যখন প্রয়োজনীয় হালাল পয়সা জোগাড় হবে কেবল তখনই হজ করার নিয়ত করুন। আপনার কোনো ঋণ থেকে থাকলে হজ করার পূর্বেই তা পরিশোধ করে দিন। তবে আপনি যদি বড়ো ব্যবসায়ী হন, ঋণ করা যার নিত্যদিনের অভ্যাস বা প্রয়োজন, তাহলে আপনার গোটা ঋণের ব্যাপারে একটা আলাদা অসিয়ত নামা তৈরি করুন। আপনার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার যারা হবেন তাদেরকে এ বিষয়ে দায়িত্ব অর্পণ করে যান। ব্যালটি বা ননব্যালটি উভয় ক্ষেত্রে যে পরিমাণ টাকা আপনাকে চার্জ করা হয় তার থেকেও বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা অতিরিক্ত সঙ্গে নেয়ার চেষ্টা করবেন। পারলে আরো বেশি নেবেন। এ পয়সা প্রয়োজনের সময় ব্যয় করাÑ যেমন কোনো ভুলের কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দম ওয়াজিব হয়ে যাওয়াÑব্যতীতও সহযাত্রী হাজিদের আপ্যায়ন করা, অভাবী হাজিদেরকে সাহায্য করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যয় করবেন। এমনকি ক্ষুধা-পিপাসা পেলে কার্পণ্য না করে প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ ইত্যাদির জন্য আপনাকে অতিরিক্ত অর্থ হাতে রাখতে হবে। তাছাড়া আত্মীয় স্বজনদের জন্য হাদিয়া তোহফা ক্রয় করাও আপনার কাছে একটি প্রয়োজন বলে মনে হতে পারে সে জন্যও আপনি অতিরিক্ত পয়সা সঙ্গে নিতে পারেন। পয়সাকড়ি নিরাপদ স্থানে হেফাজত করবেন। কোমরের বেল্টে একসাথে সব পয়সা রাখবেন না। আপনার ব্যাগে অথবাÑবিশ্বস্ত হলেÑ হোটেলের মালিক অথবা মুয়াল্লিমের অফিসে রিসিপ্ট নিয়ে টাকা জমা রাখতে পারেন। মিনা ও আরাফাতেও বেশি টাকা সঙ্গে নিয়ে যাবেন না। কেননা হজের নাম ধরে কেউ কেউ মানুষের ভিড়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায় থাকে। তাদের খপ্পর থেকে পয়সাকড়ি হেফাজত করুন।

৬) পার্সপোর্ট তৈরি করার প্রস্তুতিঃ ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৩৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। হজযাত্রীরা নিজ নিজ জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাসপোর্টের আলাদা শাখা রয়েছে, সেখান থেকেও ওই জেলায় বসবাসকারীরা পাসপোর্ট বানাতে পারবেন।

৭) হজ এজেন্সির সঙ্গে নিজের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি একদম খোলামেলা আলোচনা করে নেয়া উচিতঃ এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ টাকা ছাড়াও আপনার মক্কা-মদিনা আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা সংগ্রহে রাখুন। বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে হজ করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত টাকা সঙ্গে রাখা দরকার, কারণ কখন কী প্রয়োজন হয় তা বলা মুশকিল। যে কোনো বিপদ-আপদ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো প্রয়োজনীয় টাকা সঙ্গে রাখা উচিত। আর এজেন্সির টাকা জমা দেয়ার আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা এজেন্সিগুলো যাচাই করে নিন। যে এজেন্সিগুলো বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে লেনদেন করবেন না।

৮) ব্যবহার্য জিনিসপত্রঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালপত্রের পাশাপাশি একজন হাজিকে হজের সফরে বেশ কিছু অতিরিক্ত মালপত্র সঙ্গে নিতে হয়। তদুপরি উচিত মালপত্র যথাসম্ভব হালকা রাখা। কারণ গোটা সফরে এই বোঝা আপনাকেই বহন করতে হবে। হজ সফরের প্রয়োজনীয় মালপত্রের একটি তালিকা প্রদত্ত হলো। পাসপোর্ট, টিকিট এবং ডলার সংগ্রহ করা, ভিসা এবং টাকা রাখার জন্য গলার সঙ্গে ঝোলানো ব্যাগ, ইহরামের কাপড় (কমপক্ষে দুই জোড়া) আর মহিলাদের জন্য সাদা সালোয়ার-কামিজ এবং বোরকাই যথেষ্ট। ইহরামের সময় কপালে বাঁধার জন্য ক্যাপ এবং কোমরে বাঁধার বেল্ট, স্পঞ্জের স্যান্ডেল বা জুতা এবং জুতা রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, মাথা মু-নের জন্য ব্লেড বা রেজার, মেসওয়াক, ব্রাশ, পেস্ট, টিস্যু, আয়না, চিরুনি, তেল, সাবান, দাঁতের খিলান, বিছানার চাদর, পাম্পিং বালিশ, গায়ে দেওয়ার চাদর, প্লেট, গ্লাস, ছোট হ্যান্ডব্যাগ, বড় ব্যাগ বা লাগেজ, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। পুরুষের এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় লুঙ্গি, গামছা, গেঞ্জি, টুপি, জুতা, মোজা এবং মহিলাদের এক মাসের প্রয়োজনীয় এমন সালোয়ার, কামিজ, ওড়না, শাড়ি, ব্লাউজ, বোরকা, স্যান্ডেল, প্রয়োজনীয় দোয়ার কিতাব বা বই এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য টাকা, কাগজপত্র হেফাজতের জন্য হাজিব্যাগ ও যাবতীয় মালপত্র রাখার জন্য একটি বড় ব্যাগ বা লাগেজ। শুদ্ধ এবং নিয়ম মোতাবেক হজব্রত পালন হোক আপনার অঙ্গীকার।

৯) সঙ্গী বা ভালো মুয়াল্লিম নিবার্চনঃ হজের সফরের সঙ্গী নির্বাচনে আপনাকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার পরিবেশ আপনার অপরিচিত-অচেনা, অনেকে হজের হুকুম-আহকাম সম্পর্কেও তেমন অবগত নন, কোথায়-কখন কী করতে হবে তাও ভালো করে জানেন না। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য একজন অভিজ্ঞ এবং আলেম হজ গাইড বা মুয়াল্লিমের সঙ্গে হজে গেলে সুবিধা পাবেন। তাছাড়া সঙ্গী হিসেবে আত্মীয়স্বজন কিংবা পূর্ব পরিচিত বিশ্বস্ত লোক হলে অনাকাক্ষিত অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন।

১০) হজ-বিজ্ঞ আলেম খুঁজে নিনঃ সবচেয়ে বড় কথা হল হজ শুধু সৌদি আরব যাওয়া আর আসার নাম নয়, হজ ইসলামের ৫টি মৌলিক স্তম্ভের একটি অন্যতম স্তম্ভ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজে যাওয়ার আগে সর্বপ্রথম ইসলামী শরিয়তে হজ সম্পর্কে যেসব জরুরি মাসআলা-মাসায়েল রয়েছে তা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে এবং অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে প্রতিটি আবশ্যক কাজ আদায় করতে হবে, অন্যথায় সব অর্থ-শ্রম বৃথা যাবে। এর জন্য এখন থেকেই কোনো বিজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় বিষয় আত্মস্থ করে রাখা অধিক জরুরি।

১১) নারীর হজ প্রস্তুতিঃ হজ ও ওমরা পালনের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর প্রায়ই একই রকম নিয়ম। তবে কোনো কোনো বিষয়ে কিছুটা পার্থক্য আছে। যা নিম্নরূপ- প্রথমেই মহিলা হজযাত্রীর সঙ্গে একজন মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে সৌদি সরকার আইন করেছে, একবার হজ করলে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার হজ করা যাবে না, তবে মহিলাদের মাহরাম বা গাইড হয়ে যেতে চাইলে যে কোনো পুরুষ প্রতি বছরও যেতে পারবে। ইহরাম বাঁধার সময় সেলাই করা কাপড় অর্থাৎ সালোয়ার-কামিজ ও যে কোনো জুতা পরতে পারবে। চেহারা খোলা রাখবে। তবে মাথা ঢেকে রাখতে হবে। তালবিয়া ও অন্যান্য দোয়া-দরুদ উচ্চৈঃস্বরে পড়া যাবে না। তাওয়াফে রমল করা, ইজতেবা করা, সায়িতে সবুজ দুই খুঁটির মাঝখানে পুরুষদের ন্যায় দৌড় দেয়া যাবে না। সায়ি শেষে চুলের মাথা থেকে আঙ্গুলের পুরা এক গিরা পরিমাণ নিচে অথবা মাহরাম দ্বারা কেটে নেবে। পর্দা রক্ষা করে যথাসম্ভব পুরুষ এড়িয়ে চলে হজ ও ওমরা কাজ শেষ করতে হবে। তাওয়াফরত অবস্থায় নামাজের সময় হয়ে গেলে নামাজ সেরে নিতে হবে। যেখানে তাওয়াফ শেষ হবে সেখান থেকে নামাজের পর ফের শুরু করতে হবে। নামাজের জন্য মহিলাদের আলাদা বসতে বলা হয়; কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনেক মহিলা বাড়াবাড়ি করেন। আলাদা বসতে চান না। আবার অনেক সময় দেখা যায় একত্রে বসে অনেকে গল্প শুরু করে দেন। এটাও ঠিক নয়। যত সময় হেরেমে থাকা হবে, তত সময় ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। হেরেমের চারপাশে মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা আছে, যা ব্যবহার করতে হবে। মাসিকের সময় তাওয়াফ করা যাবে না। এহরাম বাধার পর মাসিক শুরু হলে নামাজ, তাওয়াফ ও সায়ি কোনোটাই করা যাবে না। পবিত্র হলে গোসল করে ওমরাহ শেষ করতে হবে। হজের সফরে বেরিয়ে মিকাতে পৌঁছার আগেই যদি মাসিক শুরু হয়, তাহলে মিকাতে পৌঁছে এহরাম বেঁধে নেবে। নামাজ, তাওয়াফ ও সায়ি ছাড়া হজের সব কাজ করতে পারবেন। পবিত্র হয়ে তাওয়াফ ও সায়ি করতে হবে। তাওয়াফ শুরুর আগে একটি স্থান নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে। মোবাইলে মাহরাম ও মোয়াল্লিমের নাম্বার সেভ করে রাখতে হবে। তাওয়াফরত অবস্থায় হারিয়ে গেলে মাহরামকে খোঁজাখুঁজি না করে তাওয়াফে সায়ি শেষ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফোনে খোঁজ করতে হবে।


হল-মার্ক চেয়ারম্যানের ৩ বছর কারাদণ্ড

১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
পঞ্চগড়ে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় ছাত্রীর আত্মহত্যা
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা ‘সেই ওসি’কে স্ট্যান্ড রিলিজ!
আপত্তিকর অবস্থায় গায়িকাসহ গ্রেপ্তার গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা
ঘরে মেডিকেল ছাত্রীসহ মায়ের গলাকাটা লাশ, বারান্দায় ঝুলছে বাবা
যশোরে ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধে হত্যা
স্বামীকে তালাক দিয়ে এসে দেখেন পরকীয়া প্রেমিক উধাও!
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল
আকাশে দুই বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সবাই নিহত
৫৫ কলেজে পাস করেনি কেউ
গোপালগঞ্জে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এবারও শতভাগ পাস
গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
সোনাপুর যুব সংঘ এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
পঞ্চগড়ে বিজিবির ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে জুডো প্রতিযোগিতা
শিক্ষার কি হাল হকিকত !
কক্সবাজারে র‌্যাব-বিজিবির ‘বন্দুকযুদ্ধ’, নিহত ২
নবীনগরে তথ্যমন্ত্রীর সভা প্রতিহতে অনড় আওয়ামী লীগ
আত্মহত্যা করলেন তামিল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা
এইচএসসির ফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর