Home  » অর্থনৈতিক

কৈলাশটিলার ৪নং কূপ থেকে উৎপাদন শুরু

Posted-শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বার, ২০১২ Time-৮:৫০ am ◊ বাংলা- ৩০ ভাদ্র ১৪১৯ সাল । বিভাগ-অর্থনৈতিক  

বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৪নং কূপে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল বিকাল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করেছে সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেড-এসজিএফএল। উৎপাদিত গ্যাস গতকাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। এসজিএফ সূত্র জানিয়েছে, এই গ্যাসকূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা কথা। কিন্তু গতকাল উৎপাদনের প্রথম দিনে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আজ কিংবা কালকের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের কৈশালটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৪নং কূপের আবিষ্কার করা হয় ১৯৯৬ সালে। তখন ওই কূপের একেবারে নিচের স্তরে অনুসন্ধান চালিয়ে গ্যাস পাওয়া যায়। তখন ওই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। পরে ওই কূপে এক সময় গ্যাসের চাপ কমতে থাকে এবং পানি আসা শুরু হয়। এতে করে কূপটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ২০০৫ সালের দিকে আবার এই গ্যাস কূপে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করে বাপেক্স। তখন মধ্যস্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে ফের খনন করে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। ২০১১ সালের দিকে এই গ্যাস কূপে আবারও গ্যাসের চাপ কমে আসে এবং পানি আসতে শুরু করে। এতে করে ফের এই কূপ থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শুরুতে সিলেট অঞ্চলে গ্যাসে ত্রি-মাত্রার জরিপ চালানো হয়। ওই জরিপকালে কৈলাশটিলার ৪নং কূপে নতুন গ্যাস স্থির (লেয়ার) পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তখন কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হাল ছাড়েননি কৈলাশটিলার স্বত্ব প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের কর্মকর্তারা। ত্রি-মাত্রার জরিপের ওপর ভিত্তি করে গত মে মাসে এই কূপের নতুন করে কাজের অনুমতি দেয়া হয়। এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকেই নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। মে মাসের শেষের দিকে বাপেক্স কর্মকর্তারা ৪নং কূপের দায়িত্ব নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। খননকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স কর্মকর্তা তোফায়েল আহমদ গতকাল জানিয়েছেন, গ্যাস উৎপাদনে যেতে সময় লাগে প্রায় ২৩ দিন। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করার যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। গতকাল সকাল ১০টায় চূড়ান্ত হলে কূপটি এসজিএফএলর কর্মকর্তাদের কাছে সমঝে দেয়া হয়।  কৈলাশটিলার ৪নং গ্যাস কূপের প্রজেক্ট ম্যানেজার রওনকুল ইসলাম জানান, কৈলাশটিলায় ওই লেয়ারে অন্য কূপে কোথাও গ্যাস পাওয়া যায়নি। একমাত্র এই কূপে পাওয়া গেলো। আর এই কূপ থেকে অবশেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং ও উন্নয়ন) খাজা আহমদ গতকাল জানান, সকালে কাজ শেষ হওয়ার পর বাপেক্স কূপটি আমাদের কাছে সমঝে দেয়। এরপর বিকালে সোয়া ৩টার দিকে জাতীয় গ্রিডে সংযোগ দেয়া হয়। তিনি বলেন, প্রথমে সংযোগের প্রথম দিন ১১ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে, গ্যাসের ওপর ভাসছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ। একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদন শুরু হলেও এখনও গ্যাস পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কারণে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে তাদের খুশি হওয়ার কথা থাকলেও তারা ছিলেন ক্ষুব্ধ। গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল আহাদ গতকাল জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ গ্যাসের ওপর ভাসলেও এখনও গ্যাস পায়নি গোলাপগঞ্জবাসী। এ কারণে বার বার গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলেও এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে কোন আনন্দ নেই।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!