গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন: চাচা-ভাইঝির মধ্যে হবে তুমুল লড়াই
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,গাজীপুর : শেষ পর্যন্ত লড়াই হচ্ছে চাচা ও ভাইঝির মধ্যেই। গতকাল বাছাইয়ের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে তাজউদ্দীন কন্যা আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি, স্বতন্ত্র প্রার্থী রিমির চাচা তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আফছার উদ্দিন আহমেদ খান, গাজীপুর জেলার কমিউনিস্ট পাটির সাধারণ সম্পাদক দলীয় প্রার্থী এডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং অফিসার। বাকি ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার মিহির সরোয়ার মোর্শেদ। প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৪ই সেপ্টেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ৩০শে সেপ্টেম্বর রোববার।
গতকাল সকাল ১০টার সময় প্রার্থী, তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীগণের উপস্থিতিতে ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুরে উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকার আঞ্চলিক কর্মকর্তা মিহির সরোয়ার মোর্শেদ ও সহকারী রির্টানিং অফিসার ও গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান মনোনয়ন পত্র বাছাই করেন। বাতিলকৃত প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিএনপির কর আইনজীবী সমিতির মহাসচিব এডভোকেট বজলুল হক এবং তার ছেলে গণফ্রন্টের প্রার্থী মো. সারোয়ার, কালিয়াকৈর উপজেলার অধিবাসী মীর এনায়েত হোসেন ও খুলনা এলাকার বেগম হাফিজা জামাল। তারা অবশ্য তিন দিনের মধ্যে কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। রিমির পক্ষে তার প্রস্তাব-সমর্থনকারী মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেণু, আবদুল কবির মাস্টার, আজগর রশিদ খান, আবদুর রশিদ সরকার, আমানত হোসেন খান, আনিসুর রহমান আরিফ, একেএম আলমগীর হোসেন আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমেদ খানের সঙ্গে ছিলেন তার প্রস্তাব-সমর্থনকারী এডভোকেট সারোয়ার-ই-কায়েনাত, নূরুল ইসলাম, কাজী সিরাজুল ইসলাম, দুলাল দাস ও ছেলে মোক্তাদির আহমেদ খান।
এডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রস্তাব-সমর্থনকারী মতিউর রহমান, মনজুরুল হক, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল্লাহ ও উপনির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আলতাফ হোসেন।
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা জানান, ক্রেডিট কার্ডের সমস্যা ও আমাকে সমর্থনকারী ৬ জন ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক নেই দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসার আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আজ বৃহস্পতিবার আদালতে আপিল করবো।
এডভোকেট বজলুল হক জানান, মোট ভোটারের এক ভাগ ভোটারের সমর্থনের মধ্যে একজন ভোটারের সমর্থন সঠিক নেই দেখিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো তার ছেলে মো. সারোয়ার জানান, ভোটার তালিকা ও শিক্ষা সনদে নামের গরমিল থাকায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমিও আজ আপিল করবো।
গত সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১ জন, সিপিবির ১ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
গাজীপুর-৪(কাপাসিয়া) আসনে ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৮ শ’ ৮৪, পুরুষ ভোটার ১ এক লাখ ৩ শত ৯৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪ শত ৮৯ জন। সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০২টি, ভোট কক্ষ ৪৭২টি।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ১৯৯১ সালে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোটে বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। এডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমেদ খান ১৯৯৬ সালে প্রায় ৯ হাজার ভোটে আ স ম হান্নান শাহকে পরাজিত করেছিলেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ পেয়েছিলেন ৮০ হাজার ৬৭৫ ভোট, হান্নান পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ৮২ ভোট। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ পেয়েছিরেন ১ লাখ ১০ হাজার ৬শ’ ৮২ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী এমএ মজিদ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৪৬৬ ভোট।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী