Home  » অর্থনৈতিক

ইলিশের স্বাদ-ইলিশের বিস্বাদ

Posted-রবিবার, ১৯ অগাষ্ট, ২০১২ Time-৪:০৮ am ◊ বাংলা- ৪ ভাদ্র ১৪১৯ সাল । বিভাগ-অর্থনৈতিক  

:  গৌতম কুমার রায় :

আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে ক্রমে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে আঁচার-আঁচরণের প্রথাগত বিভিন্ন উপকরণ। পরিবেশের রূঢ় বাসত্মবতায় মানুষের কারণে এখন আমাদের সম্পদের উপরে ব্যবহারিক ও ভোগগত চাপের কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের উৎপাদন ক্রিয়া সংকুচিত হতে হতে সে উপকরণ হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য থেকে। এক কালে বর্ষা মৌসুমে ইলিশের কারণে দেশের বিসত্মর জেলে পলি­তে যে আনন্দধারা বয়ে আনতো, সেই পলি­তে ইলিশের অভাব এখন নিগুঢ় নীরবতা, দৈন্যতা আর এখানে বইছে চাপা কান্নার হা-পিতেশ। ইলশের স্বভাবগত পরিবর্তনের কারণে তা থেকে বঞ্চিত এখন আমাদের কৃষি, জনস্বাস্থ্য এমনকি এক কথায় দেশের অর্থনীতি। গহীন সমুদ্রে জেলেদের মাছ ধরতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসাটা এবারে যেন স্বাভাবিক কোন ঘটনা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী বিশেষ করে ভারতীয় জেলেদের অত্যাচার এবং নিগৃহীত করার ঘটনা। একটা সূত্র বলছে বরগোনা জেলার কচিখালি এবং এখান থেকে পশ্চিমে আরো গহীনে গেলে ইলিশ মাছের দেখা মেলে তবে ঐ এলাকা ভারতের জেলেদের দখলে। জলসীমাটা আমাদের হলেও ভারতীয়রা অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরাতে বাংলাদেশী জেলেরা সেখানে যেতেই পারে না।আমাদের পরিবেশের বৈচিত্র্যগত পরিবর্তনের কারণে জীবনধারায় এসেছে আমুল পরিবর্তন। কৃষিনির্ভর দেশে কৃষির উৎপাদিত খাতে বেড়েছে ঝুঁকি। রিসোর্স গুলো কমতে কমতে শূন্যতার দিকে এগুচ্ছে। মানুষ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত সম্পদের উপরে যে ভোগের প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তাতে প্রাকৃতিক সম্পদকে টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ইলিশ উৎপাদন, প্রজনন, ব্যাবহারে যে পরিবর্তন এসেছে তার কারণে জেলে থেকে ভোক্তা অব্দি সকলে বিরূপ সমস্যাকে উপভোগ করছে। যেখানে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র ছিল, যেখানে এই মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ছিল সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতি বছরে গঙ্গা অববাহিকার চ্যানেলে আমাদের পদ্মা নদী, মেঘনা সহ সকল সাগর মুখী জল প্রবাহের চ্যানেলে প্রায় ২৫০ কোটি মে.টন পলি বয়ে আসে। এই পলি জলধারার তীব্রতা না থাকায় সমসত্ম পথে থিতিয়ে থিতিয়ে নদী এ্বং মোহনার তল সত্মর ভড়াট করে দিয়েছে।  এভাবে জলধারায় জমেছে ডুবোচর। যে কারনে ইলিশের সোজা মুখি ঝাঁক বেঁধে চলার বৈশিষ্ঠ্যে ডুবো চরের কারণে বাঁধা ও পরিবর্তন ঘটায় মাছের বিচরণগত অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দেশের খড়া,তাপদাহ, বন্যা সিডর, আইলা, নার্গিস,জলচ্ছ্বাস,সাইক্লোন প্রভৃতির জন্যে পরিবেশ এবং মানুষের অবস্থানগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ক্ষতি হয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের এবং স্বাভাবিকতার বিচ্যুতিতে উৎপাদনগত পরিবর্তন এসেছে বিশেষ করে কৃষিতে। বর্ষা মৌসুমে বয়ে আসা জলের সাথে ভেষে আসে কৃষি জমির ব্যবহৃত কীটনাশক। সাম্প্রতিক সময়ে জলাভূমি খেকোদের কারণে দখল হচ্ছে নদী, নদীতে গড়ে উঠছে বাঁধ ও পাকা অবকাঠামো। যে কারণে জলস্রোত এবং প্রজননের অভয়াশ্রম বিনষ্ট হওয়ায় ইলিশের বিচরণ বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। কমেছে এই মাছের উৎপাদন। এক সময়ে বাঙ্গালী আশ্বিন- কার্তিক মাসে দূর্গা পূজোর সময় হতে মাঘ-ফাল্গুন মাসে শ্রী পঞ্চমী বা সরস্বতী পূজোর দিন পর্যমত্ম ইলিশ আহার এবং বিশেষ করে প্রজনন মৌসুম বা জলজ মাছের প্রজনন সুবিধার্থে বৈশাখ মাসে মাচাহার থেকে নিবৃত থাকতো। যে কারণে বাঙ্গালীর আঁচার, সুনাম, শক্তি, শরীর এবং মন ভাল থাকতো মাছ ও ইলিশ বিশেষের ব্যবহারগত কারণে। এছাড়াও আমাদের অতীত ঐতিহ্য, সাহিত্য-সাংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যে মাছের উৎপাদন, বহন, গ্রহণ ও ভক্ষণ কে নিয়ে রয়েছে অনেক উপাচার এবং উলে­খযোগ্য ধ্যান ধারণা। অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি মানবদেহের প্রয়োজনে ইলিশের অবদান বিশেশ­ষন করলে দেখা যায়, শরীরের পুষ্টি রক্ষা এবং বৃদ্ধি সাধনে ইলিশের প্রয়োজন অপরিসীম। কেননা প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ .১৮ গ্রাম, ফসফরাস .২৮ গ্রাম, লৌহ ২১৩ মি:গ্রাম পাওয়া যায়। এছাড়া এই মাছের মাংশে খাদ্য উপাদানে রয়েছে অ্যাস ২.২ শতকরা, জল ৫৩.৭ শতকরা, বডি ফ্যাট ১৯.৪ শতকরা এবং প্রোটিন ২১.৮ শতকরা বিদ্যমান থাকে। ইলিশ মাছে মানব দেহের অতি প্রয়োজনের ৯ ধরণের এ্যমাইনো এসিড অনেক পরিমাণ পাওয়া যায়। যা আমাদের পাকস্থলী উৎপাদন করতে পারে না। যে জন্য ইলিশ স্বাদ ও মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বিশেষ করে বাঙ্গালির কাছে এত প্রিয়।ইলিশ মাছের চর্বিতে প্রায় ৫০ শতকরা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এ্যসিড পাওয়া যায়।এই এ্যসিডের প্রায় ২ শতকরা মেগা-৩ ফ্যাটি এ্যসিড। যা কিনা মানব দেহের রক্তের কোলস্টোরেল মাত্রা হ্রাস করে এবং এতে হৃদরোগ ঝুঁকি কমে।

আমাদের দেশের ৪০ জেলার প্রায় ১৪৫ উপজেলার ১৫০০ উইনিয়নের প্রায় ৫ লাখ জেলে সার্বক্ষণিক ও খন্ডকালীন সময় হলেও ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রয়, বহন, সংরক্ষণসহ নানান কাজে নিজেদেরকে জড়িত রাখে।যে কারণে দেশের মাছ উৎপাদনে শুধু ইলিশের অবদান প্রায় ১৩ শতকরা।জিডিপি তে এই মাছের অবদান প্রায় ১ শতকরা। আমাদের দেশ থেকে ভারত এবং অন্যান্য দেশে বছরে প্রায় ৮০০০ মে.টন ইলিশ রপ্তানী করে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েয়েছিল।

দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেল ২০১১-২০১২ অর্থ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৩.৪ লাখ টন। আর চলতি বছরের মে পর্যমত্ম ইলিশ রপ্তানী হয়েছে ৬১৭৩ টন। প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয় উৎপাদনের পরে অমত্মত: ৩.৩ লাখ টন মাছ দেশের অভ্যামত্মরে থাকার কথা। আর যদি তাই  থাকবে তবে ইলিশের আকাল হওয়ার কারণ কি? আবার সরকারকে ইলিশের রপ্তানীর উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইলিশের সরবরাহ নিজ বাজারে বাড়াতে হবে কেন? এক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সূত্র নিশ্চিত করেছে সরকারী রপ্তানীর আড়ালে ৩/৪ গুণ বেশী ইলিশ সাদা মাছ সরবরাহের আড়ালে পাচার করা হচ্ছে। পাচারের রুট হিসেবে গভীর সাগরের নৌপথ, যশোরের বেনাপোল, সিলেটের দু-একটা সীমামত্ম সড়ক এবং ব্রাম্মণবাড়ীয়ার আখাউড়া রুটে অর্থাৎ এই নৌ ও সড়ক উভয় পথেই পাচার হচ্ছে ইলিশ।

মৎস্য সম্পদ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোডেকের বরিশালের আঞ্চলিক গবেষক হারুন অর রশিদ

বলছেন, উপকূলীয় এলাকায় বড় বড় ঘূর্ণীঝড়েরর কারণে এলাকার সামগ্রীক পরিবেশ এবং

প্রতিবেশে একটা পরিবর্তন এসেছে। এলাকাভিত্তিক জলের লবনাক্ততা বেশি হওয়াতে এলাকায় যে

ইলিশের প্রাপ্যতা ছিল তা গতিপথের পরিবর্তন করেছে। আবার ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমের

সময়গত পরিবর্তন ঘটেছে। সময়মত বৃষ্টির অভাব, উপকুলীয় অঞ্চলে লবনাক্ততার কারনে

আমাদের চিহ্নিত এবং নির্দিষ্ট ইলিশ এলাকায় এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।তবে আশা করাটা

স্বাভাবিক যে দেশে যদি বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় তবে আবার ইলিশের দেখা মিলবে। এ

প্রসঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড.

সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন জলবায়ুর পরিবর্তনে পানিতে  পলির পরিমান বৃদ্ধি,

তাপমাত্রার আদিখ্যেতা ও সাগরের ডুবোচরের কারণে সমসত্ম জলজ প্রাণী আজ হুমকির মধ্যে। যে

কারণে ইলিশ প্রজননে মিষ্টি জলে আসতে না পাড়াতে প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে । আর এই কারণে

ইলিশ না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।দৈনিক সমকাল পত্রিকা সূত্র বলছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় বড় বাইশদিয়া,রাঙ্গাবিলা, গঙ্গামতি সংলগ্ন নদীর মোহনাতে, কুয়াকাটা ও বেহুলার চর থেকে গহীন সমুদ্র পর্যমত্ম বিশাল ডুবোচর পড়েছে। কয়েক বছর আগেও এসব এলাকাতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তো। অথচ এসকল এলাকা এখন ইলিশ শূন্য।

আমাদের দেশের ইলিশের চাহিদা রয়েছে এমন দেশের সংখ্যা অনেক। তবে এখন এদেশ হতে বছরে প্রায় ৮ হাজার মে.টন ইলিশ ভারতে এবং ১ হাজার মে.টন এর কাছাকাছি ইলিশ ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এমনকি যুক্তরাজ্য, মালোয়েশিয়া, কানাডা রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে আমরা ভারতে ইলিশ রপ্তানি করি বটে, ঐ দেশ হতে আমরা আমদানি করি রুই জাতীয় মাছ। ইলিশ যে মূল্যর বিনিময়ে বিক্রয় করা হয় তার থেকেও বেশী দামে এদেশে আমরাই ক্রয় করে থাকি।এছাড়া ওদের দেশ থেকে আনা মাছের গুণগত মান সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অটুট নয়। তার পরেও আমরা ভাল দ্রব্য কম দামে দিয়ে খারাপ পণ্য বেশী দামে কিনে থাকি।অর্থাৎ এই কেনা বেচার মাঝখানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আদৌ সাশ্রয় হচ্ছে কিনা তা ভালো করে খতিয়ে দেখা দরকার। কেননা সরকার নিদ্ধারিত রপ্তানী মূল্য দেখলে স্পষ্টত দৃশ্যমান ৬ শত গ্রাম থেকে এক কিলোগ্রমের ইলিশের রপ্তানী দাম ধরা হয়েছে ৬ ডলার প্রতি কেজি বা ৪৯২ টাকায়। ১-১.৫ কিলোগ্রামের ক্ষেত্রে দাম ধরেছে ৮ ডলার প্রতি কেজি বা ৬৫৬ টাকা। ১.৫ কিলোগ্রামের উপরের ইলিশের রপ্তানী দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার প্রতি কেজি বা ৯৮৪ টাকা। অথচ আমাদের দেশের বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ১.৫ কিলোগ্রামের উপরে ইলিশের প্রতি কেজির মূল্য ১২ শত থেকে ১৪ শত টাকা চলমান।ইলিশের বাজার যদি দেশেই ভাল পাওয়া যায় তবে রপ্তানী করে আর্থিক ক্ষতির কোন প্রয়োজন আছে কি ? তবে বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এই মাছের উচ্চ মূল্যের বাজার রয়েছে। যে বাজার পুরোপুরি ধরা গেলে আমরা অনেক লাভবান হবো।সে ক্ষেত্রে রপ্তানী মূল্য পুননির্দ্ধারণ করা দরকার।

আমাদের দেশে যে ভাবে মানুষ বাড়ছে তাতে তাদের আবাস তৈরী করতে গিয়ে ধংশ হয়েছে কৃষিজ রিসোর্স। আবার বিশাল মানুষের পয়:নিষ্কাশন নদীতে ফেলা হচ্ছেই। শিল্প বর্জ্য নদীতে দেওয়াতে নদীর জল দূষিত হচ্ছে। বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহারে বৃষ্টি ও বন্যার জলে তা ভেসে  এসে নদীতে মিশে যায়। আর এ সকল কারণে মাছের আবাসস্থল যেমন ধংশ হয়েছে আবার পলি জমার ক্রমাগত কারণে তা বসবাস অনুপযোগী হওয়ায় মাছ ও জলজ প্রাণী সরে গেছে অন্যত্র।

এদেশের ইলিশ সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে হলে ফারাক্কা বাঁধসহ অন্যান্য বাঁধের কারনে পলি ভড়াট ও নব্যতা হারিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে পানির স্বাভাবিত চ্যানেলে ফিরিয়ে আনতে হবে। যে কারনে গড়াই, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, কর্নফুলি, ধলেশ্বরী, কালীনদী কুমার, নবগঙ্গা, চিত্রা এ সকল নদী সহ অন্যান্য নদীগুলোকে আবার পানি প্রবাহের ধারায় ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং করতে হবে যাতে নদীর তল গভীরতা সৃষ্টি হয়। নদীগুলোতে বাঁধ অপসারণ ও নদী খেকোদের হাত হতে নদী রক্ষা করতে হবে। বর্জ্য শোধন ও নদী দূষণের হাত হতে নদীকে সুরক্ষা করতে হবে। নদীর উজানে বা উত্তরমুখে ব্যাপক বৃক্ষরোপন করতে হবে। কৃষি জমিতে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাধ্যগত করা গেলে কীটনাশকের হাত হতে নদীর জল ও তার প্রাণীকুলকে রেহায় দেওয়া যায়। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ করা আবশ্যক, পরিবেশ নির্ভর বৃষ্টি ও প্রজনন মৌসুম নির্ণয় করে ডিম ওয়ালা মাছ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তার আগে ইলিশের জন্য প্রয়োজন তার আবাসস্থল, পরিবেশগত সক্ষম ও সংরক্ষণ কাঠামো তৈরী করা। যে কারণে ইলিশ আমাদের নদী ও মোহনা ছেড়েছে সেই পরিবেশসম্মত উপযোগী স্থল সৃষ্টি করতে হবে। যাতে আবারো জেলে পলি­তে জেগে ওঠে কোলাহল, আনন্দ ও সৃষ্টি সুখের উন্মাদনা। আমরা জানি শুধুমাত্র আবাসস্থল সৃষ্টি করে জাটকাকে সংরক্ষণ করা গেলে আমাদের মাছের চাহিদা মিটিয়েও আরো তা রপ্তানী করে বৈদেশিক অর্থ ঘরে আনা সম্ভব। একাজগুলো বাসত্মবায়নে প্রয়োজন সচেতনতা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আইন ও প্রথা মেনে চলার সামষ্টিক শপথ।

গৌতম কুমার রায়

গবেষক, উদ্ভাবক (জৈব বালাই নাশক),

পরিবেশ ব্যক্তিত্ব ও পদক বিজয়ী প্রাবন্ধিক

২৭/২৫ ঢাকা রোড, চৌড়হাঁস, কুষ্টিয়া-৭০০০।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!