Home  » দুর্যোগ-দুর্ঘটনা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের কাফেলা : রেলযাত্রীদের কষ্টের সীমা নেই, লঞ্চের ছাদে যাত্রী, বাসের শিডিউল বিপর্যয়

Posted-বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাষ্ট, ২০১২ Time-২:০৮ am ◊ বাংলা- ১ ভাদ্র ১৪১৯ সাল । বিভাগ-দুর্যোগ-দুর্ঘটনা  

বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম : পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৩-৪ দিন বাকি। ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে উপভোগ করতে বাড়ি ছুটছেন মানুষ। ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল, ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট), কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদযাত্রীর ঢল নামে। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে টার্মিনালগুলো যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে সবাই ব্যাকুল। তবে স্বস্তিতে পথ চলার উপায় নেই। গণপরিবহনের স্টেশনগুলোতে পকেটমার, অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী এবং ভবঘুরেদের তত্পরতায় তটস্থ যাত্রীরা। একটু বেখেয়ালি হলেই হারাতে হচ্ছে ব্যাগ, লাগেজ, মানিব্যাগ ও মোবাইল। পাশাপাশি বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের বসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ছুটছেন গন্তব্যে। গতকাল রাজধানীর বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশন ঘুরে মানুষের এসব কষ্টের চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাঁধে-হাতে ব্যাগ, লাগেজসহ গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটছেন মানুষ। কোনোদিকে তাকানোর ফুরসত নেই এসব যাত্রীর। আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে সমর্থরা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে পারলেও বিপাকে পড়েছেন টিকিটবিহীন যাত্রী। গতকালও তাদের টিকিটের সন্ধানে ছুটতে দেখা গেছে। কেউ কেউ কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। বেশিরভাগ মানুষ টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। আইন-কানুন উপেক্ষা করে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে অমানবিকভাবে বহন করা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। জীবনের ঝুঁকি জেনেও যাচ্ছেন যাত্রীরা। গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারি করায় এক রেল কর্মচারীকে বরখাস্তসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এদিকে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না যাত্রীদের। যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পথে পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। গতকাল সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় একজনের পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কিছু সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের পাশাপাশি বাসেরও ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিটি বাস আধঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়েছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে গতকাল বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা কল্যাণপুরে একটি বাস কোম্পানির কাউন্টার ভাংচুর করে। এছাড়া ঢাকাগামী ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস রাজশাহীর চারঘাটে হলিদাগাছি স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। এতে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পাড়ের যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। রাজধানীতে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি ভাড়া ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব যেতে নারাজ। পাশাপাশি রয়েছে তীব্র যানজট। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটারের বেশি যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে আটকা পড়েন যাত্রীরা।
রেলযাত্রীদের কষ্টের সীমা নেই : সড়কপথের যানজট ও সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের বেশি পছন্দ ট্রেন। আগাম টিকিট সংগ্রহকারী পাশাপাশি টিকিট না পাওয়া যাত্রীরা গতকাল সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় জমান। কিন্তু শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা টার্মিনালে অপেক্ষা করেন তারা। কমলাপুর রেলস্টেশনে বসার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় টার্মিনালের ফ্লোরে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা গেছে। ট্রেন এলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। দরজা ও জানালা দিয়ে উঠছেন তারা। এমনকি ভিড়ের মধ্যে উঠতে না পারা নারীদের হাত দিয়ে ঠেলে ট্রেনের জানাল দিয়ে উঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী আলমগীর হোসেন জানান, চট্টলা এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল পৌনে ১১টায়, কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও চট্টলা ঢাকা এসে পৌঁছেনি। শফিকুর রহমান নামের চট্টগ্রামগামী অপর এক যাত্রী জানান, কমলাপুর স্টেশনের প্রশাসন চট্টগ্রামের লাইনের সমস্যার কথা বলে যাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে। অথচ সকালের দিকে মহানগর প্রভাতী ও কর্ণফুলী এক্সেপ্রেস চট্টগ্রাম উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। যদি লাইন খারাপ হতো তাহলে এসব ট্রেন কীভাবে গেল। এ ব্যাপারে কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১৯টি ট্রেন বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে চট্টগ্রামের লাইনে সমস্যা থাকায় চট্টলা এক্সেপ্রেসটি আসতে দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কমলাপুর থেকে সব ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া হচ্ছে। এবার ছাদে কোনো যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কমলাপুর থেকে প্রতিটির ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠতে দেখা গেছে। গতকাল বিকালে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর লাইনচ্যুত হয়েছে পদ্মা এক্সপ্রেস। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে গতকাল বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তা লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়।
প্রশাসনের উপস্থিতিতে লঞ্চের ছাদে যাত্রী বহন, একজনের মৃত্যু : ঈদে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো ও ছাদে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে সদরঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন। কিন্তু প্রশাসনের এসব কর্মকর্তার সামনেই গতকাল ছাদে ভরপুর যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে লঞ্চ। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে সালেহ আহম্মদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা জানান, ওই বৃদ্ধ হাতিয়াগামী লঞ্চ পানামার পাশের বাড়তি অংশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় এমভি টিপু-৩ নামের অপর একটি লঞ্চ পানামাকে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের চাপায় পড়েন বৃদ্ধ। এতে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে মারা যান তিনি। লঞ্চ মালিক সমিতির সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারি মৃত্যুর বিষয়টি আমার দেশ-কে নিশ্চিত করেছেন। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র বন্দর সদরঘাট। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল, লঞ্চের ছাদে যাত্রী বহনের পুরনো সেই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সদরঘাটে সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত লঞ্চে হুমড়ি খেয়ে উঠছেন। প্রতিটি লঞ্চের ছাদে যাত্রী উঠতে দেখা গেছে। কেবিনের যাত্রী বাদে সবাই পাটাতনে বিছানা পেতে নিজের আসন করেছেন। পাটাতনে যাদের স্থান হয়নি, তারা লঞ্চের ছাদ ও দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন। এসব যাত্রীর মধ্যে অনেক বৃদ্ধ, নারী ও শিশু রয়েছে। দিনে প্রচণ্ড রোদ থাকায় যাত্রীরা বিছানার চাদর, শাড়ি ও কাঁথা টানিয়ে রোদ থেকে নিজেদের রক্ষার ব্যবস্থা করছেন। গতকাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হুলারহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি শুভরাজ-২ লঞ্চ। এ লঞ্চের ভেতর ও পুরো ছাদে ছিল ভরপুর যাত্রী। বরগুনার আমতলীগামী লঞ্চ সৈকত ৮-এরও একই অবস্থা। এছাড়া ভোলাগামী শ্রীনগর-৩, কর্ণফুলী-৪ ও এমভি ভোলা, পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-৫, সন্দ্বীপের হাতিয়াগামী পানামাসহ অন্যান্য লঞ্চে যাত্রী টইটুম্বর। যাত্রীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ যাত্রী কেবিনের টিকিট পাননি। পাটাতনের জায়গা বিক্রি করেছেন লঞ্চের কর্মচারীরা। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তো আছেই। অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রসঙ্গে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন মিলন আমার দেশ-কে বলেন, সব যাত্রী যাতে গন্তব্যে যেতে পারেন, সেজন্যই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। মালিকরা লঞ্চের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রী থাকাসাপেক্ষে যত প্রয়োজন তত লঞ্চ দেয়া হবে। এতে মালিকদের লোকসান হলেও ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর স্বার্থে তারা তা মেনে নিয়েছেন। লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সদরঘাট থেকে গতকাল ৪০টি রুটের নিয়মিত সব লঞ্চের পাশাপাশি কয়েকটি অতিরিক্ত ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ ও আগামীকাল অতিরিক্ত ট্রিপ দেয়া হবে। এদিকে সদরঘাট টার্মিনালে অব্যবস্থাপনা, পকেটমারদের দৌরাত্ম্যে অনেক যাত্রী মোবাইল, মানিব্যাগ ও জিনিসপত্র হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে সদরঘাটের ইজারাদার আলমগীরের ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বাসের শিডিউল বিপর্যয়, কাউন্টার ভাংচুর : দূরপাল্লার নামি-দামি কোম্পানির বাসে শিডিউলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটছে। বাস কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, রাস্তার বেহাল দশা ও যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস আসতে পারছে না। এ কারণে শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। প্রতিটি গাড়িতে আধঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ঈগল পরিবহনের কল্যাণপুরের কাউন্টার ভাংচুর করেছে। এ বাসের গাবতলী কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা তুষার জানান, নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়তে ব্যর্থ হওয়ায় যাত্রীরা কাউন্টার ভাংচুর করে। তিনি জানান, ফেরিঘাটে যানজটের কারণে প্রতিটি বাস দেরিতে ছেড়েছে। এ কোম্পানির খুলনাগামী সকাল সাড়ে ৮টার বাস ছেড়েছে বিকাল সাড়ে ৩টায়, নড়াইলগামী ১১টার গাড়ি বিকাল ৪টায়, পাইকগাছাগামী সকাল সোয়া ৯টার গাড়ি বিকাল ৩টায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে চড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এভাবে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পুলিশকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। গতকাল সকালে গাবতলী ব্রিজের ওপর বাস ও ট্রাকে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। বাসের হেলপার-সুপারভাইজার ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের ছাদে উঠতে সহযোগিতা করেন। বাসের ভেতরেও অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে নিতে দেখা যায়। বাসের সুপারভাইজাররা জানান, আসনের যাত্রীদের তুলনায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নেয়া হয়। ছাদের যাত্রীদের ভাড়া আরও কম। সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী থেকে রাজশাহী, আরিচা-পাটুরিয়া, রংপুর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসের ছাদে যাত্রী রয়েছে।
রেলওয়ের ৪ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে রেলের আসন বিক্রির অভিযোগে রেলওয়ের অ্যাটেনন্ডেন্ট মো. নিজাম উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় অভিযোগ পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে নিজামকে বরখাস্তের এ নির্দেশ দেন। এছাড়া পরিদর্শনের সময় একটি ট্রেনের লাইট ও ফ্যান নষ্ট থাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী সাবা উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর এবং বদলির নির্দেশ দেন। পরে এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিনিয়র সাব-অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ফোন/লাইট) আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং রেলওয়ের ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী অজয় কুমার পোদ্দারকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। পরিদর্শনের সময় যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এবার টিকিট কালোবাজারি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!