প্রতারণার অভিযোগে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম : কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করেছেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বনমালী ভৌমিক। বুধবার দুপুরে তিনি ডিক্লিয়ারেশন বাতিলের জন্য অফিস আদেশ প্রদান করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড.কামাল উদ্দিন, কুমারখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সহ শহরের গনমান্য ব্যক্তিবর্গের চরিত্রহনন করা,তদন্তে আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছলতার প্রমাণ পাওয়া,ডিক্লিয়ারেশনের পূর্বে অভিজ্ঞতার জাল সনদ প্রদান করা, অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে হলুদ সাংবাদিতার মাধ্যমে চাঁদাবাজি করার কারণে প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ১০ এবং ২০ (১) (ডি) ধারা মোতাবেক ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করা হয়।
দিনের খবরের উত্থান পতন
দুই যুগ পূর্বে জন্ম নেয়া দৈনিক দিনের খবর পত্রিকাটি তার জীবনকালে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। সর্বশেষ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের চরিত্র হনণের জন্য কুখ্যাতি অর্জন করে পত্রিকাটি। জানা যায়,কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকীর পুত্র আলাল সিদ্দিকী পত্রিকাটি প্রকাশক হয়ে পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করে। প্রথমে পত্রিকাটির প্রকাশক ছিলেন আলাল সিদ্দিকী এবং সম্পাদক ছিলেন মফিজুর রহমান বাবু। পত্রিকাটি প্রথম দিকে নিয়মিত প্রকাশিত হলেও পরে সম্পাদক প্রকাশকের দ্বন্দ্বে অনিয়মিত হয়ে যায়। ২০০৭ সালে পত্রিকাটির দায়িত্ব দেড়শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে অর্পন করা হয় সাংবাদিক সোহেল রানার ওপর। পত্রিকাটির নতুন করে ডিক্লিয়ারেশন হয়। আলাল সিদ্দিকী প্রকাশক এবং সোহেল রানা সম্পাদক। এর পর থেকে ট্যাবলয়েড আকারে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। সমাজের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন রিপোর্ট পত্রিকাটিতে প্রকাশ হতে থাকে। চারিদিকে পত্রিকাটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে আলাল সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় আলাল সিদ্দিকীর দুই বোন। তাদের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য সোহেল রানাকে বলে আলাল সিদ্দিকী। প্রকাশকের কথা না শুনার জন্য আলাল সিদ্দিকী পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেন। গত দেড় বছর আগে আলাল সিদ্দিকী গোপনে ৭০ হাজার টাকায় পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বিক্রি করে। অস্ত্রের লাইসেন্স যেমন বিক্রি করা যায় না তেমনি পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বিক্রি করা যায় না। তারপরও সকল অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশ করতে থাকে ক্রেতা ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু। সাধারণ মানুষ বলছে, জিল্লুর হাতে পত্রিকাটি যাওয়ার পর বানরের হাতে খুমত্মা পরার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। একের পর এক মানুষের চরিত্র হরণ করতে থাকে। সর্বশেষ আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পত্রিকা প্রকাশনা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যায় জিল্লু। একের পর এক চাঁদাবাজি করে শহরের মানুষের কাছে ঘৃণিত মানুষে পরিণত হয়। সর্বশেষ গতকাল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পত্রিকাটির ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করে বানরের হাত থেকে খুমত্মাটি কেড়ে নিয়েছেন। পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল করায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানিয়েছেন।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী