নুহাশ পল্লীতে ভক্তদের ঢল
এম,এ,হাসান, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, গাজীপুর থেকে: নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাতেগড়া নুহাশ পল্লীতে দাফনের পর তার কবরের পাশে সারা রাত একটি হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রাখা হয়। গতকাল মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শ’ শ’ ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীর পাশাপাশি ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে শাওনের মা-বাবা উপস্থিত থাকলেও হুমায়ূনের প্রথম স্ত্রীর সন্তান নুহাশ, নোভা, শিলা উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন না হুমায়ূন আহমেদের মা ও ভাই-বোন। হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, মা সংসদ সদস্য তহুরা আলী, শাওনের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত, শাওনের বোন সেঁজুতি ও সিনজনসহ অন্য আত্মীয়স্বজনরা নুহাশ পল্লীর বাংলোয় রাত কাটান। তাদের সঙ্গে অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলামের স্ত্রী স্বর্ণা, তার দুই সন্তান অমিয় এবং অনয় ছাড়াও অভিনেত্রী তানিয়া ও তার ছেলে জিয়াসকে নিয়ে রাতে ছিলেন নুহাশ পল্লীতে। গতকাল ফজরের নামাজের পর শাওন ও তার পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় নিষাদ ও নিনিত কবরের দিকে শুধু তাকিয়ে ছিল। অনেকেই তখন বলছিলেন, তারা হয়তো মনেও রাখতে পারবে না এ স্মৃতি। ভোরে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শাওন জানান, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের মতোই রাখতে চান তিনি নুহাশ পল্লীকে। হুমায়ূনের স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতনের বা বিশ্বভারতীর মতো একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা। নাটক বা অভিনয় শেখানোর একটি ইনস্টিটিউট তৈরি করা। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে শাওন দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন। এরপর বিকালের আগে সারা দিন শাওন বের হননি কটেজ থেকে। শাওনের
পিতা জানান, যতদিন শাওনের মন চায় ততদিনই সে নুহাশ পল্লীতে থাকবে। তবে শাওনসহ তার পরিবারের সদস্যরা আরও কিছুদিন থাকবেন বলে জানিয়েছেন পল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল। কবরের পাশে সারা রাত একটি হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রাখা প্রসঙ্গে নুহাশ পল্লীর লোকজন জানান, শেয়াল-কুকুরসহ অন্য কোন প্রাণী যাতে মাটি খুঁড়ে কবরটি নষ্ট করতে না পারে সে জন্যই আলো রাখা হয়। বুধবারও নুহাশ পল্লীতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। পল্লীর লিচু বাগানে চিরনিদ্রায় শায়িত হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য লোকজন এখনও ভিড় করছেন। নুহাশ পল্লী যে গ্রামে অবস্থিত সেই পিরুজালী গ্রামের লোকজন ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসছেন সেখানে। আগতদের অনেকেই কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। গতকাল হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে লোকজন আসতে শুরু করে ভোর থেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন মানুষের ঢল নামে নুহাশ পল্লীতে। এদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাও ছিল বেশ। দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের দু’জন সচিব অভিজিত চ্যাটার্জি ও সুজিত ঘোষ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। মরহুমের স্ত্রী মেহের আফরোজের আগ্রহে নুহাশ পল্লীতে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের পর পারিবারিক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পিরোজালী গ্রামের দাওয়াতি চার শ’ লোকজনের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর আগে নুহাশে পারিবারিকভাবে কোরানখানি হয়েছে দিনভর। কবরের পাশে লিচু গাছের গোড়ায় বাঁধানো চত্বরে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন স্থানীয় হাফেজরা।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী