বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ১৫ সাক্ষির জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১ ।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর এক সদস্য একেএম জহির আহমদ অনুপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এ বিষয়ে কয়েক দফা শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালে বিষয়ে আদেশের জন্য সিএভিতে রেখে দেন। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে আসামিপক্ষের ওই আবেদন খারিজ করে দেন।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষির জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ আদেশ দেন। ওই আদেশ পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী।
গত ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ৩রা জুন পুনরায় শুনানির সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষি এনে রাখা হতো) সব কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে বলেন, সাক্ষি হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন। অনেক সাক্ষি তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফ হোমের এসব কাগজপত্রে তার প্রমাণ রয়েছে। কোনো সাক্ষি কবে ঢাকায় আসে, কতদিন সেফ হোমে ছিল, কয় বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তার সব কাগজপত্র আসামি পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী এ সময় বলেন, সেফ হোম বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হোমের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের নয়। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন।
আজ আদেশের পরে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের কাদম্বিনী চরিত্রের উদাহরণ পেশ করে বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করেছিল সে মরে নাই।
তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের রিভিউ করার সুযোগ নাই। আপিল করারও সুযোগ নাই।
এ আদালতের ক্ষমতা রোমান সাম্রাজ্যের চেয়েও বেশি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, সেফ হোমের নামে তারা যে ৬০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছেন তা সত্য।
এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এক মামলায় সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দেখানো হয়।