Home  » খুলনা বিভাগ

কেশবপুরে হাইকোটের রায় অমান্য করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার অভিযোগ

Posted-সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১২ Time-৬:২৯ pm ◊ বাংলা- ২৫ আষাঢ় ১৪১৯ সাল । বিভাগ-খুলনা বিভাগ  

জি,এম,মিন্টু ,বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,কেশবপুর(যশোর)প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে হাইকোটের রায় অমান্য করে কেশবপুর উপজেলার দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় ঐ মাদ্রাসার এক দাতা সদস্য প্রতিকার চেয়ে উপজেলা :নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামের কারী সিরাজুল ইসলাম একটি মকতব চালাতেন। কারী সিরাজুল ইসলামসহ স্থানী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই মকতবকে মাদ্রাসায় উন্নতি করার উদ্যোগ নিয়ে জাযগার জন্য নানা চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু জায়গার অভাবে মাদ্রাসা তৈরির উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বসে। এক পর্যায় দোরমুটিয়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক সরদার ও কেশবপুর মহিলা কলেজের বর্তমান উপাধাক্ষ্য আব্দুর সাত্তার সরদার ১৩ শতক জমি দান করলে ১৯৯২ সালে দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসার  প্রতিষ্ঠাতা করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে কারী সিরাজুল ইসলাম, সুপার হিসাবে মাওঃ এম এ রাজ্জাক, সম্পাদক হিসাবে আব্দুল করিম গাজী, দাতা সদস্য হিসাবে আব্দুর রাজ্জাক সরদার,&  কওছার আলী, এরশাদ আলীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাকালিন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আজিজ সরদার, রহিম সরদার, নজরুল গাজী, মতলেব সরদার, অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন, সরদার এরশাদ সরদারসহ অনেকে মাদ্রাসায় জমি দান করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক ১৯৯৬ সালে (যার স্বারক নং-৯৭৬, তাং-২৭/০৪/৯৬) এক আদেশে দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পদ শুন্য থাকিবে বলে এক পত্রাদেশ প্রদান করেন। এ পত্রাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পদ শুন্য থাকিবে স্থানে মাদ্রাসার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আব্দুল করিম গাজী নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লিখে প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে দাতা সদস্য আব্দুর সাত্তার সরদার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালকের নিকট অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর করিম গাজী কিভাবে প্রতিষ্ঠাতা হলেন তা জানতে চেয়ে খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। এরপর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার জন্য আব্দুল করিম গাজী ২০০৬ সালে সুপ্রিম কোটের হাইকোট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার রিট পিটিশন নং- ৮৩৭০/২০০৬ । এ রিট পিটিশনটি বিজ্ঞ বিচারক শহিদুল ইসলাম ও সৈয়েদা আফসার জাহান এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কাগজ পত্র যাচাই করে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর পিটিশনটি খারিজ করে দেন। আবেদনকারীর রিট পিটিশনটি খারিজ হওয়ার আবেদনকারী আব্দুল করিম গাজীর প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার কোন সুযোগ নাই। তারপরও ২০১২ সালে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্ত্তত কালে মাদ্রাসার সুপার আবু তালেবের সহযোগিতায় এডক কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম গাজী নিজে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিজের নাম ভোটার তালিকায় অন্তভুক্ত করেছে। দোরমুটিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ের সুপার মাওলানা এম এ রাজ্জাক, ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদ সরদারসহ প্রতিষ্টাকালিন সময়ের অধিকাংশ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে আব্দুল করিম গাজী প্রতিষ্টাতা হওয়ার জন্য কোন টাকা বা সম্পত্তি দান করেনি । তাছাড়া আব্দুল করিম গাজী নিজেসহ তার আত্বীয়দের দিয়ে মামলা দিয়ে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। মাদ্রাসা সুপার আবু তালেব পক্ষপাত মূলক ভাবে নিজ স্বার্থে আব্দুল করিম গাজীর এসব কর্মকান্ডে সহযোগিতা করায় অভিভাবকসহ গ্রামবাসির মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ছাড়া নিয়ম বর্হিভূতভাবে মাদ্রাসার গাছ কর্তন, ধর্মমন্ত্রানালয় কর্তৃক মাদ্রাসায় বরাদ্ধকৃত ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ১২ হাজার টাকা, এডিপির কর্তৃক বরাদ্ধ ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ হাজার টাকা লুটপাটসহ নানা অনিয়ম চলছে।

দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে আব্দুল করিম গাজী প্রতিষ্টাতা হওয়ার জন্য কোন টাকা বা সম্পত্তি দান করেনি বরং বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নাম করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে হাজার টাকা গ্রহন করেছে বলে দাতা সদস্য নজরুল ইসলাম গাজী গত ২৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া আইনের আশ্রায় নেওয়ার অংশ হিসাবে কয়েকজন দাতা সদস্য ও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠাতা করার সাথে সংশি­ষ্টদের নিকট উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন। অভিযোগগুলো যথাযতভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রামবাসি সংশি­ষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!