Home  » রাজনৈতিক

পাহাড় থেকে ৭ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত

Posted-মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১২ Time-১:০৩ am ◊ বাংলা- ১৯ আষাঢ় ১৪১৯ সাল । বিভাগ-রাজনৈতিক  

বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,চট্টগ্রাম থেকে: বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসবাসকারীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের মধ্যে বসবাসরত পরিবারের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা থেকে তাদের রক্ষা করতে চলবে উচ্ছেদ অভিযান। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি সিডিএমপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নগর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রসঙ্গত, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে ১৩টি পাহাড় রয়েছে। এর বাইরে হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ডে রয়েছে আরও ৭টি পাহাড়। এই ২০টি পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এক লাখ লোকেরও বেশি মানুষ। যাদের বেশির ভাগই দিনমজুর, গার্মেন্ট কর্মী ও মধ্যবিত্ত লোকজন। গত ২৬শে জুন প্রবল বর্ষণে নগরীর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় পাহাড় ধসে মারা গেছেন ২৭ জন। এর বাইরে মৃত্যুবরণ করেন আরও ৪ জন। বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, নতুনভাবে পাহাড় ধসে আর যাতে কারও মৃত্যুর খবর শোনা না যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সবার বক্তব্য শোনা হয়। এরপর বৈঠকে উপস্থিত বেশির ভাগ ব্যক্তিই পাহাড় ধসের মামলাগুলো যাচাই করার কথা জানান। বর্তমানে পরিবেশ আদালতে চট্টগ্রাম নগরী ও তার আশপাশের থানা-উপজেলাতে ২৫০টিরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু হচ্ছে না। যে কারণে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে সচেতন মহলের অভিমত। বৈঠকে অংশ নেয়া নীতিনির্ধারকরা ঝুলে থাকা মামলাগুলো একটি সাব-কমিটির মাধ্যমে তদারকি করার কথা জানান। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। বৈঠকে গত বছর পাহাড় ধসে গঠিত কমিটির বিভিন্ন সুপারিশও পর্যালোচনা করা হয়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জাফর আলম প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাহাড় ধসের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সমপ্রতি ঘটে যাওয়া আকবর শাহ এলাকার পাহাড়টি ৭০-৭৫ ডিগ্রি খাড়া বলে তাদের পরিমাপে এসেছে। এই পাহাড়টিতে মাটির আধিক্য না থাকায় প্রবল বর্ষণে তা ধসে পড়েছে। বর্তমানে এই রকম আরও কয়েকটি পাহাড় রয়েছে নগরীর বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, কুসুমবাগ, লেবুনগর, উত্তর পাহাড়তলী ও বায়েজীদ এলাকায়। এসব পাহাড়ের মধ্যে কেবল মাত্র বাটালি হিল যদি ধসে পড়ে তাহলে এর পাদদেশ থেকে অল্প দূরে বসতি গড়া এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকার লোকজনও মারা যাবে। এর আগে গত রোববার চট্টগ্রাম এসে পৌঁছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির দুই সদস্য। এরা হলেন- প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম, অন্যজন পরামর্শক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাকসুদ কামাল। তারা গতকাল সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা সরজমিন পরিদর্শন করেন। বৈঠকে তাদের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পিডিবি, গ্যাস, ওয়াসা, ফায়ার ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘পাহাড় ধসের ঘটনা আমার মনে হয় কিছু পদক্ষেপ নিলে হয়তো কমে আসবে। তবে আমি মনে করছি এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতি বছর যেভাবে এখানে লোকজন মারা যাচ্ছে তা সত্যিই দুঃখজনক।’এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা যায়। চট্টগ্রাম এসে সর্বস্তরের মানুষের কথা শুনেছি। এখন উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে কাজ করতে হবে।’

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!