পার্বতীপুরে নিজের সম্পত্তির গাছ কর্তন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার
রেজওয়ানা হক বন্যা, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ নিজ সম্পত্তিতে রোপন করা গাছ কর্তন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে রিয়াজুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে পার্বতীপুর উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর শালন্দার সরদার পাড়া এলাকায়। সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বেধরক মার পিট করা ছাড়াও নগদ টাকা ও গাছ ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর শালন্দার হাজীপাড়া গ্রামের আব্দুস ছোবানের পুত্র রিয়াজুল ইসলাম পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত সম্পতিতে রোপন কৃত ইউক্যালেপটার গাছ কেটে ভ্যান যোগে গত ২৩ জুন দুপুরে বাড়ী নিয়ে যাওয়ার পথে একই এলাকার উত্তর শালন্দার সরদার পাড়ায় পৌছালে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, জাকিয়া বেগম, জনি, এজাজুল হক, জাকারিয়া জিবন ও রেজাউল দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাছ বোঝাই ভ্যানের গতিরোধ করে রিয়াজুল ও তার সংগীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাদেরকে জখম করা ছাড়াও নগদ টাকা ও গাছ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রিয়াজুল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে উলেখিত ব্যক্তিদের আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় ২৪ জুন একটি মামলা দায়ের করেছে।
উলেখ্য,বছিরবানিয়া বাজার এলাকার রিয়াজুল ইসলামের পিতা আঃ ছোবাহান কন্যা দায়ের জন্য ৫ শতক জমি বিত্রিু করতে চাইলে তৎকালিন সেনা বাহিনীতে কর্মরত শফিকুল ইসলাম জমি নেয়ার জন্য রাজী হয়। এ কথার উপরে শফিকুল ইসলাম প্রায় সাড়ে ৪ শতক জমির উপর পাকা দোকান ঘর তুলে ফেলে। পরে জমি রেজিষ্টেরীর দিনে শফিকুল ইসলাম ৫ শতকের স্থনে সাড়ে ৩ শতক জমি নিবে বলে জমির মালিককে বলে। বাকি জমির টাকা পরে দিবে এ কথার উপরে জমি রেজিষ্টরী হয়। এভাবেই কয়েক বছর অতিবাহিতের পর শফিকুল ইসলাম সেনাবাহীনি থেকে অবসরের পর বাকি জমি আত্নসাতের জন্য বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে। শফিকুল আর্মির স্ত্রী জাকিয়া বেগমকে মহিলা সদস্য পদে দাঁড় করিয়ে দিলে সে জাকিয়া ভোটে জয়লাভ করে। পরে এক পর্যয়ে নিজেই দোকান ঘর ভেঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। এ নিয়ে এলাকায় অনেক বিচার শালিসও হয়। বিচারে শফিকুল আর্মি জমি ছেড়ে দিবে বলে অংগীকার করে। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে শফিকুল আর্মির স্ত্রী মহিলা সদস্য জাকিয়া বেগম ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকায় মিমাংশা করার জন্য চাপ দেয়। এর মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম তার জমির উপরে থাকা গাছ কাটলে এই সুযোগে শফিকুল আর্মি স্ত্রীর ক্ষমতা ও টাকার প্রভাবে পার্বতীপুর থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকৃত জমির মালিক রিয়াজুল ইসলাম সহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এদিকে মডেল থানা পুলিশের এস আই আবু সায়েম ঘটনা স্থলে গিয়ে গাছ উদ্ধার করে আবার শফিকুল আর্মির দোকানে রাখে। এলাকাবাসী ধারনা করছে চেয়ারম্যানের নিরবতার কারনে উক্ত ঘটনা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।








