Home  » রংপুর বিভাগ

বিরলে বিলুপ্ত হতে চলেছে ভ্রাম্যমান ইটালী সেলুন

Posted-শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১২ Time-৯:০৩ pm ◊ বাংলা- ৮ আষাঢ় ১৪১৯ সাল । বিভাগ-রংপুর বিভাগ  

মতিউর রহমান, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, বিরল(দিনাজপুর):  বুধবার বিকাল ৪ টা বিরলের ফুলবাড়ী হাটের সড়কের রাস্তার পাশে পাশাপাশি ৩টি ইট বিছিয়ে ক্ষৌর কার্যের সামগ্রী নিয়ে বসেছে নরসুন্দর সুনীল, নেদেন, পুটু ও তারা। এ চিত্র আজকে প্রথম নয় প্রায় ১৫ বছর ধরে ফুলবাড়ী হাট সহ পাশ্ববর্তী হাটে ভ্রাম্যমান সেলুন নিয়ে মানুষের চুল দাঁড়ির ক্ষৌর কাজ করছে এরা। বিরল উপজেলায় প্রায় ১ যুগ আগে সকল হাট বাজারে দেখা মিলত এমন সব ভ্রাম্যমান নরসুন্দরদের, কিন্তু আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমান সেলুন প্রথা। ভ্রাম্যমান নরসুন্দর সুনীলের সাথে একান্তে আলাপকালে তিনি জানালেন, ২০বছর আগে বাপের (বাবার) কাছ থেকে শিখেছি এ কাজ। বাপের সাথে এ গ্রাম ও গ্রাম ঘুরে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল-দাঁড়ি কাটার কাজ করেছি। হাটে আগত ক্রেতারা কেনা-বেচা করার ফাঁকে এ সব ভ্রাম্যমান সেলুনে বসে চুল-দাঁড়ি কাটার কাজটিও সেরে ফেলে। এ সব ভ্রাম্যমান সেলুনে বসার আসন বলতে একটি ইট। ইটের উপর বাজার করার ব্যাগটি বিছিয়ে বসে হাটে আগত ব্যাক্তি, আর অপর আর একটি ইটের উপর বসে নরসুন্দর করে ক্ষৌর-কার্য। ইটের উপর বসে সেলুনের কাজ করা হয় বলে, অনেকে এটিকে ইটালী সেলুন বলে থাকে। ভ্রাম্যমান সেলুনে চুল ও দাঁড়ি কেটে প্রতি হাটে আয় হয় ৯০-১০০টাকা। আর সপ্তাহের অন্যান্য দিনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের চুল দাঁড়ি কেটে বেড়ায় এ ভ্রাম্যমান নরসুন্দরা। স্বল্প আয় কিভাবে দিন কাটে এ প্রশ্নের জবাবে নরসুন্দর নেদেন জানায়, এ কাজ করে এ পাড়া ও পাড়া ঘুরে মানুষের সাথে গভীর সর্ম্পকের টানে তারা কষ্টের মাঝেও ভ্রাম্যমান সেলুনের কাজ বাদ দিতে পারেনা। বিশেষ করে ৭০-৮০ বছরের বয়স্কদের জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরি, তারা ইচ্ছে করলে হাটে আসতে পারে না। তবে কোন গ্রামের সদ্যজাত সন্তানের আকিকা অনুষ্ঠানে গেলে সে দিন তারা ভাল বকশিস পেয়ে থাকে। নরসুন্দর পটু বললেন, এ পেশা ছাড়া জীবিকা অর্জনের আর কোন পথ নেই। তবে যতই কষ্ট হোক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পেশায় কাজ করব।

প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় যুব সমাজ ধ্বংসের পথে

বিরলে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ফিলিংস নামে নেশা ও যৌন উত্তেজক পানীয়

মতিউর রহমান, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, বিরল(দিনাজপুর): বিরলে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফিলিং এনার্জি ড্রিংকস এর নামে নেশা ও যৌন উত্তেজক পানীয়। যার খরিদ্দার ১৪ বছরের যুবক থেকে ৪০ বছরের যুবক পর্যন্ত। বিক্রি নিষিদ্ধ এসব পানীয় বোতলের গায়ে বি.এস.টি আইয়ের জাল সিলও ব্যবহার করছে উৎপাদনকারীরা। এসব পানীয় পানে একদিকে যেমন যুব সমাজ নেশায় আসক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রবলযৌন উত্তেজনার কারণে যুবকরা বিপথে ধাবিত হচ্ছে। বিরলে এক প্রকার প্রকাশ্যে এসব এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হলে ও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান নেই। বিরল শহরের প্রাণ কেন্দ্রের শংকরপুর মোড়, বিরল কাঞ্চন মোড়, পুরাতন সাথী সিসেমা হল রোড, কালিয়াগঞ্জ বাজার, ঝুকুরঝাড়ী বাজার সহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বেশ কিছু স্পটে মুদি দোকান সহ কনফেকশনারীর দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ফিলিংস, ট্রিপল এক্র, ওয়ান এক্র্, ফাস্ট ফিলিংস, হর্স ফিলিং, ফাস্ট হর্স, ম্যানপাওয়ার, রয়েল হর্স, ভিগেরা-বি নামের নেশা ও যৌন উত্তেজক পানীয়। অধিক লাভের আশায় অনুমোদনহীন বিক্রি নিষিদ্ধ এসব প্রাণঘাতী ড্রিংকস বিক্রি করছে দোকানদাররা। অন্যদিকে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে এসব পানীয় উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা। এসব ফিলিংস কোথায় উৎপাদন হয় আর কে দোকানে দোকানে সরবরাহ করে এ ব্যাপারে মুখ খোলেনি খুচরা বিক্রেতারা।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিরল শহরের মুদি দোকান, পানের দোকান, জেনারেল ষ্টোর সহ বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত কোমল পানীয় এর সাথে থরে থরে সাজানো আছে এসব এনার্জি ড্রিংকস। অনেকে ফ্রীজে ও সাজিয়ে রেখেছে। এসব বাহারী বোতলের গায়ে লেখা আছে মিক্র্ড ফুড ড্রিংকস। শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য, কিন্তু বোতলের গায়ে নেই উৎপাদনের তারিখ ও কারখানার ঠিকানা। এই পণ্যটির গায়ে বি.এস.টি.আই এর জাল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, মাদকাসক্ত যুবক ও উঠতি বয়সের যুবকেরাই এসব ড্রিংকস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এ গুলোর প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণা না থাকলেও প্রতিদিন বিরলে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০-৩০০ বোতল। এসব বোতলের দাম ৪৫-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক জানান, এগুলো পান করলে খুব ঘুম পায়, এটা না খেলে ভাল লাগেনা। বিরল উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার জানান ডাঃ সমিরণ কুন্ডু জানান, এই জাতীয় পানীয় নেশা ও যৌন উত্তেজনা বাড়ায় শুনেছি। বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রাববী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!