Home  » অর্থনৈতিক

লবণ পানির প্রভাব : পাইকগাছায় ২০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পতিত

Posted-বুধবার, ২০ জুন, ২০১২ Time-৯:৩৮ pm ◊ বাংলা- ৬ আষাঢ় ১৪১৯ সাল । বিভাগ-অর্থনৈতিক  

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, পাইকগাছা (খুলনা) :  খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও (দু’-তৃতীয়াংশ) ২০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি প্রভাবশালী ঘের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে ধান চাষ না করায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। চিংড়ি চাষ শুরম্নর পর থেকে বছরের পর বছর এ অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতি থাকে। চাষাবাদ না হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমাছেন।

একসময় কৃষি অধ্যুষিত এ অঞ্চল ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এলাকার চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য দেশের বিভিন্ন প্রামেত্ম সরবরাহ করা হতো। কিন্তু আশির দশকে শুরম্ন হওয়া পরিবেশ বিধ্বংসী লবণ পানির চিংড়ি চাষে হ্রাস পায় ধান চাষ। আর তখন থেকেই মূলত খাদ্য ঘাটতির পাশাপাশি জেঁকে বসে বেকারত্বের অভিশাপ। এরপর একপ্রকার প্রশাসনের পরোক্ষ সহায়তায় হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি চলে যায় প্রভাবশালী চিংড়িচাষিদের দখলে। চিংড়িচাষ এলাকায় আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পরে পর্যায়ক্রমে প্রভাবশালী চিংড়িচাষিরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উপজেলার লস্কর, সোলাদানা, লতা, দেলুটি, গদাইপুর, রাড়ুলী, কপিলমুণি, গড়াইখালীর বিভিন্ন ঘেরের অমত্মর্ভুক্ত বিসত্মীর্ণ ফসলি জমিতে কৃষকদের ধান চাষের সুযোগ না দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রমিত্মক চাষিরা। এমনকি আয়ের উৎস না থাকায় নিমণ ও মধ্যবিত্ত অনেক কৃষকপরিবার জায়গাজমি বিক্রি করতেও বাধ্য হয়েছে। আর এসব জমিও হাত বদল হয়ে চলে গেছে প্রভাবশালী ঘের মালিকদের কাছেই। এতে আর্থসামাজিক অবসত্মার ওপর বিরম্নপ প্রভাব পড়ছে। কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমজীবী মানুষেরা জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। সে ক্ষেত্রে তারা বাধ্য হয়েছেন পেশা পরিবর্তন করতে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, মোট ৩০ হাজার হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, ফসলি জমিতে এভাবে বছরের পর বছর লবণ পানি তলিয়ে থাকা মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থা্য় চলতে থকলে এক সময় এ অঞ্চলে কোনো ফসলই উৎপাদন হবে না।

তিনি আরো জানান, সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের ঘেরগুলোতে চিংড়ির পাশাপাশি ধান চাষ করলে ঘের মালিকেরা অধিক লাভবান হবেন। উপকৃত হবেন জমির মালিক প্রামিত্মক চাষিরাও। যার ফলে এবার উজেলা সদরের সরল, বান্দিকাটি, বোয়ালিয়া, গোপালপুরসহ বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে সাথি ফসল হিসেবে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন উপজেলা ধান, মাছ, পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন জানান, সুদূর আফ্রিকায় জমি লিজ নিয়ে ফসল উৎপাদনের চেয়ে দক্ষিণাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর পতিত কৃষি জমিতে পরিকল্পিত চাষাবাদে শস্য উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

জুয়েলারী ব্যবসার অমত্মরালে অবৈধ এসিড ব্যবসা জমজমাট

দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র পাইকগাছা সদর, কপিলমুনিতে জুয়েলারী ব্যবসার অমত্মরালে চলছে ক্ষতিকর সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিডের রমরমা ব্যবসা। ফলে প্রত্যমত্ম এলাকায় এর অপব্যবহারও বেড়েছে বহুগুনে। এলাকাবাসী এর অবাধ বিক্রিয় ও ব্যবহার রোধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের জরম্নরী হসত্মক্ষেপ কামনা করেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলা সদর ও কপিলমুনির কয়েক জন জুয়েলারী ব্যবসায়ী তাদের মূল ব্যবসার অমত্মরালে দীর্ঘ দিন যাবৎ অবৈধ নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিডের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তবে প্রযোজনীয় তথ্য প্রমান ও গোপন গুদাম চিহ্নিত না হওয়ায় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। তবে গত ১৮ জুন বেরিয়ে এসেছে এর তথ্য প্রমাণ। কপিলমুনি অলংকার জুয়েলার্সে গত১৮ জুন স্থানীয় জনতা দেখতে পায়, ৫টি ড্রামে প্রায় ১৫০ লিটার এসিড মজুত রয়েছে। খবর পেয়ে ঐ জুয়েলারীতে গেলে মালিক মিলন সরকার জানান, এসিড ব্যবহারে তাদের সরকারী লাইসেন্স রয়েছে। তবে অধিক পরিমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান। এ সময় তিনি আরও বলেন, স্বর্ণালংকার পরিস্কারে তাদের সালফিউরিক ও খাটি করতে নাইট্রিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তিনি মোবাইলে পেয়েছেন। এসিড মজুদের প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। উলে­খ্য চলতি সপ্তায়ও পাইকগাছায় এক গৃহবধু এসিড সন্ত্রাসের স্বীকার হয়েছেন। গোটা পাইকগাছায় সাম্প্রতিক সময়ে এসিড সন্ত্রাসের হারও বেড়েছে। বিচারাধীন রয়েছে এসংক্রামত্ম কয়েকটি স্পর্শকাতর মামলা। সংশিস্ন­ষ্ট প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, এসিডের অবাধ অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধে সংশিস্নষ্ঠ অলংকার জুয়েলার্সের বিরম্নদ্ধে জরম্নরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!