রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার জন্য উচ্চশিক্ষা দফতরের রোষের মুখে সরকারি কলেজের দুই শিক্ষক
দীপক রায়, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,প:ব: ভারত : সংবাদমাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের জন্য দুই সরকারী কলেজের শিক্ষককে উচ্চশিক্ষা দপ্তর শোকজ করেছে। সরকারের অনুমতি নিয়ে তাঁরা সংবাদমাধ্যমে গিয়েছেন কি না, চিঠি দিয়ে দফতরকে সে কথা জানাতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে যে সব আলোচনাসভা হয়, তাতে বিভিন্ন পেশার মানুষেরা সাধারনতঃ মতামত দেন। এটা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল তাদের ডাকেন এবং মতামত নেন। এমনই কয়েকটি আলোচনাসভায় যোগ দিয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের অথর্নীতির শিক্ষক দেবাশিস সরকার ও হুগলি মহসিন কলেজের বাংলার শিক্ষিকা শম্পা সেন। তারা সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করেন। আর এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নতুন ঘটনা হল শোকজের চিঠি ধরানো।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ‘সরকারি আমলারা যদি সংবাদমাধ্যমে মত জানাতে চান, তা হলে তাঁকে যেমন সরকারের অনুমতি নিতে হবে, তেমনই সরকারি কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অনুমতি নিতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে। ওই দু’জন অনুমতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে গিয়েছেন কি না, তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। সুব্রত পাণ্ডা নামে সরকারি কলেজেরই এক প্রাক্তন শিক্ষক দু’টি চিঠি পাঠিয়ে ওই দুই শিক্ষক শিক্ষিকার নামে অভিযোগ এনেছেন। সরকারি কর্মী হয়েও ওই শিক্ষক শিক্ষিকা কী করে সংবাদমাধ্যমে বসে সরকার-বিরোধী কথা বলেন?’
অভিযুক্ত দেবাশিস সরকার বলেন, ‘আমার যা বক্তব্য, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তা উচ্চশিক্ষা দফতরকে জানাব।’ শম্পা সেন বলেন, ‘আমি সরকার বিরোধী কোনও কথা বলিনি। নাগরিক হিসাবে কিছু মতামত প্রকাশ করেছি মাত্র। তার জন্য সরকার বিরোধিতার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনা হয়েছে। খুবই ভয়ের মধ্যে রয়েছি।’
এই নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছর টিভির নানা আলোচনায় এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। তারা নিয়মিত সেই সময়ের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে গিয়েছেন। বিশেষ করে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটা বড় অংশের শিক্ষকেরাই প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন। তখন বামফ্রন্ট সরকার এমন কোন শোকজ করেনি। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা হলে এমন শোকজ হবে কেন- এই প্রশ্ন উঠেছে। আর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও তো শিক্ষক হিসাবেই রাজনীতি করেছেন, ভোটে দাড়িয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। তাহলে তারা কি শোকজের মুখে পড়েছিলেন? তবে এই ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে।










হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী