Home  » জাতীয়

অনির্বাচিত সরকার বা তৃতীয় শক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দেবো না- প্রধানমন্ত্রী

Posted-শনিবার, ৯ জুন, ২০১২ Time-৭:৩৮ am ◊ বাংলা- ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সাল । বিভাগ-জাতীয়  

বিজয় নি উজ ২৪ ডটকম : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলের নেতাদের জানিয়েছেন, এ নিয়ে সংসদে বা বাইরে আলোচনা হতে পারে। তবে আলোচনা
হতে হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। সরকার কোন ভাবেই কোন অনির্বাচিত সরকার বা তৃতীয় শক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে না। সংবিধানে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। গতকাল দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যে দলের সব সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। একইভাবে দলের তৃণমূলের কাউন্সিল ও সম্মেলন শেষ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সাংগঠনিক প্রতিবেদন দলীয় সভানেত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তৃণমূলের কাউন্সিল প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং দীর্ঘ দিনেও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গতকালের বৈঠকের পর সাংগঠনিক সম্পাদকরা কতটি উপজেলা ও জেলার কাউন্সিল করবেন তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বৈঠক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা বিভাগের, আহমদ হোসেন চট্টগ্রাম বিভাগের, এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন নাছিম সিলেট বিভাগের, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল বিভাগের, বিএম মোজাম্মেল হক খুলনা বিভাগের, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রংপুর বিভাগের, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।
সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন, বিচার বিভাগ ও সংসদের সামপ্রতিক বিরোধ, বিরোধী দলের ১১ই জুনের সমাবেশ এবং প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলের নেতাদের জানিয়েছেন, সরকার কোনভাবেই কোন অনির্বাচিত সরকার বা তৃতীয় শক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে না। সংবিধানে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বিচার বিভাগ ও সংসদের সামপ্রতিক বিরোধের বিষয়ে বলেন, রাষ্ট্রের এই দুটি অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। তা এ বিষয়ে বেশি আলোচনা ঠিক নয়। বরং এক্ষেত্রে সবাইকে সহনশীল হওয়া প্রয়োজন।
বৈঠক সূত্র জানায়, সাংগঠনিক আলোচনার মধ্যে তিনটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিলের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৯ই জুলাই যুবলীগের, ১১ই জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের এবং ১৬ই জুলাই শ্রমিক লীগের কাউন্সিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির তত্ত্বাবধায়কের আলটিমেটাম এবং ১১ই জুনের সমাবেশের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও নেতারা জানিয়েছেন, বিরোধী দলের আলটিমেটাম রাজনৈতিক। তারা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করতেই পারে। তবে কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কিছু করলে তাতে সরকারিভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আলোচনা হবে তবে তা হতে হবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আলোচনা হবে এবং আগামী নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। তিনি বলেন, আলোচনা যে হচ্ছে না তা নয়, আলোচনা হচ্ছে আরও হবে। আগামী ১০ই জুন বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার  পুনর্বহাল দাবির আলটিমেটাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক আলটিমেটাম। এ ধরনের আলটিমেটামের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতেই পারে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে কার্যনির্বাহী বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়নের বাজেট উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশের ১৫-১৬ কোটি মানুষ। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বড় বাজেটই প্রয়োজন। অনেকে এ বাজেটকে বড় বললেও আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দুর্নীতিবাজ, খুনি, জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যাতে দেশের মানুষকে জিম্মি করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তি চায়। তার আর বোমার আওয়াজ শুনতে চায় না। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে জনগণকে শান্তি দিতে।
তিনি বলেন, মানুষের দ্রুত উন্নয়নের জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস, আমরা এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবো। জনগণ শুভ ফল পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ অস্ত্র চোরকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দুর্নীতি। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে তার দুই পুত্র দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, প্রতিটি বাজেটের লক্ষ্য শিক্ষার হার বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান করা, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম না বাড়লে আমরা আরও ভাল করতে পারতাম। বাজেটের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ শতাংশ ঘাটতি নিয়েই বাজেট দিয়েছি। আগেও ৫ শতাংশ ঘাটতিই ছিল। সাধারণ মানুষ এই বাজেটে শুভ ফল পাবে। কিন্তু সবচেয়ে অখুশি বিরোধী দল। তারা এখন কিছু খেতে পারছে না। তারা যথেষ্ট খেয়েছে। যথেষ্ট পাচার করেছে। সুটকেস ভরে টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখনও তা খেয়ে শেষ করতে পারছে না। শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ ও কৃষিসহ মানুষের যেখানে প্রয়োজন সেখানে ভর্তুকি দিচ্ছি। বিদ্যুতে আগামী দিনে আর ভর্তুকি দিতে হবে না। আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি আগামী দিনে ভাল ফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা। এজন্য দেশীয় শিল্পকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আর সাহায্য নির্ভর না হতে। আমরা যেন বিদেশ নির্ভর না হই।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!