লভ্যাংশের দাবিতে হায় ! হায় ! কোম্পানি স্কাইল্যান্সারের সদস্যদের কলাবাগান থানা ঘেরাও
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম: সময়মত প্রদেয় টাকার লভ্যাংশ না পেয়ে স্কাইল্যান্সার লিমিটেড নামের একটি এমএলএম কোম্পানির সদস্যরা গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলাবাগান থানা ঘেরাও করে রাখে। এর আগে তারা পান্থপথে কোম্পানিটির অফিসে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্কাইল্যান্সারের চেয়ারম্যান নীল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে।
কলাবাগান থানার এসআই দেবরাজ জানান, স্কাইল্যান্সার একটি এমএলএম ভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান। তারা আউট সোর্সিংয়ের কাজ করে। সেখানকার সদস্যদের অধিকাংশই স্কুল-কলেজের ছাত্র। তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মেয়াদে ও কিস্তিতে টাকা নিয়ে সদস্য সংগ্রহ করে এবং আউট সোর্সিংয়ে কাজ করায়। কাল রোববার তাদের সদস্যদের লভ্যাংশের প্রাথমিক কিস্তি দেয়ার কথা। তারা পরস্পরের মারফত জানতে পারে রোববার তাদের লভ্যাংশের টাকা দেয়া হবে না। এরপর তারা বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকেই স্কাইল্যান্সারের পান্থপথের করপোরেট কার্যালয় ঘেরাও করে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা সকালে সেখানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা পুরো প্রতিষ্ঠানটির আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে। সেখান থেকে কৌশলে তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যান নীল চৌধুরীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্কাইল্যান্সারের সদস্যরাও থানায় গিয়ে তাদের অর্থ ফেরত দেয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও করে। তাদের দাবি লভ্যাংশ ও প্রদেয় টাকা ফেরত দিতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্কাইল্যান্সারের সদস্যরা থানা ঘেরাও করেছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এমডির নাম সাইফুল ইসলাম। তার কাছে স্কাইল্যান্সারের সদস্যদের প্রদেয় অর্থের দলিলপত্র রাখা। তিনি পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্কাইল্যান্সারের সদস্য হাবীবুর রহমান জানান, তিনি একজন ছাত্র। ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কোম্পানি আউট সোর্সিংয়ে কাজ করানো ও এমএলএম ভিত্তিক অর্থ সংগ্রহের কাজ করে। পরে তাদের লভ্যাংশ না দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্কাইল্যান্সারের রসিদে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা লেখা রোড নম্বর-২, বাড়ি নম্বর ২১/এ, ব্লক-এ, আফতাবনগর, রামপুরা, ঢাকা। সেখানে ১৬ মে তারিখে এক এসকে ৯১০৭৬৪ আইডিতে ১৬ হাজার ২৭৫ টাকা জমা নেয়। কিন্তু ৬২৯ নম্বর ওই টাকার রসিদে কোনো সদস্যের নাম লেখা নেই। একইভাবে ৫০৩ নম্বর রসিদে এসকে ৯৯৯৬০৪ আইডি দিয়ে অপর ব্যক্তির কাছ থেকে ১৭২৫ টাকা নিলেও তার নামও লেখা হয়নি।
কলাবাগান থানার ওসি এনামুল হক জানান, ভাংচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে আটক করেছেন। কোম্পানির এমডি পালাতক রয়েছেন। সদস্যদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা ও এমডিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী