বাকাইলের শিল্পকারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গ্যাস লিকেজকে পুঁজি করে গড়ে উঠা ৫০টিরও বেশি অবৈধ শিল্পকারখানার গ্যাস সংযোগ অবশেষে বিচ্ছিন্ন হলো। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির কারিগরি দলকে নিয়ে গতকাল সকাল থেকে এসব কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু করে। তবে স্থানীয়রা বলছেন এতে সংকট আরও বাড়বে। আর শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে। ২০০৬ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাকাইল ও শ্যামপুর গ্রাম এবং এর আশপাশের তিতাস নদী ও বিল থেকে অবিরাম গ্যাস বেরোতে থাকে। সেই গ্যাসকে পুঁজি করে স্থানীয় প্রযুক্তিতে বছর দেড়েক আগে এসব গ্রামে গড়ে ওঠে এক থেকে দেড় শ’ চুন, চুড়ি, মার্বেল ও গ্লাসের কারখানা। ক্রমান্বয়ে তা কমে ৫০-৬০ টিতে ঠেকে। অবৈধ চুন কারখানা গড়ে উঠায় ছাতকের চুন ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়লে সেখানকার রাকিব মিয়া চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত থেকে ২০১১ সালের ৮ই ডিসেম্বর এখানকার শিল্পকারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়। গতকাল হাইকোর্টের এই আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়। সকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন চাকমা ও সদর থানার ওসি আবদুর রবের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিজিএফসিএল-এর কারিগরি দল বাকাইল পৌঁছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাকাইল বাজারে অভিযান শুরুর আগে গ্রামবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। এর পরই বিজিএফসিএল-এর প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু হয়। এদিকে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গ্রামবাসী, শিল্পকারখানার মালিক ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের আগে এ বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। এখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা শিল্পকারখানার মালিক সমিতির সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৫ হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে। তবে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন চাকমা বলেন, আমরা আজকে এখন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। আমাদের সঙ্গে কারিগরি দল আছে। তারা বুঝেশুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। ভবিষ্যতে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাগুলো চলছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে অবৈধ এই কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হোসেন বলেন, কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা সবগুলো পয়েন্টের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী