Home  » অন্যান্য

নাগরিক ঐক্যের আত্মপ্রকাশ, বেশির ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়

Posted-শনিবার, ২ জুন, ২০১২ Time-১০:৪৬ am ◊ বাংলা- ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সাল । বিভাগ-অন্যান্য  

বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম: বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দেশ এখন রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে আছে। এ সঙ্কট হলো আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে। বিরোধী দল চাইছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর সরকার বলছে, তাদের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা। তবে দেশের বেশিরভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। গতকাল ‘নাগরিক ঐক্য’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। আলোচনায় অংশ নেন আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ড. আসিফ নজরুল, আইনজীবী ড. তুহিন মালিক ও রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ সরকার।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক অনুষ্ঠানের আয়োজক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দু’নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিন। জানি সেটা সম্ভব হবে না। কিন্তু এভাবে দু’নেতার বসা নতুন কিছু না। অনেক দেশে এ ধরনের সংলাপ হয়। প্রধান নেতারা এক টেবিলে বসে আলোচনা করেন। একসঙ্গে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানেও যান। তিনি বলেন, এখন দেশবাসীর প্রশ্ন- সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন কিভাবে হবে? এ নিয়ে দু’দলের অবস্থান ভিন্ন। সে ক্ষেত্রেও যদি মাহমুদুর রহমান মান্না উদ্যোগ নেন তাহলে স্বাগত জানাব। তবে অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না দু’নেত্রীর সংলাপের বিষয়ে অনেকটা হতাশা প্রকাশ করেই বলেন, আমাদের সবাইকে এমন চাপ দিতে হবে যাতে তারা একসঙ্গে বসতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে তিনি ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যদি তাদের সংলাপে বসানোর আহ্বান জানিয়ে অনশনে বসেন এবং বলেন, তারা সংলাপে না বসলে আনশন ভাঙবেন না, সে অনশনে যদি ৫০ লাখ সাপোর্ট দেয় তাহলে দেখবেন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দৌড়ে আপনার কাছে আসছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছুদিন আগে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া অনশন করেছিলেন। সেখানে তাকে দেখতে ক’জন লোক গিয়েছে? কিন্তু ভারতে আন্না হাজারে অনশন করেছিলেন লাখ লাখ লোক তাকে সমর্থন দিয়েছে। সরকারও তার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
নাগরিক সমাবেশে অন্য বক্তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, এ দু’দলের রাজনীতির বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে হবে। দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠলে লুটপাটের রাজনীতির অবসান হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম উল্লেখ করে বলেন, মানী লোকদের অসম্মান করাতে সম্মান নেই। কিন্তু সরকার তাকে অসম্মান করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একদিন কথা বলেছিলেন। এরপর তার দলের লোকজন বলেই যাচ্ছেন। সরকার ও সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তাকে নিয়ে কুকথা বলবেন না। অসম্মান করবেন না। তাকে সম্মান দিন। মানী লোককে সম্মানিত করলে দেশও সম্মানিত হয়।
দেশের জন্য কাজ করতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন গ্রামের মানুষ দু’নেত্রীর কাউকে চায় না। এটিই বাস্তবতা। এখন মানুষ নতুন রাজনীতি চায়। এটি চিন্তা করেই রাজনীতিবিদদের কাজ করতে হবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। নির্বাচন স্থগিত করতেই মামলা করে মেকআপ দেয়া হয়েছে। সরকারতো সরাসরি বলতে পারে না যে নির্বাচন করবো না। তিনি বলেন, এখন না হলেও যখনই নির্বাচন হয় ভাল নাগরিককে নির্বাচনে প্রার্থী করতে হবে এবং বিজয়ী করতে হবে। সেটি করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আর না করতে পারলে দেশ আরও নিচে নামবে। তবে আমরা প্রত্যাশা করি দেশ আর নিচে নামবে না।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা দেখে মনে হয় পাঁচ বছরের জন্য লুটপাটের লাইসেন্স নিতে দলগুলো কামড়া কামড়ি করছে। অথচ বাংলাদেশের মতো কম সমস্যার দেশ রাজনীতির খেলায় সমস্যাপ্রবণ দেশ হয়ে উঠেছে। পুলিশের সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় পুলিশের বেতন হয় অথচ এ পুলিশই আমাদের পেটায়। এর কারণ এ বাহিনীর দায়িত্বে থাকা লোক ও মন্ত্রীর অদক্ষতা। সৎ নেতৃত্ব পেলে পুলিশ বাহিনীকে তিন বছরেই ঠিক করা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. পিয়াস করিম বলেন, দেশের রাজনীতি ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে আছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পুলিশি বর্র্বরতা, আইনের অপশাসন। যে দেশে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। উপন্যাস কিভাবে লিখতে হবে তা আদালত বলে দেয় সে দেশে গণতন্ত্র থাকে না। তিনি বলেন, দেশের এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কোন দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্ব এখন দু’নেত্রীর মধ্যে, দু’টি পরিবারের মধ্যে। এমন অবস্থায় শুধু রাজনৈতিক দল দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। নাগরিক উদ্যোগও জরুরি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের পেছনে সকল রাজনৈতিক দলই দায়ী। দেশে আওয়ামী লীগই প্রথম গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরে সকল দলই এ গণতন্ত্রের কবর রচনায় কাজ করেছে। দেশে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
ড. তুহিন মালিক বলেন, দেশের মানুষ এখন আব্বা আর স্বামীর ধারাবাহিকতার রাজনীতি চায় না। নতুন রাজনীতি চায়। নিজেদের শাসন চায়। তিনি ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ মানুষ পরিবর্তনের রাজনীতিকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না দুই নেত্রীর সংলাপের বিষয়ে বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থ মিললেই সংলাপে বসবেন। বাইরের প্রচণ্ড চাপ এলে সংলাপে বসবেন। অথবা, দেশের ভেতরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হলে সংলাপে বসবেন। এর আগে নয়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ বিরক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যদি জনগণের কথা না শুনেন, না মানেন তাহলে দেশের এ এবং বি এর বিকল্প তৃতীয় শক্তি সি’র আবির্ভাব হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নাগরিক ঐক্যের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়, ডিসিসি নির্বাচনসহ নাগরিক সমস্যার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা দাবি তুলবো। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তার সমাধানেও অন্য সবার সঙ্গে সম্মিলিত প্রয়াসে শামিল হবো। এসব লক্ষ্যে নাগরিক ঐক্য নামের সংগঠনের জন্ম ঘোষণা করছি।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!