রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সারাদেশে পুলিশের অশ্লীলতা বেড়ে যাচ্ছে!
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম: গত এক সপ্তাহ পুরো দেশে জুড়ে বেড়ে যাচ্ছে পুলিশের অশ্লীলতা ।যেখানে মানুষ যাচ্ছে সুবিচারের আশায় কিন্তু সুবিচারের পরিবর্তে পাচ্ছে পুলিশী নির্যাতন । বরিশালের হিজলায় পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড় শুরু
হলেও ২৪ ঘণ্টায় সংশ্লিষ্ট থানা কোন মামলা নেয়নি। উপরন্তু ভিকটিমের পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অপর দিকে, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য।
হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের কোহিনুর বেগম এক সপ্তাহ আগে বরিশাল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে একটি পাসপোর্টের আবেদন করেন। এ পাসপোর্টের তদন্ত রিপোর্টের জন্য হিজলা থানা ডিএসবি এএসআই শাহজালালকে দায়িত্ব অর্পণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই পাসপোর্টের তদন্ত রিপোর্টের জন্য এএসআই শাহজালাল কহিনুরকে মোবাইল ফোন করে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে আসতে বলেন এবং তার পারিবারিক বিষয় জানতে চান। কহিনুর তার পারিবারিক অবস্থা জানালে এএসআই শাহজালাল বলে একা ডাকবাংলোতে আসতে হবে। গতকাল সকাল ১১টায় কহিনুর তার মামী জহুরা বেগমকে নিয়ে ডাকবাংলোতে গেলে শাহজালাল মামী জহুরাকে রাস্তা থেকে ঘুরে আসতে বলেন। জহুরা ডাকবাংলো থেকে বেরিয়ে গেলে এএসআই শাহজালাল কহিনুরকে কুপ্রস্তাব দেয়, কহিনুর প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। এ সময় রাস্তায় অপেক্ষমাণ কহিনুরের মামী ডাকবাংলোতে গিয়ে দেখে দরজার বাইরে থেকে তালা ঝোলানো এবং রুমের মধ্যে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান। কহিনুরের মামী রাস্তায় এসে কহিনুরকে উদ্ধারের জন্য চিৎকার করলে স্থানীয়রা ডাকবাংলোতে গিয়ে সামনের গেটে তালা দেখে পেছনের দরজায় নক করে এ সময় শাহজালাল দরজা খুলে দেয়। স্থানীয়রা থানায় জানালে ওসি হিজলা কহিনুর ও শাহজালালকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অনৈতিক সম্পর্কে হাতে নাতে ধরা সিলেটের ওসি

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোমিনের সঙ্গে কলগার্ল সাথীর সম্পর্ক জানতে দেরি হয়নি ঢাকায় বসবাসরত তার স্ত্রী আক্তারুন্নেছা লিজা’র। তিনি থানা কম্পাউন্ডের বাসায় তাই সুযোগমতো হানা দেন। হাতেনাতে অসংলগ্ন অবস্থায় ধরে ফেলেন স্বামী ও সাথীকে।
ঘটনার শেষ এখানেই নয়। গোয়াইনঘাট থেকে ধাওয়া খেয়ে ওসি মোমিন ও সাথী সিলেট নগরীর দরগা গেইটের পায়রা হোটেলের একটি কক্ষে ওঠেন। সেখানেও হানা দেন লিজা। আবারও হাতেনাতে দু’জনকে ধরে ফেলেন। এ ঘটনার পর সেখানে ছুটে যান সিলেটের ডিবি পুলিশের একটি দল। তবে এর আগেই ওখান থেকে পালিয়ে যান মোমিন। খবর পেয়ে পুলিশের আগেই সেখানে ছুটে যান সাংবাদিকরা। দেখেন হোটেলের ভেতরেই সাথীর বোরকার কলারে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাচ্ছেন ওসি’র স্ত্রী লিজা। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে সাথী তার মুখ ঢাকার চেষ্টা করে। তখন লিজা বলে ওঠেন, তোর মুখ দেখা। সাংবাদিকরা তোর ছবি তুলুক। আমার সংসার ভেঙে তোর কি লাভ? এ কথা বললে বলতে তিনি সাথীকে নিয়ে হোটেলের নিচ তলায় চলে আসেন। ডিবি পুলিশের সদস্যরা এরপর সাথীকে নিয়ে ডিবি অফিসে চলে যান।
এ সময় আক্তারুন্নেছা লিজা সাংবাদিকদের জানান, হোটেলে এসেও দেখলাম তারা এক সঙ্গে। ধরা পড়ার পর মোমিন স্ত্রী লিজাকে জানিয়েছেন, সাথীর সঙ্গে কথা বলতে তিনি হোটেল কক্ষে এসেছেন। তবে তিনি আসার সময় বেশি হয়নি। কিন্তু লিজা তার কথা বিশ্বাস করেননি। এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিমকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সিলেট সদর উত্তর সার্কেলের এএসপি বীণা রানী ও পুলিশ পরিদর্শক আবদুল গণি। ডিবি কার্যালয়ে সাথীর সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে সাথী জানান, ওসি মোকসেদুল মোমিনের সঙ্গে তার কয়েক মাসের সম্পর্ক। এ সম্পর্ক গভীর। সে প্রায় সময়ই ওসি’র বাসায় গিয়ে রাত কাটাতো। তাদের সম্পর্কের কথা জানতেন ওসির স্ত্রী লিজাও। এদিকে, গোয়াইনঘাটে আটকের পর ওসি মোমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সাথী তার স্ত্রী। চার বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ওসি মোমিন বিয়ে সম্পর্কে কোন কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে সাথীকে। ছেড়ে দেয়ার সময় ওসির স্ত্রী লিজাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সিএমএম কোর্ট এলাকায় এক নারীর শ্লীলতাহানি
মঙ্গলবার সিএমএম কোর্ট এলাকায় এক কিশোরীকে নিয়ে কয়েকজন পুলিশ যখন টানাহেঁচড়া করছিল তখন কোতোয়ালি থানার ওসি ও এসি মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। বেপরোয়া আচরণ ও আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিব্রত। অবশ্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকেই উল্টো অপরাধী সাজানোর চেষ্টা করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শ্লীলতাহানির সময় কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান, এসি রাজীব আল মাসুদ, বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুক, এসআই জিয়ারত হোসেন, থানার দুই এএসআই নুরুজ্জামান ও আমীর আফজাল বিপ্লবসহ পুলিশের কয়েক সদস্য ভেতরে ছিলেন। কোতোয়ালি থানার ওসি সম্পর্কে লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার বলছেন, তার সম্পর্কে অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ক্যান্টিন বাবুর্চি পারুল: ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ ক্লাব ক্যান্টিনের বাবুর্চি পারুল বলেছেন, ওসি এবং এসি স্যার দু’জনেই মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। ক্যান্টিনের মধ্যে যখন তার বাবাকে পুলিশ পেটাচ্ছিল তখন মোটরসাইকেলের চিপায় আটকে তারা মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছিল। মেয়েটির মা চিৎকার করলে তারা মেয়েটিকে ছেড়ে দেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, স্যাররা ঠিক কাজ করেননি। আমার এত রাগ হয়েছিল, মনে হচ্ছিল বঁটি নিয়ে গিয়ে তাদের কোপাই। ছিঃ, এ কাজ মানুষে করে!








