ফরিদপুরের কানাইপুরে গনধর্ষনের শিকার এক মিল শ্রমিক
জেড জামান, বিজয় নিউজ ২৪ ডট কম, ফরিদপুর ঃ ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের মৃগী গ্রামের ১৬ বছরের এক মিলশ্রমিক পালাক্রমে ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার হাইলোকাঠি গ্রামে হলেও সে গত ২ বছর ধরে ফরিদপুরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকার পার্থ জুট মিলে কাজ করে আসছে। ঘটনার রাতে কিশোরী একই ইউনিয়নের ইব্রাহিমদি গ্রামের অলি ভান্ডারীর বাড়ী থেকে চলিশা অনুষ্ঠান শেষে মামাত ভগ্নীপতি রাজুকে সাথে নিয়ে মৃগী বাসায় ফেরার পথে এ হামলার শিকার হয়। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা নিজেই বাদি হয়ে ৩ জনের নামে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে।
২৬ মে সকালে সংবাদটি পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এবং পূর্ব খাবাসপুর মহিলা উন্নয়ন সংঘের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুন নাহার নাঈম ,বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং ফরিদপুর জর্জ কোটের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যডভোকেট সুচিত্রা সিকদার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এম,এ আজিজ, ফরিদপুর মহিলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ জাহানারা বেগম লিলি কানাইপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমদি গ্রামের অলি ভান্ডারির বাড়িতে যান। সেখানে ভান্ডারীর বাড়ীর জামাই , কৃঞ্চনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজল মাতুববর জানান, গত ২৫ মে তার শশুর হোসেন শেখ এর চলিশা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মৃগী গ্রাম থেকে এসে উক্ত মেয়েটিও অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। অনুষ্ঠান শেষে ভান্ডারীর বাড়ীতে ভাড়া থাকা মফিদুল ইসলাম রাজু মেয়েটির মামাত ভগ্নীপতি শ্যালিকাকে বাসায় পৌছে দেওয়ার জন্য আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে মৃগী গ্রামের জাহিদ বিশ্বাসের ইট ভাটার ভিতর দিয়ে রওনা দেয়। সে সময় কয়েক জন বখাটে ছেলে মেয়েটিকে জোর করে পার্শ্ববর্তী একটি আখ ক্ষেতে নিয়ে যায়। উপায়ন্তর না পেয়ে মেয়েটির ভগ্নীপতি রাজু দৌড়ে একই গ্রামের কফিলউদ্দিনের ছেলে ফজলুর বাড়ীতে যায়। ফজলুকে ঘটনাটি বলার পর ফজলু তার সাথে আরও ২ জনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। সেখান থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষনে এলাকায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন জড় হতে থাকে। সেখানে মেয়েটি উপস্থিত লোকদের নিকট মেয়েটি ধর্ষনের কথা বলে। এ ঘটনাটি কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির মোঃ বেলায়েত হোসেনকে অবহিত করা হয়। ওই রাতেই চেয়ারম্যান ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ঘটনাটি জানালে পুলিশ কানাইপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমদি গ্রাম থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কামরুজ্জামান জানান, মেয়েটির ধর্ষনের ঘটনা এবং বয়স নির্ধারনের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে প্রেরন করা হয়েছে। পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পেতে কয়েকদিন সময় লেগে যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ধর্ষনের অভিযোগে মেয়েটি নিজেই বাদি হয়ে ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ৫৩ তারিখ ২৬/৫/১২। যাদের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তারা হলেন, মোঃ দেলোয়ার , পিতা মজিদ শেখ, সায়হান, পিতা নুরু শেখ, রুবেল পিতা খলিল শেখ।
ফরিদপুরে ১’শ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
জেড জামান, বিজয় নিউজ ২৪ ডট কম, ফরিদপুর ঃ র্যাব-৮, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল সোমবার ভোর সাড়ে ৪ টার সময় শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকা থেকে আব্দুল হালিম তালুকদারের পুত্র মোঃ সাগর তালুকদারকে (৩২) তার বসত বাড়ীর রান্না ঘর হতে ১’শ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছে।
র্যাব জানায়, রাত্রিকালীন টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার মোঃ সাগর তালুকদারের বসত বাড়ীতে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দল ভোর সাড়ে ৪ টার সময় সাগর তালুকদারের বসতবাড়ী ঘেরাওপূর্বক ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ও স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে বসতবাড়ী তলvশী করে তার রান্না ঘর হতে ১টি সাদা পvষ্টিকের বস্তায় ভর্তি ১’শ বোতল ফেনসিডিলসহ সাগর তালুকদারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে উলেখিত ফেনসিডিল বিক্রয়ের জন্য উক্ত স্থানে রেখেছিল বলে জানায়। র্যাব জানায়, ধৃত সাগর তালুকদার অত্যন্ত চতুর ব্যক্তি। সে অত্যন্ত নগন্য বেশভূষায় থেকে বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক বিক্রয় করে থাকে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে ।
চরভদ্রাসনে এক সংখ্যালঘু পরিবার উচ্ছেদের চেষ্টা
জেড জামান, বিজয় নিউজ ২৪ ডট কম, ফরিদপুর ঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বি.এস. ডাঙ্গী গ্রামের মৃত শিরিস চন্দ্র সরকারের পুত্র স্বপন কুমার সরকার(৪২) সহ তার আরো ৪ ভাইয়ের পরিবার উচ্ছেদের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেছে প্রতিবেশী মৃত আমিনদ্দিন দেওয়ানের পুত্র আঃ খালেক দেওয়ান (৬০)। পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া মাত্র ১১ শতাংশ জায়গা ওপর বসতভিটের মধ্যে উক্ত সংখ্যালঘু ৫ ভাইয়ের পরিবারের বসবাস। দখলদার প্রতিবেশী গত ১১ এপ্রিল উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটের ১০ শতাংশ জমির নামপত্তন জারীর আদেশ কর্তন করে মাত্র ১ শতাংশ জমি বহাল রাখা হয়েছে। উপজেলা এ,সি, ল্যান্ড অফিসের ৯২ নং স্বারকে এবং ০৯-পি-১-৪৫/১১-১২নং নামপত্তন ও জমাভাগ কেসের সংশোধিত আদেশ প্রেরন পত্রে উক্ত সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটের ১০ শতাংশ জমির মিউটেশন বাতিল করা হয়।
সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগ, তার বসতভিটের জমি সরকারী খাস খতিয়ানে নিয়ে প্রভাবশালী প্রতিবেশী নিজের নামে লীজ গ্রহনের পায়তারা চালাচ্ছে। এমনকি, প্রতি রাতেই সংখ্যালঘু পরিবারটিকে হত্যার হুমকী সহ এলাকা ছাড়া করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রবীনরা জানান, ১১নং চরভদ্রাসন মৌজায়, ৯৫৮নং খতিয়ানের ৮৪৪৬নং দাগে ১১ শতাংশ জমির ওপর উক্ত সংখ্যালঘু পরিবারের আদি পুরুষদের শত বছরের বসবাস। সম্প্রতী, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল পরিবারটির ওপর চরম জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এলাকা ছাড়া করার হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী এক হাই স্কুল শিক্ষক আঃ কাদের মাষ্টার (৫০) জানান, কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করে হিন্দু পরিবারটি কোনো মতে দিন আনে দিন খায়, আর প্রভাবশালী প্রতিবেশী মোটা অংকের টাকা দিয়ে এসি ল্যান্ড অফিস সহ স্থানীয় মাতুববরদের কিনে রেখেছে বলে মজুর পরিবারটি কোথাও গিয়ে তার ন্যায্য বিচারটি পাচ্ছে না। আরেক প্রতিবেশী মৃত মোঃ দুলাল খানের পুত্র নওয়াব আলী খান (৭৮) বলেন, খালেক দেওয়ান যা করছে সবটুকুই হিন্দু পরিবারের ওপর জুলুম করছে, প্রতি রাতেই প্রভাবশারীরা উক্ত সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালাতে আসছে, আমাদের মতো ক’য়েকজন প্রতিবেশীর সহায়তায় পরিবারটি এখনো টিকে আছে। প্রভাবশালী খালেক দেওয়ান বলেন, আমি ডি.সি.আর. এর বলে হিন্দু পরিবারের ১০ শতাংশ জায়গার দাবীদার। অবশ্য, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এর আদেশ পত্র মোতাবেক চরভদ্রাসন ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার মোঃ খায়রুজ্জামান খলিল স্বরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে উলেখ করেছেন, উক্ত দাগে ডি.সি.আর. মূলে আঃ খালেক দেওয়ান ১০ শতক জমি দখলে আছেন, বাকী জমি পৈত্রিক ওয়ারিশ স্বত্তে স্বপন কুমার ও তার পরিবার বসতভিটেয় দীর্ঘকাল যাবত বসবাস করে আসছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সংখ্যালঘু পরিবারটি পৈত্রিক স্বত্তে ১১ শতাংশ জমির স্বত্তবান মালিক পাশাপাশি ১১টি দাগের ওপর থেকে কিন্তু তারা দীর্ঘ দিন ধরে ১টি দাগের ওপরের জমিতে দখলে আছে বলে আমি স্বত্ত মতে উক্ত পরিবারের ১০ শতাংশ জমির মিউটেশন কর্তন করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দর রশিদ জানান, সংখ্যালঘু পরিবারটি আমার কাছেও একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। বিবাদমান ২ প্রতিবেশী বর্তমানে যে যেভাবে দখলে আছে আমি সেভাবে রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী