Home  » ঢাকা বিভাগ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের নেপথ্যে দুটি কারণ খাকতে পারে -মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি

Posted-বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ Time-৩:০১ am ◊ বাংলা- ১০ ফাল্গুন ১৪১৮ সাল । বিভাগ-ঢাকা বিভাগ  

বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম: পেশাগত ও ব্যক্তিগত দুই কারণে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুন হতে পারেন। এ কথা বলেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর গতকাল বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু তথ্য ধরে তদন্ত করছি। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কিছু কারণ ছেঁটে ফেলে এখন শর্ট লিস্টে নামিয়ে এনেছি। যতক্ষণ না ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত এ সংক্রান্তে কোন তথ্য দিতে পারছি না। এজন্য আরও সময় লাগবে। একই কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। গতকাল দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেটলাইন দিয়ে তদন্ত হয় না। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। এরপর তদন্ত সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস সেন্টারে। সেখানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর ধরে যেসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে তার সব ঘটনাই তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করেছি। আসামি গ্রেপ্তার করেছি। সেক্ষেত্রে কোন মামলায় ২ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা আবার ২ মাসও লেগে গেছে। সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি হত্যাকারীদের একজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অর্থাৎ একেক ঘটনায় একেক রকম সময় লেগেছে। এখন এই হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত করছি। ডিবি পুলিশের দু’টি বিভাগের সেরা সেরা অফিসার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছেন। কেন ও কিভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করছি। আমরা আশাবাদী এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারবো। হত্যাকাণ্ডে তানভীর ও তৌশিফ নামে দুই ব্যক্তি জড়িত কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের সরাসরি কোন জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য খুনি কারা হতে পরে, এর একটি তালিকা করা হয়েছে। ঘটনার মোটিভ জানার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ২০-২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সম্যক ধারণার জন্য এর বাইরে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি। সাংবাদিক দম্পতি যে অ্যাপার্টমেন্টে খুন হয়েছেন ওই ভবনের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম নিহত দম্পতির পশ্চিম রাজাবাজারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই ভবনে প্রায় ঘণ্টা খানেক তিনি অবস্থান করেন। এ সময় তার সঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন সহকারী কমিশনার ছিলেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিহত দম্পতির বেডরুম, রান্নাঘর ও রান্নাঘরের জানালার কাটা অংশ পরীক্ষা করেন। এছাড়া ভবনের পেছনে অবস্থিত ডাস্টবিনের ভেতর নতুন কোন আলামত পাওয়া যায় কিনা তার সন্ধান করেন। এ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এ পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি তা যাচাই-বাছাই করার জন্যই ওই বাসায় গিয়েছিলাম।
সাংবাদিক সমাবেশ: নিহত সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে সাংবাদিক নেতারা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার পর ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই শ’ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্টো তদন্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা চতুরতা ও লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে সারাদেশে স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সাংবাদিকদের সকল সংগঠন একই দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজে সভাপতি আবদুস শহিদ ও ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন ও শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ৫৮/২/এ নম্বরের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!