পরিবেশ ও বন আইনের তোয়াক্কা করছে না কেউ : আলীকদমে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে হাজার হাজার মণ কাঠ
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি : পরিবেশ ও বন আইন নীতিমালার কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে যার যার ইচ্ছা ও মর্জি মাফিক বন ধ্বংসের প্রতিযোগীতা করে হাজার জাহার মণ কাঠ পুড়ে ইটভাটার জ্বালানী করলেও বলার কেহ নেই, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। উপজেলায় স্থাপিত ইট ভাটাগুলোতে কয়লা নয় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অনুমতির বিধান আছে কিন্তু নেয়ার প্রয়োজন নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির। সরকালী সকল বিধি-বিধানকে অমান্য করে ইটভাটা মালিকরা বসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করে দিবিব বছরের পর পছর ব্যবসা করছে। ইট ভাটার সিংহভাগ জ্বালানী সংগ্রহ করা হচ্ছে নির্মাণাধীন আলীকদম-থানচি সড়কের আশেপাশের বনাঞ্চল হতে।
জানাজায়, পরিবেশ ও বন আইনের সকল বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে এ উপজেলায় গড়ে উঠেছে ২টি ইটের ভাটা। ইটভাটাগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতিপূর্ণ এলাকায় পাহাড় কেটে মাটির সংস্থান করে। ইট ভাটাগুলো কয়লার ব্যবহার ছাড়াই নির্বিচারে বন এলাকার কাঠ পোড়ানোর ফলে এ উপজেলার পরিবেশ হুমকীর মুখে পড়ার আশংকা সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, জনসাধারণের চলাচলের রাসত্মায় ভারী যানবাহন চালিয়ে চলাচল রাসত্মার ক্ষতিসাধন করছে ইটাভাটা মালিকরা।
দু’টি ভাটায় ইট পোড়াতে কয়লার পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এ ব্যাপারে বন বিভাগ অজ্ঞাত কারণে না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ইট ভাটা মালিকদের জরিমানা করেছে। তবে জরিমানা করার পরদিন থেকে আবারো ভাটা কাঠ পোড়ানো শুরম্ন হয়। কাঠ পোড়ানোর ফলে উপজেলার আশে পাশের সবুজ বনাঞ্চলে আশংকাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে প্রাণী বৈচিত্রের জন্যও হুমকী সৃষ্টি হচ্ছে।
ইট ভাটা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ভ্যাট প্রদান করে জেলা প্রশাসকগণ ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি ও লাইসেন্স নবায়ন করবেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রে ১২০ ফুট উঁচু কংক্রিটের তৈরী চিমনি স্থাপনের প্রত্যয়ন পত্র ও ভ্যাট সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন- ২০০১ এর ১৭ নম্বর ধারায় ইট ভাটার লাইসেন্স প্রদানের ÿমতা জেলা প্রশাসকের। তিনি ইট ভাটা পরিদর্শন করবেন বা তার সম মর্যদার যে কোন কর্মকর্তা পরিদর্শন করবেন। ইট পোড়ানো আইনের ধারা ৪৬৫এর উপধারায় বলা আছে আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফলের বাগান, বনাঞ্চল, লোকালয় ও জনবসিত এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবেনা। সর্বোচ্চ দেড় একর জমিতে নদী খালের ধারে ইট ভাটা স্থাপন করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। আলীকদম উপজেলায় এসব আইনের কোন বালাই নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে আলীকদম-থানচি রোড থেকে বেপরোয়া হারে লাকড়ি কাটা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় সম্প্রতি থানচি রোড এলাকার একটি ক্ষতিগ্রসত্ম বাগান পরিদর্শণ করতে গিয়ে লাকড়ি কাটার চিত্র দেখতে পান। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অবৈধভাবে লাকড়ি কাটার বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে লামা বন বিভাগের তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, তার দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। যেখানে ২০/২৫ জন স্টাফ প্রয়োজন সেখনে আছে ৬/৭ জন। লাকড়ি কাটার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন মূলত: জনবল সংকটের কারণে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।








