গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন
রেদওয়ান, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য্যের মধ্য দিয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা একুশে ফেব্রুয়ারী উদ্যাপন করা হয়েছে।জানা গেছে, গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পৃথক পৃথক কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। এছাড়া উপজেলা স্বদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আব্দুল মজিদ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সংগঠনের সভাপতি জয়ন্ত সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাদেকুল ইসলাম দুলাল, রেজাউল আলম রেজা, অধ্যক্ষ গোলাম আজম খাঁন, নুরে আলম মানিক প্রমূখ। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসন দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা ইউএনও দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা বেগম কাকলী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাসান আতিকুর রহমান, লায়েক আলী খান মিন্টু প্রমুখ।
সুন্দরগঞ্জে চরাঞ্চলে নামেই মাত্র প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে নামে মাত্রই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী চলছে।
উপজেলার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বিধৌত এলাকায় সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী কেবল সংশিষ্ট বিভাগের নথি পত্রেই সীমাবদ্ধ। প্রকৃত পরিস্থিতি একবারে অন্যরকম। শিক্ষকরা নিয়মিত ভাবে স্কুলে থাকেন না। স্কুল চালান মাসিক বদলি চুক্তিতে অন্য বেকার শিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত যুবক-যুবতী দিয়ে। পরিদর্শন কর্মকর্তা কালভেদে উপস্থিত হলেও নিবির পর্যবেক্ষণের অভাবে বিদ্যালয়গুলোতে চলছে শিক্ষার বেহাল দশা। চরাঞ্চলের বেশিভাগ শিশু স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। উপজেলার তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বেষ্টিত হরিপুর, বেলকা, তারাপুর, চন্ডিপুর, কাপাশিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে এখনো তাদেরকে উদ্ভুদ্ব করা হয়নি। এছাড়া চরাঞ্চলের ভুইয়া বোচাগাড়ী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত বন্যার সময় স্থানান্তরিত করা হলেও অদ্যাবধি তা স্থাপন না করে এবং কোন প্রকার পাঠদান না দিয়ে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের মদদে যোগাইয়ে ৯ মাস থেকে ৪শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা ও উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলন করে আসছেন। এদিকে বাতাসুরজান রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদুল আলম প্রামানিক দীর্ঘ ১০ বছর যাবত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেও শুধুমাত্র বদলি শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। উজান বুড়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩জন শিক্ষক থাকলেও ১জন শিক্ষক অন্যত্র চলে গিয়ে ঐ স্থলে বদলী শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের বেশিভাগ শিশু হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। এদেরকে বিদ্যালয়ে নেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় চরাঞ্চলের বেশিভাগ শিশু স্কুলে ভর্তি হয় না। দারিদ্রতার গ্রাসে একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়ে আয়-রোজগারের পথে। এ ধারাবাহিকতায় ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া শেষ না করে অকালে ঝড়ে পড়ছে। যাদের নাম খাতায় আছে, তাদের উপস্থিতি অনেক কম। চরাঞ্চলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী অনুপাতে শিক্ষক-শিক্ষিকা অপ্রতুল। বেশিভাগ স্কুল চলছে ২/১জন শিক্ষক দিয়ে। এই শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। দূর দূরান্তের যে সব শিক্ষিকাকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে তারা সপ্তাহে ২/১ দিনের বেশি স্কুলে আসেন না। বদলী শিক্ষক দিয়ে সেই সব স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। এলাকার স্বল্প শিক্ষিত বেকার, যুবক, যুবতী দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার সাথে মাসিক ২/৩ হাজার টাকা চুক্তিতে বদলী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা মাসে ৪/৫ বার স্কুলে উপস্থিত হয়ে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এভাবে মাসিক রিপোর্ট দাখিল করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং এমন ধরনের সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।








