খনন কাজ সম্পন্ন : খুলনায় কবি গুরুর পূর্ব পুরুষের বসতভিটার সন্ধান লাভ
শিমুল খান,বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম , খুলনা : এবার খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষের বসতভিটার সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি খুঁজে পেয়েছে খুলনা বিভাগীয় প্রতত্নতত্ত্ব অধিদফতর। ইতিমধ্যে ৯ দশমিক ৩৫ একর জমির ওপর নির্মিত বসতভিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ির বসতভিটার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিলো। এই স্থানটি এখন দেশের পুরার্কীতির ক্ষেত্রে যেমন একটি নির্দশন, তেমনি পর্যটন স্পট হিসেবেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
খুলনা প্রতত্ত্ব অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে বিশ্বকবির পূর্ব পুরুষের বসতভিটার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। এরপর থেকে খনন কাজ শুরু হয়। দক্ষিণমুখী তিনটি কক্ষের সমন্বয় নির্মিত একতলা বিশিষ্ট এই বসতভিটায় একটি বারান্দা রয়েছে। বারান্দা অতিক্রম করে কক্ষগুলোতে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া একটি সিঁড়ি ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনটি কক্ষের মধ্যে মাঝখানের কক্ষটি ২১ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা ও ১০ ফুট ৮ ইঞ্চি চওড়া। অপর দুটি কক্ষ সমপরিমাপের। যা ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা এবং ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি চওড়া। ভবনটি সমতল ভূমি থেকে চার ফুট উঁচুতে নির্মিত। এছাড়া বারান্দার পূর্বপাশে ৯ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা এবং ৭ ফুট ৯ ইঞ্চি চওড়া একটি সিঁড়ি ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সূত্রটি আরো জানায়, ভবনটি ইন্দো-ইউরোপিয় উপনিবেশিক স্থাপত্য শৈলীর আদলে নির্মিত। ভবনের সমতল ছাদ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে লোহার বিম, কাঠের কড়িবর্গা ও টালি ইট।
খুলনা বিভাগীয় প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক শিহাব উদ্দিন মোঃ আকবর সাংবাদিকদের জানান, ভবনের নির্মাতা ও নির্মাণ ইতিহাস সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে কবি গুরুর পূর্ব পুরুষ কুশারী বাড়িতে নির্মিত এই পাকা ভবনটি কুশারী পরিবারের অধস্তন পুরুষ তারিকানীকান্ত কুশারী উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কোনো এক সময় নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই খনন কাজে অংশ নেয়। ভবনটি সংরক্ষণের জন্য অধিদফতরের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। ভবনটি সংরক্ষিত হলে এ অঞ্চলে পুরার্কীতির আরেকটি নির্দশন যেমন বাড়বে তেমনি পর্যটকরাও এই নির্দশনের ওপর আকৃষ্ট হবেন।








