Home  » খুলনা বিভাগ

কুষ্টিয়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিং! বাড়ছে দুর্ঘটনা

Posted-বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ Time-১:৫২ am ◊ বাংলা- ১০ ফাল্গুন ১৪১৮ সাল । বিভাগ-খুলনা বিভাগ  


রাসেল আহমেদ, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, বিশেষ প্রতিনিধি  : কুষ্টিয়ায় বেশির ভাগ রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকার কারনে প্রতি নিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। অরক্ষিত রেলক্রসিং এর কারনে বেশির ভাগরাই দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে মৃত্যু বরণ করছেন। কারো কারো ভাগ্যে আবার সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। অথচ স্বাধীনতা পুর্ববর্তী সময় হতে একের পর এক মৃত্যু হলেও এ সকল রেলক্রসিং এর কোন ব্যাবস্থা করা হয়নি। রেলক্রসিং না থাকায় দৃর্ঘটনায় নিহতের মিছিল বাড়লেও সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর নিরব ভুমিকা পালন করে আসছেন। সম্প্রতি মিরপুর স্টেশনে মাহিয়া নামের এক মেধাবী ছাত্রীর মর্মামিত্মক মৃত্যু হয়েছে। রেলগেটের কিছু স্থানে ব্যারিয়ার ওঠা-নামা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক থাকলেও অনেক সময় রাতের বেলায় তাদের কাউকেই পাওয়া যায় না। ফলে রাতের বেলায় অনেক গেট থাকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার ১০টি স্টেশনের বেশির ভাগ রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকে। আবার কিছু স্থানে সিঙ্গ জন রেখেছেন দায়সারা ভাবে। রেলক্রসিং এর দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তারা ৮ ঘণ্টা সিফট করে পালাক্রমে ডিউটি করেন। এর পরেও লোকবল সংকটের কারনে হিমসিম খেতে হয় ।

কুষ্টিয়ার ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান এর খবর কেউ রাখেনা

রাসেল আহমেদ, বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম, বিশেষ প্রতিনিধি  :

নিভৃতচারী এক ভাষা সৈনিকের নাম খলিলুর রহমান (৮০)। সকলের প্রিয় ব্যাক্তিত্ব, সদা হাস্যজ্জ্বল খলিল স্যার। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাইএর আন্দোলনের ছাত্রনেতা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার খলিলুর রহমান,র খবর আজ আর কেউ রাখেনা। তিনি বর্তমানে বয়সের ভারে ক্লামত্ম।

১৯৫১ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মিছিল, মিটিং এ অংশ গ্রহণ করেন তিনি। তৎকালীন সময়ে তিনি জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল মিটিং এর নেতৃত্ব দিতেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রয়ারী ঢাকা কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে ছিল তখন তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ভাষা শহীদরা গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়লে তিনিও অন্যান্য ছাত্রদের সাথে পুলিশের তাড়া খেয়ে নিরাপদ স্থানে আত্মগোপন করেন। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। পরদিন ২২শে ফেব্রয়ারী মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। বয়সের ভারে নুয্য খলিলুর রহমান সে সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও স্মৃতিপটে ভাষে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রয়ারী সেই দিনটির কথা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে দীর্ঘ ৬০ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন। কখনই বলেননি তিনি একজন ভাষা সৈনিক।

আত্ম প্রচারে বিমুখ ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান র সাথে কথা হলে তিনি আবেগজড়িত কন্ঠে জানান, আমি বাঙালী জাতি ও বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি, এটা বহুল প্রচারের কিছু নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর মূল্যয়ন করবে। অনেক পিড়াপিড়িতে তিনি ভাষা আন্দোলনের অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করেন। ধর্মভীরু খলিলুর রহমান ফটোসেসনেও অংশ নিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন। ফটো তুলতে যদি গোনাহ হয়, তবে সে গুনাহার দায় আমরা নিব মর্মে কথা দিলে তিনি একটি মাত্র ফটো তুলতে রাজি হন। ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পর নিভৃতচারী, প্রচার বিমুখ, পরহেজগার ব্যক্তির মুখে ভাষা আন্দোলনের অজানা তথ্য পেয়ে জাতি আজ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সমৃদ্ধ হবে। ভাষা আন্দোলনের সৈনিকদের তালিকায় আরো একটি নাম আজ হতে সংযাজিত হলো।

শিক্ষা জীবন শেষে তিনি সুনামের সাথে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। ভেড়ামারার কৃতি সমত্মান ডাঃ বাবর আলী র জ্যৈষ্ঠ সমত্মান ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান ১৯৯১ সালের জানুয়ারী ভেড়ামারা বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি এক পুত্র ও তিন কন্যা সমত্মানের জনক।

Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Share on Facebook!Seed Newsvine!Reddit!