কবি মকলেছুর রহমান টুটুলের ১০টি সনেট কবিতা
এই জনপদে
মকলেছুর রহমান টুটুল
০১৭২৭-৪৭৫২৯৮
কত প্লাবন বইলো এই জনপদে
সহ্য ক্ষমতা কারো যে নাই তারিমত
ভাঙ্গিয়াও পড়ে নাই সে শত বিপদে
দেখো এ ভূমের শীর কতটা উন্নত
বঙ্গ পুন্ড্র রাঢ় গৌড় হরি সমতটে
মোদের গড়িয়া তুলি দিল বাসভূমি
বার ভূঁইয়া করিল ভাগ বঙ্গ কেটে
কত দাপট, শোষন, সহ্যিল এ ভূমি।
কত দাম, বিনিময়ে পেলুম বঙ্গকে
খোলা আকাশ মুক্ত বাতাস, স্বাধীনতা
কত পরাণ দিলো ভালোবাসি দেশকে
ঋণী করে গেছে ত্রিশ লাখ রক্ত দাতা
অকুতভয় সেনা এখনও প্রস্ত্তত
ঢালিয়া দিতে অন্যায়ে অকাতরে রক্ত।
রুপসীর কারুকাজ
মকলেছুর রহমান টুটুল।
বসন্তকাল গাছ-পালা যেন সাজিছে
নিজ খুঁশিমত নব বধু সাজ তার
বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতায় নামিছে
কারো সাথে তুলনা হয়না রুপসীর
কোন শিল্পী রাম ধনু সাত রং দিল
প্রকৃতির দান অপার, বিধাতা দিচ্ছে
এমন বনলতা নাই খোঁজ ভূ-গোল
শতরূপা বর্নীল সাজ করিয়া নিচ্ছে।
কাল-বৈশাখী আসছে পালাও কোথায়
সেতো তেড়ে নিয়ে যাবে পুরাতন জ্বালা
এই পর্বনেই বাঙ্গালীরা এক হয়
শুরু হবে হালখাতা উৎসব পালা
বঙ্গমার ভালোবাসা নব-বর্ষে আজ
মেলেছে শাখা তা রুপসীর কারুকাজ।
একজন মুক্তিযোদ্ধা
মকলেছুর রহমান টুটুল।
মা, মাটি, মানুষগুলো, দেশটা মোর প্রেমের পাত্র
যেমন ভালবাসে ছেলেকে তার সে গর্ভধারিণী
ছাপান্ন হাজার মাইলে মোর জান দেবারি ক্ষেত্র
অশনি সংকেত বাজুক, ভূমিকা মোর অগ্রণী।
যত অসুভ শক্তি, দেশ দ্রোহী, সাম্রাজ্যবাদী দল
দখলে নিতে চাও মোদের ভূ-খন্ড। থাকো আশা-ই
জানি কিভাবে করতে হবে তোদেরকে পদতল
আমি মুক্তিযোদ্ধা লড়ব শত্রু সংগে হব জয়ী।
বায়ান্নতে যারা রক্ত দিল তাদের শ্রদ্ধা জানাই
জয়ের মন্ত্রটি আমি শিখেছি তাদের কাছ থেকে
বলল সে মায়ের মত দেশকে ভালোবাসো ভাই
তাদের মত করেই তৈরী করে রেখেছি নিজেকে
একাত্তুরে লড়েছি রক্ত দিয়েছি আরো রক্ত দেব
চিরদিনী স্বাধীন বাংলার মান অটুট রাখব।
ভাষার জন্য
মকলেছুর রহমান টুটুল।
মোরা ভাব প্রকাশি সে ভাষাটা আ-মরি
রক্তেরী দান কত ক্ষণজন্মা লোকের
রফিক সালাম বরকত জববার
ওদের জন্যেই হলাম মর্যাদাধারী
বিশ্ব মানচিত্রে তাই ২১শে ফেব্রুয়ারী
স্থান নিল। মাতৃভাষা দিবস সবার
মাথা উঁকিয়ে আছে ঐ শহিদ মিণার
দেখো ঐ জীবন্ত ভাই আছে শিখা ধরি।
আসে ফেব্রুয়ারী ডাকে শহিদ মিণার
শীর নতঃকরি মোরা সালাম জানাই
ভাষার লাগি প্রাণ দেয়া অনন্য নজীর
এখানেতে কত সৈনিক অকুতভয়
বিশ্বসেরা এ ভাষা তাই গর্ব আমার
বিপদেতে মোরা এক ডাকে জড়ো হই।
প্রকৃতি ও নারী
মকলেছুর রহমান টুটুল।
কী বর্নিল শোভাযাত্রাতে ললনা তুমি চলো
কী অপলোক, পড়েনা পলক, ঝিলিক নাচ
ঈশান কোণে রোদ হাসে ঝিকিমিকি দেখিতে
তোমার শোভা যেন আরোপিত নতুন সাজে
তাতে মনোরম পরিবেশ, ক্ষণটা সকাল
সোনাপাড়ি সাড়িতে লাগে তারে স্বচ্ছ কাঁচ
কত পাগল পারাই মশগুল তার হতে
সুজন সে ব্যস্ত তোমারে পাবার কারুকাজে।
গাঁয়ের মেয়ে চলন এমনি, মেলেনা শহুরে
বসন্ত সাজে প্রকৃতির শোভা নিয়ে সে ফিরে।
ষোড়সী যৌবনার রুপেই পাগল হয়যে
মনটাও পবিত্র বোঝা যায় চলন ভাঁজে
প্রকৃতি ও নারী? চোকিতে মনটা নাহি ভরে
কবিরা বলে এখানে আবার আসিব ফিরে।
জননীর কোল
মকলেছুর রহমান টুটুল।
এ বঙ্গভূমি আমার কোমল জননী
কত রাক্ষোস, লুটেরার দল হা- গ্রাসী
লুটে নিতে এলো ভূমি,আমারা মানিনী
আবাল বৃদ্ধ উত্তোলন করেছি অসি।
মোরা একই কাতারবদ্ধ, আপামোর
তাই আর্য, তুকী, ফিরিঙ্গি, ব্রিটিশ আরো
পাকিস্তানী হায়েনারাও পাইনি পার
লেজ তুলে পালালো ওদের ধরো ধরো।
মোরা জানি রক্ষা করতে মা’র আঁচল
দেখি কিভবে তোর স্তনের বৃন্ত থেকে
ঝরছে দুগ্ধ ফোটা। তোর ছেলে পাগল
জান দেবো মাগো, রক্ষা করবোই তোকে।
জননী তোকে প্রাণের চেয়ে ভালোবাসি
যেন বার বার জন্মে তোর কোলে আসি।
অন্তঃপুরবাসিনী
মকলেছুর রহমান টুটুল।
ওগো, আড়ালে থাকা অন্তঃপুরবাসিনী ;
তুমিই রয়েছ আপনাতে নিজগৃহে
কিভাবে যে সহ্য কর তাপ গৃহদাহে,
ঝুঁকিপুর্ণ জীবনে অবরোধবাসিনী
দেখা যে যায় তীক্ষ্ণ রক্তিম বর্ণ অগ্নি।
ঐ জালানা দিয়ে বেরিয়ে আসে উত্তাপ
আমার নিজ ঘর হিমেল নিরুত্তাপ
দেখবে আলো ঝলমল, হলে গৃহিনী।
তোমা ঘর হতে খানিক দূর এ পূরী
আসো তুমি, বাসা বাঁধো তুমি, এ দুয়ারে
সীমাবদ্ধতার সব বেড়াজাল ছিঁড়ে
এসো বিধি নিয়মে, আছিও আমি তৈরী।
শুধু শুধুই আশার আলো দেখাইনি
জানি, কিভাবে সুখেতে থাকে অর্ধাঙ্গীনি।
বাংলা মায়ের জনম কাহিনী
মকলেছুর রহমান টুটুল।
এই প্রগাঢ় শ্যামলের বনবনান্ত ;
নদী-নালা, সাগর জলে আমিষ্ট সুধা
এই আমার লিখিত ভূ-খন্ড, উম্মুক্ত,
এ জমিনে এখন আমারি আধিপত্য।
বর্গী ধান রেখে গুড়ো নিয়ে পালিয়েছে
নীলকররা নীলে পড়েছে বেড়ী বাঁধা
পাকিস্তানীরা দুই পা’র লাথি খেয়েছে
মুষ্টি আর বাঁশ দিয়ে করেছি পরাস্থ।
এ বঙ্গকে আমরাই বানানু স্বাধীন
সোনার মাটি, সম্পদ ভান্ডার মোদের
দাম দিয়ে কেনা, কারো কাছে নাই ঋণ
সবুজ, মাঝে লাল, গর্ব স্বাধীনতার।
সোনার দেশের সোনার মানুষ নিয়ে
বাংলাদেশটারে রাখবো আগলিয়ে।
এত টুকুই আশা
মকলেছুর রহমান টুটুল।
জল নিতে গিয়া প্রিয়া, বসে আছে ঘাটে ;
যৌবনের জল গড়িল ভরা যৌবনী
দূরের বন্ধু সুজন, প্রিয় সে আসেনি,
তার অপেক্ষাপর, সূর্য নামিল পাটে,
বিরহ ব্যথা নিয়া বুকটা তারি ফাটে।
এমনও ক্ষণে পাখিরাও নীড়ে ফিরে
কত কপোত-কপোতী যায় অভিসারে,
গল্প ও গান, খেলায় থাকে তারা মেতে।
পিরীত রকম অন্ধকার! সে বুঝিল
ছ’মাসি রোগী ছাপ পড়েছে তার দেহে
শুকনা মুখে সে সুখের গান ভুলিল
পুড়িল যে পরাণ ব্যথার তাপদাহে
সখিরা সুখ মিলাতে নাহিগো আসিল
এখনো পথপানে চেয়ে আছে আগ্রহে।
গর্ব গর্ভে
মকলেছুর রহমান টুটুল।
যে ভাবে নদী বয় তা নিজে বাধা পায়
নিজে প্রবাহিত করে ধারা ভিন্নগতি,
আমিষ্ট করেনা প্রেম হারা মিষ্টি প্রিতী
ছুটে চলে অবিরাম বাধে মোহনাতে-
পলকে দেখি গতিটা কোথায় পালায়
প্রেম সাম্পান ভাসালাম তারে থামাতে।
গর্ভে তরীটা ভিড়াব পালাবে কোথায়,
তোমার পছন্দ দেখব মিলে তোমাতে।
তুমি যে ধারাতে শীতল, করো নাচন
আমি তোমারে ঝর্ণা হয়ে দেখাব গর্ব,
শান্ত ছন্দে নেচে করব বুকে শাসন ;
আমি না এলে শুকনা রবে তোমা গর্ভ
তুমি যে ধারা, গতিতে চলো ভাগ্যভালো,
পাহাড় নিচে ঝর্ণা নামায় তাই চলো।
কবি মকলেছুর রহমান টুটুলের কবিতা গুচ্ছ
আমাদের রবি
মকলেছুর রহমান টুটুল।
০১৭২৭-৪৭৫২৯৮।
এক রবির উদয় হয়েছিল
সার্ধশত বছর আগে
এই প্রগাঢ় শ্যামল সম্ভারে,
এই বাংলারই বারান্দায় পড়েছিল তাঁর
দুনিয়া আলোক্করা
সাদা তীক্ষ্ম আলো।
আরও লাল, রক্তিমবর্ণ বিচ্ছুরিত কিরণে
আলোকিত হল সারা বিশ্ব।
এ রবি অস্তমিত হবার নয়
শুধু দিন নয়, রাতকেও আলোকিত করেছে রবি।
ক্ষণ-কাল-মহাকালেও রয়েছে তাঁর
একই রকম আলোর বিকিরণ।
বিশ্ব চিনলো বাংলাকে,
বাঙ্গালীকে, বাংলা ভাষাকে,
আপামোর সাধারণ তাকিয়ে দেখলো
সেই রবিকে, চিনলো রবিকে, বুঝলোও রবিকে।
১৯১৩ সাল-নোবেল কমিটি কর্তৃক
রবি পেলেন নোবেল পদক
আমাদের রবি হল বিশ্বজয়ী।
বাংলার বুকটাও প্রসারিত হল
তাই মোরা গর্ব করে বলি
বিশ্বের মাঝে মোরা গর্বিত বাঙ্গালী।
আমাদের আছে একজন
কালজয়ী,ক্ষণজন্মা
অনির্বাণ রবি,
তিনি আমাদের বিশ্বকবি।
ফাগুনের রূপ
মকলেছুর রহমান টুটুল।
আসল ফাগুন গাছপালা মেললো শাখা-প্রশাখা
ঠিক যেন নববধু সাজ তার।
কী সুন্দর মনোরম পরিবেশ প্রকৃতির
আড়িপাতা চাহনি তার
হাত বাড়িয়ে থাকে, আর বলে ইশারায়
হলোনা হলোনা, আরো আরো সাজিয়ে দাও,
রং ছড়াও রং ছড়াও, লাল, নীল, সবুজ
রং দিয়ে হলিখেলো, রঙের মাঝে ডুবো,
রংতুলিতে রংতুলো চিত্র শিল্পী।
কিন্তু শিল্পী বলে ভারাক্রান্ত মনে
প্রকৃতি, আমি তোমাকে আরো সাজাতে পারি
কিন্তু কখনো বলোনা লাল রংলাগাতে
ও রং বহুত খরচ করেছি
কেন তুমি জাননা? দেখনি?
সাতচল্লিশ থেকে বাহান্নতে,
ও রঙেই তো রঞ্জিত হয়েছিল
ঢাকা সহ সারাদেশের রাজপথ গুলো।
রফিক, সালাম, বরকত, জববার, শফিউরে
ওই রঙদিয়ে যে ছবি এঁকে গেছেন
বিশ্বের কোন শিল্পীই কী এমন
কালজয়ী তুল্য ছবি আঁকতে পেরেছে বলো?
ফাগুন এসেছো, নিজের রুপ নিয়ে খুঁশি থাক
কারণ তোমাকে সবুজ, নীল, হলুদেই ভালো মানাই।
তোমার রুপ ও বাংলার রুপ একই রুপ
তোমার ও রুপ যেন কোনদিন বিলীন না হয়।
রাত বিরাতে
মকলেছুর রহমান টুটুল।
ডাকলে যখন
রাত তখন
তাহলেতো করতেই হবে দেখা তোমার সাথে।
অনেক পর
হবে ভোর
কপোত-কপোতীরা তখনো আছে ওঁৎ পেতে।
রাত পোহাবে
সকাল হবে
তখন মনেতে সূর ওঠে প্রথম প্রভাতে।
একটাই কারণ
দুটিই এক পরান
সারারাত কাটালামও প্রেমগীতে।
থাকেই ক’জনে
নিবিড় নির্জনে
গল্পগান আর খেলার ছলে মেতে।
আমরাই দু’জন
করি কুহুকুজন
নিশি কুটুম আমরাই রাত বিরাতে।
কবির মনটা এমন
মকলেছুর রহমান টুটুল।
সাগরের তরঙ্গসম তাঁর
ঢেউটা ওঠে বুকের এক কোণে
কুনকুন ঝুন ঝুন বাঁশী বাজে
যে কবি সেই তা শুনে।
জগতটাই তাঁর কাছে সাজানো বাগান
সে ঐ বাগানের সুগন্ধী ফুল
মনে থাকে মনোরম পরিবেশ
তা খুঁশির ঢেউয়ে হয় টলমল।
দুঃখ যন্ত্রনা খুবি সে সয়
জীবনটা সাজাই মনের মতন
খারাপী ভাব থাকেনা মনে
সকল কবির মনটা এমন।
বিজয়িনী তুমি
মকলেছুর রহমান টুটুল।
বিজয়িনী তুমি-
আর হাসিওনা বিজয়ের হাসি
বুঝতে পারছনা একেবারেই তুমি
তোমার হাসিটা পুরোপুরি একপেশি।
আমাকে ভালবাসার দৌরাত্বে হারায়ে
চোখের নীড়ে বর্ষাকাঁদন ঝরায়ে
নিজে থাকতে চাওযে খুবি হাসিখুশি।
আমার হৃদয় গম্ভুজে চলছে দাবদাহ
বুকের সাহারায় খুবি পানির টান
তোমারি প্রেমসুধা করতে চাই পান
করছি আবার আগ্রহ।
ঘরছাড়া পথিক যেমন-
পথের মাঝে পথ হারায়ে নীড়ে ফিরে আসে
গৃহের মায়ায় গৃহবাসীকেই ভালবাসে
তারিমত আমায় কর তুমি আপনের চেয়ে আপন।
স্বাধীন বাংলাদেশ
মকলেছুর রহমান টুটুল।
যে ফুল এখনও টিকে আছে
শত আঘাতে ঝাঁকানিতেও একটিও পাঁপড়ি ঝরেনি
অন্ধকারে ধুলোয় লুটোইনি এখনও
যে মাটি বার বার আঘাতেও অক্ষয়
দম্ দমা দম্ স্ট্রেনগান, গ্রেনেড, মেশিনগান, স্ট্র্যাং
মা, মাটি, মানুষকে জর্জড়িত করেছে
তবুও এখনও রয়েছে স্টীল
যে রুপ ঊষার বিলের বৃহৎ এলাকা জুড়ে
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থেকে সীমানা নির্দেশ করে তালগাছ
তেমনি বিশ্বের মানচিত্রে এখন বাংলাদেশ।
এক হাঁটু জল
মকলেছুর রহমান টুটুল।
নতজানু আমি গায়ে মেখে কাদাজল
হাঁটু জলে নেমে ধুয়ে নেব
সেখানেই আমি রব
যেখানে ফোটে নানা রকমের কোমল।
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে বকেরা এক পায়
ঘুমটি দিয়ে থাকে মাছের আশায়
সেখানে আমি দাঁড়িয়ে রব ঠাঁই.
সেখানেই আমি রব।
এখন হাঁটু জলে নামতেই ভয় হয়
সামনে মহাসমুদ্র পাড়ি পাওয়া বুঝি দায়
সামনে এগুবো না পিছু ফিরব
না জলের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসব।
দেখিনা সামনে এগিয়ে, কতটুকু জল
দেখি,যত দূরেই যায় শুধুই এক হাঁটু জল।
ক্ষ্যাপা পথিক
মকলেছুর রহমান টুটুল।
পার হয়ে গেছে দিবস রজনী যেভাবেই
ছুঁড়ে দিয়েছে অতীতের সবকিছু
কত বাসনা, কতযে আশা,
কত ভালবাসা সব ড্রেনের ডাস্টবিন এখন।
ক্ষুদার্থ মরমর অবস্থা কঙ্কাল
এখনও মরেনি দিশেহারা ক্ষ্যাপা।
সভ্যতার ফসলের মাঝে ধরনীতে এখন
তিন পায়ে হেঁটে চলে পৃথিবীর পায়ে
ঘুর ঘুরা ঘুর ঘুরছে লাটিম হয়ে
মেরুদন্ডটা সোজা করে দাঁড়াতে চাই
দুঃখ যাদের জীবন সঙ্গী
বাঁচতে চাই ধরনীতে সে ক্ষ্যাপা পথিক।
কান পেতে শুনি
মকলেছুর রহমান টুটুল।
আমি কান পেতে শুনি
আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা হাঁটছে
আমার গ্রাঁমের মেঠোপথ দিয়ে।
এখনো শুনতে পাই
করছে লেফ্ট রাইট ডান বাম
আরো জোরে আরো জোরে
সামনে হও আগুয়ান।
তাদের ঐ হাঁটার শব্দ
যেন এই পথের ধুলাবালিতে
ভৈরবী সূরে গাঁথা রয়েছে
এখনো শুনতে পাই।
আমি কান পেতে শুনি
ঐ যে কাঁদছে ছেলেহারা লক্ষ মা
আকাশে বাতাসে ধোনিত হচ্ছে এখনো
তাদের বুকের জমানো মাতন
খাঁ খাঁ ফাঁকা তাদের বুকের সাহারা
ঐ যে খোঁকা আসছে ফিরে
যে পথে যুদ্ধে গিয়েছিল খোঁকা
সেই পথপানেই চেয়ে আছে মা।
ঋণ
মকলেছুর রহমান টুটুল।
মুক্তিযোদ্ধা, শহীদেরা তোমরা
কেন এ দেশকে স্বাধীন করলে ?
তোমাদের ঋণ শোধ করতে পারলামনা
আমাদের ঋণের মধ্যেই রাখলে ?
কেন এমন বোঝা চাপালে
স্বাধীনতার বোঝা এই নরম কাঁধে?
বইতে কষ্ট নয়, অনেকের লজ্জা লাগে
এ যন্ত্রনার ত্বীর আমার অন্তরে বিধে।
তবে আমি প্রাণ পণে চাই
পাহাড় সম বোঝা বইতে
ঘানিটা কেউ না টানতে চাইলেও
আমার লজ্জা নয় মজা লাগে কাঁধে নিতে।
তবে যারা অক্লান্ত পরিশ্রমী ছিল
তাদের দেশশত্রুরা ফেলেছে মেরে
তাদেরই সঞ্চিত পাপভার
আমাদেরই টানতে হচ্ছে জীবনভরে।
দুই নেতার অকাল প্রয়াণে
দেশটা দুইশত বছর পেছালো
নেতারা ভুলেও উচ্চারণ করে না
দ্বন্দের মধ্যেই লিপ্ত রইলো।
নদী অববাহিকায়
মকলেছুর রহমান টুটুল।
যেখানে বৈরী নদী বেয়ে চলে জালের মত
যেখানে মাঝিমাল্লার সূরতরঙ্গে শুনি ভাটিয়ালী গীত
যেখানে দু’কুলে কাশ ফুলের ঝাড়ে পা জড়িয়ে ধরে
যেখানে গ্রাঁম্য মেয়েরা অর্ধনগ্নপ্রায় স্নান করে
যেখানে নদী বানের সময় বেয়ে দিয়েযায় পলি
যে মাটিতে ফলে কত সোনার ফসল আউস, আমন, জলি
যেখানে মেয়েরা উড়ায়ে দিয়ে কেশ রোদে ধান শুকায়
সে আমার সোনার বাংলাদেশের নদী অববাহিকায়।
ছায়াতরু
মাগো তোমার স্নেহ ভালবাসা পেয়ে
জীবন আমার ধন্য হলো
এই দেশে জন্মগ্রহন করে প্রাণ জুড়ায়
সকালে লাল রক্তিম সূর্য দেখে হই আকুল
সন্ধ্যায় এমন হাসি হেসে ওঠে চাঁদ
বেলী চাঁপা গন্ধরাজ কাননে ফোটে কত ফুল
রাত্রিকালে আমি মায়ামন্ত্রধ্বনি শুনে মুগ্ধ হই
তোমার অপরুপ শোভা আমায় মুগ্ধ করলো
আলো-বাতাস তরুলতা ফুলফল যে দিকে তাকাই
এই সবই আমার হৃদয় জুড়ে বসলো
তাই এখানে শেষ নিঃশ্বাস ফেলার
আমার একান্ত কামনা রইলো।
ভুলিনি ভুলবনা
মকলেছুর রহমান টুটুল।
অমানুষরা কেড়ে নিয়েছে আমার ভাইদের প্রাণ
রক্ষাও হয়েছে আমার মায়ের ইজ্জত মান সম্মান।
হ্যাঁ হ্যাঁ সে লড়াইটা ছিল মান সম্মানের
আর আমার মায়ের ভাষা, মুখের ভাষা রক্ষার।
দিয়েছে ওরা বুকের তাজা রক্ত হয়েছে ক্ষয়
হেনেছে আঘাত ভেঙ্গেছে পাহাড়
গড়েছে নদী হয়েছে পার
মানেনি কোন বাঁধা করেনি ভয়।
হয়েছে ক্ষয় করেছেও জয়
সে কথা বলে শেষ করা যাবেনাতো হায়।
হারিয়ে আমাদের ভাইদেরকে
পেয়েছি বিশাল সামিয়ানা সম ফুল
তাইতো একুশে ফেব্রুয়ারী পৃথিবীর মানুষেরা
সম্মান দেখাতে করছেনা কোন ভুল।
শহীদ হয়ে আমাদের ঋণী করে গেছে আমার ভাই
তোমাদের ভুলিনি ভুলবনা কোনদিন তাই।
মরমী
মকলেছুর রহমান টুটুল।
মরমী তুমি যেদিন থেকে হলে
নিরুদ্দেশের যাত্রী,
সেদিন থেকে হয়েও গেলো অনেক লম্বা-
বার ঘন্টার রাত্রি।
আমার হাতে হাত রেখেছিলে
প্রণয় বন্ধনে আবদ্ধ হবার জন্য
আমাকে দু’চোখের আয়নায় দেখেছিলে
বলেছিলে আমাকে পেয়ে তুমি হয়েছ ধন্য।
আমার হৃদয়ে পাতলে তখন আবাস
আমার মনের জমিনটা তোমার জন্য
করেও দিলাম খাস
ভুলেও কখনো মনে করিনি তোমায়
আমারই অবাধ হরণের পণ্য
তুমি করে ছিলে সকল পরীক্ষায় পাশ।
এখন চলে আমার বুকে মাতম
কেউ বুঝতে পারেনা মোর কাতর কাঁদন
<%









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী