সত্তরের কথা
: তাপসকিরণ রায় :
বুড়োর গলা টিপে ধরলো পঞ্চানন।এমনিতেই বুড়ো মর মর–রোগ শয্যায় দু মাস ধরে পড়ে আছে–দু দিন পরে স্বাভাবিক মৃত্যু হতো তার।
পঞ্চানন ওর গলা টিপে ধরে থাকলো।যতক্ষণ ওর মৃত্যু না হচ্ছে ততক্ষণ ও ছাড়বে না।
পঞ্চানন দেখতে থাকলো,গলা টেপা মানুষের মৃত্যু কি কি দৈহিক লক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে সম্পন্ন হয়।এও এক অভিজ্ঞাতা!ভবিষ্যতের বেছে নেওয়া জীবনে তার কাজে আসবে।
বুড়ো প্রথমে বড় করে তাকিয়ে ছিলো পঞ্চাননের দিকে।কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল,কিন্তু সে শব্দ অর্থ পূর্ণ হোয়ে মুখ থেকে বের হলো না।গোঁ গোঁ শব্দ হোয়ে মাঝখানে থেমে গেলো।চোখ দুটো বন্ধ হয়েই আবার খুলে গেলো আর ধীরে ধীরে চোখের কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো।মুখটা অটোমেটিক হাঁ হতে লাগলো।জীভ আসতে আসতে বেরিয়ে আসতে লাগলো।হাত,পা ক বার ঝটকা মেরে স্থির হোয়ে গেলো,বুড়ো নেতিয়ে পড়ল বিছানায়!
মৃত্যুর আগের মুহূর্ত থেকে বুড়োর চেহারা ভয়ঙ্কর হোয়ে যেতে লেগেছিল, চোখের মণি দুটো অর্ধেকের বেশী বেরিয়ে এসেছে,জীভ মুখের এক পাশে ঝুলে পড়েছে।
ঠিক সি মুহূর্তে এবাড়ির বৌ ঘরে ঢুকলো।অপরিচিত পঞ্চাননকে দেখে থতমত খেয়ে গেলো।মুখ থেকে তার বেরিয়ে আসলো,কে?কে আপনি?
পঞ্চানন আর দাঁড়ালো না।দু তিন লাফ দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে দ্রুত রাস্তার ভিড়ে মিশে গেলো।চীত্কার করতে করতে বৌটা বাড়ির সদর দরজা পর্যন্ত এসেছিল।
এটা প্রথম কেস ছিলো পঞ্চাননের।সে ইদানিং পার্টির দলে মেশা শুরু করেছে।নিজের বড় নেতা হবার যোগ্যতা নেই।পড়া লেখা ক্লাশ টেন পর্যন্ত করেছে।একটুর জন্যে মেট্রিক পাশ করতে পারে নি।তবে বড় নেতা না হতে পারুক,ছোট নেতা তো হতে পারে!আর কখনো যদি মেট্রিক পাশ করতে পারে তবে বড় নেতা হবার সে চেষ্টা করতে পারবে।তবে মানু দা বলেছ,নেতা হতে গেলে মেট্রিক পাশ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই!
বড় বড় পা ফেলে মানুদার ঘরে ঢুকে গেলো পঞ্চানন।
–কি হলো পন্চু,এত হাঁপাতে হাঁপাতে কোথা থেকে আসছিস?মনুদা প্রশ্ন করে।
–হ্যাঁ,দাদা,তোমার কথা মত হাতে খড়ি দিয়ে এলাম।ওই হরি সরকার বুড়োকে টাসিয়ে দিয়ে এলাম,পন্চু নির্বিবাদ বলে উঠলো।
–মানে?
–মানে,তোমার কথা মত ওকে গলা টিপে মেরে এলাম।
–কেউ দেখল টেখল নাতো?
–বুড়োর বৌমা দেখেছে–তবে চিনতে পারেনি।চেনার আগেই আমার কাজ ফিনিশ হোয়ে গিয়ে ছিলো।
–দেখলি তো মানুষের মৃত্যু!বিশেষ করে গলা টেপা কেসের শরীর কেমন ওলট পালট হোয়ে যায়!বলে মনুদা স্বাভাবিক হাসলো।
মনুদা পার্টির দলের স্থানীয় নেতা।বড় দাদা বললে চলে।কিছু শাগরেদ বানাবার জন্যে মাঝে মোধ্যে ট্রেনিং দেওয়ায় নতুন দলে ঢোকা ছেলেদের। পঞ্চানন ও তেমনি একজন ট্রেনী।
কেসটা মনুদাই পঞ্চাননকে দিয়ে ছিলো,বলেছিল,পন্চু দেখ,দারগা পাড়ার হরি সরকার অনেক দিন থেকে অসুস্থ।প্রায় মরো মরো।ওর ঘরে ওর ছেলে,ছেলে বৌ ছাড়া কেউ থাকে না।ছেলে আজ সকালে কলকাতা গেছে.ঘরে একা তার বৌ।এই সুযোগে তুই তোর হাতে খড়ি দিয়ে আয়।
আর কিছু বলতে হয় নি পন্চুকে।ও বেরিয়ে গেলো।বর্তমানে তার হাতিয়ার দুই পকেটে দুই চাকু।ব্যাস,নতুন দলে ঢুকেছে তো এর বেশী এখন নয়।
দারগা পাড়ায় হরি সরকারের বাড়ি তার চেনা ছিলো।বুড়োর বৌমাকে ও যে ভাবে হোক মেনেজ করে নেবে তা ঠিক করেই নিয়েছিল।বাড়ির কাছে গিয়ে দেখল দরজা খোলা।একটু সময় চুপ করে দাঁড়ালো।না,ঘরের ভিতরে লোক জনের আওয়াজ নেই।টুক করে ঢুকে পড়ল ঘরে।এ ঘর,সে ঘর ঘুরে কাউকে দেখল না।আওয়াজ হচ্ছিল বাথরুমে।তার মানে বুড়োর বৌমা স্নান করতে ঢুকেছে।এই সুযোগ।চট করে পঞ্চানন পাশের ঘরে ঢুকে দেখল দাদু জুলজুল করে তাকিয়ে আছে তারই দিকে!চীত্কার করার ক্ষমতা নেই,মুখ থেকে ফিস ফিস আওয়াজ বের হচ্ছিল।
আর দেরী করা যায় না।আজ তার পরীক্ষা মুর্হুর্ত








