সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের দাবী কারাবন্ধী সাংবাদিক অটলের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে
আবদুর রহমান জুয়েল,বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম,ভোলা:
ভোলার এম এ আলী প্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালক এম এ আলীকে আশ্রিতাদের উপর যৌন নির্যাতনকারী দাবি করে গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকেলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ভোলা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্যে কারাবন্ধী সাংবাদিক কামরুল হাসান অটলের মা কহিনুর বেগম বলেন, দীর্ঘ তিন মাস ধরে শহরের চরনোয়াবাদ এম এ আলী প্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালক এম এ আলী ও কমিটির সদস্য আ: খালেক গংদের নানা কুকীর্তির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমার ছেলে প্রতিবন্ধী মেয়েদের জবানবন্ধী অডিও ও ভিডিও চিত্র রেকর্ড করে। ওই রেকর্ডে প্রতিবন্ধীদের ওপর এম এ আলী ও টিন খালেক গংদের যৌন হয়রানীর সকল তথ্য বেড়িয়ে আসে। এই তথ্য পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার আগেই এম এ আলী গংরা নানা ধরণের মিথ্যা কাহিনী সাজিয়ে অটল ও জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে অটল। আমাদেরকেও নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অটলের মা কহিনুর বেগম। সংবাদ সম্মেলনে অটলের ফুফাতো ভাই ওমর খৈয়াম, স্ত্রী নাছিমা বেগম ও বোন রাবেয়া বসরিসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
যুবদল নেতা ওসত্মা রহীমের নেতৃত্বে ভোলায় সিঁদেল চুরির বিশাল নেটওয়ার্ক।
ভোলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ কিশোর চোরের স্বিকারোক্তি নিয়ে সর্বোত্র আলোচনার ঝড় বইছে\
স্যার আমনেরা আমারে মাইরেন না। আমি সব কথা আমনেগো খুইলল্লা কইতেছি। আমি ও আমার বন্ধু নাফিজ, রায়হান, আফসার,তানজীল ও টিটু মিইল্লা শাহিন ভাইগো বাসায় চুরি করছি। তয় আমরা জানতামনা যে,এইডা শাহিন ভাইগো বাসা। ৪টা মোবাইল নিছি স্যার। হেই গুলো ওসত্মা রহীম ভাইরে দিছি। হেয় আমাগোরে এক হাজার করে ট্যাহা দিছে। এ সহজ স্বিকারোক্তি গুলো ভোলা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সিঁদেল চোর শুভ ওরপে তোতার। বয়স ১১। ভোলা পৌরসভার জামিরালতা এলাকার মোশারেফ হোসেনের সমত্মান তোতা স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র। মোটামুটি সম্ভ্রামত্ম পরিবারের সমত্মান। তার এক চাচা জজকোর্টের উকিল বলেও সে পুলিশ সাংবাদিকদের জানায়। গত এক মাস ধরে ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোড, হাসপাতাল রোড, মুসলিম পাড়া, উকিল পাড়া, পৌর বাপ্তা, খেয়াঘাট রোড, আলীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার জনগণ সিঁদেল চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ভোলা থানার পুলিশকে এসব ব্যাপারে জনগণ লিখিত ও মৌখিক ভাবে একাধিক বার অভিযোগ করলেও কার্যকর কোন রেজাল্ট দেখতে পায়নি। ভোলা-১ (সদর) আসনের সাংসদ আন্দালীভ রহমান পার্থের উকিল পাড়াস্থ বাসভবন সংলগ্ন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাসভবনে ২০ দিন পূর্বে দূর্ধষ্য এক ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা চেয়ারম্যান পূত্র ফয়সাল ও তার স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ অদ্যাবধি ডাকাতির কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোসত্মাক শাহিনের বাসাতেও চলতি মাসে পর পর দু’বার চুরির ঘটনা ঘটে। একটি ঘটনায় ও চোর গ্রেপ্তারে ভোলার পুলিশ বাহিনী সক্ষম না হওয়ায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি আস্থাহীনতার জম্ম হয়। গত রোববার কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রুপালী ব্যাংকের পরিচালক মাহবুবুর রহমান হিরনের কালিবাড়ি রোডের বাসায় দূঃসাহসিক এক চুরির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। স্বয়ং পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভোলা থানার পুলিশ আদাজল খেয়ে চোর পাকড়াও অভিযানে নেমে পড়ে। বুধবার সন্ধ্যায় ভোলা থানার পুলিশ জামিরালতা এলাকাবাসীর সহযোগীতায় জামিরালতা মিয়াজী বাড়ির ঈসমাইলের ছেলে আফসার (১৫), হোমিও প্যাথিক কলেজ রোডের ফারুক ভুঁইয়ার ছেলে রায়হান (১৬) ও মোশারেফ হোসেনের ছেলে তোতা (১১) কে গ্রেপ্তার করলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে দেয়া তাদের জবানবন্দীতে বের হয়ে আসে সিঁদেল চুরির গোপন রহস্য। আটককৃত তিন কিশোর সিঁদেল চোর ও পুলিশ সুত্র জানায়, বাপ্তা ইউনিয়নের জামিরালতা এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের নেতা ওসত্মা রহীম (৪৮) ভোলার সিuঁদল চুরির মহানায়ক। এক সময় রহীম নিজেও কুখ্যাত চোর ছিল। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার পর নিজে এ কাজ থেকে সরে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শিশু কিশোরদের সমন্বয়ে দুর্ধষ্য একটি সিঁদেল চোর বাহিনী গড়ে তোলে। বাপ্তা আগাঁরপুল ও জামিরালতা এলাকায় সরেজমিনে গেলে একাধিক বাসিন্দা জানায় ওসত্মা রহীম শুধু সিঁদেল চোরের মহানায়কই নন, ওই এলাকার মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী ও বোমা তৈরীসহ নানা সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে সে জড়িত। সব সময় কেতা দুরসত্ম পোষাকে চলাফেরা করা রহীম কি কাজ করেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি তার প্রতিবেশীরাও। আগাঁরপুল ও জামিরালতা এলাকায় তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনীর আতংকে লোকজন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না। সাবেক ধর্ম-প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের ভাগিনা সমাজসেবী রুমী জানিয়েছেন, রহীমের বিরুদ্ধে পূর্বে চুরি ডাকাতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও গত ৭/৮ বছর ধরে সে তার পৈত্রিক ব্যবসা মুসলমান ছেলেদের খৎনা করার কাজে নিয়োজিত। আগাঁরপুলের যুবলীগ কর্মী মাসুদ জানিয়েছেন, ওসত্মা রহীমের সিঁদেল চোর বাহিনীতে বেপাড়ি বাড়ির নাফিজ, ডাক্তার বাড়ির রায়হান,ফরাজী বাড়ির তানজিল,আলাউদ্দিন উকিলের বাড়ির তোতা,মামুন,ইয়ামীন ও হ্যাংলা টিটুসহ জনা বিশেক কিশোর যুবক দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছে। ভোলা পৌরসভা ও সদর উপজেলার পাশাপশি জেলার অন্যান্য উপজেলার সিঁদেল চোর ও ডাকাতদের নিয়ে ওসত্মা রহীম বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে আমত্মঃজেলা চোর-ডাকাত সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে রহীম ও তার বাহিনী কিছুটা চুপচাপ থাকলেও ইদানিংকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শৈথিল্যের সুযোগে পূনরায় মাঠে নেমেছে। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর সিঁদেল চোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের স্বিকারোক্তি মোতাবেক সিঁদেল চুরির রিং লিডারকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আশা করি খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে পুলিশ। সচেতন মহল মনে করে সমাজের বিভিন্ন সত্মরে গঁজিয়ে ওঠা ওসত্মা রহীমের মতো হোয়াইট কলার ক্রিমিনালদের ত্বড়িৎ গ্রেপ্তার করতে পারলে ভোলার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনগনের যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত দুর হয়ে যাবে।









হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত: তথ্যমন্ত্রী