শিরোনাম:
●   মৌলভীবাজারে সড়কে দুর্ঘটনায় মোটরবাইক আরোহীর মৃত্যু ●   গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুরহাট ●   বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা, আটক হয়নি কেউ ●   গাইবান্ধায় ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ॥ দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসির মানববন্ধন ●   কুষ্টিয়ায় গরু ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা ! ●   কুষ্টিয়ায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার ! ●   কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২৪ ●   ১২’শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি রয়েছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর : দুদক ●   যে কারণে বিয়ে করেননি অটল বিহারী বাজপেয়ী ●   শিমুল থেকে শিমুর ২০ বছর
ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
Bijoynews24.com
শনিবার ● ৫ মে ২০১৮
প্রথম পাতা » Slider » চট্টগ্রামের হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর জীবনের অজানা তথ্য
প্রথম পাতা » Slider » চট্টগ্রামের হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর জীবনের অজানা তথ্য
২৯ বার পঠিত
শনিবার ● ৫ মে ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চট্টগ্রামের হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর জীবনের অজানা তথ্য

 


---মাহমুদুন্নবী: পবিত্র ক্বোরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “আল্লাজীনা আনআমাল্লাহু আলাইহিম মিনান্নাবীইয়েনা ওয়া সিদ্দীকিনা ওয়াসসোহাদা ওয়াছছলেহীনা” অর্থাৎ- যাদের প্রতি আল্লাহ্ পাক অনুগ্রহ করেছেন, তাঁরা হচ্ছেন, নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্মশীল সালেহীন। আল্লাহ্র দরবারে মকবুল উপরোক্ত লোকদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর নবীগণের। অত:পর নবীগণের উম্মতগণের মধ্যে যাঁরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী, তাঁরা হলেন সিদ্দীক। যাদের মধ্যে রূহানী ও কামালিয়াত পরিপূর্ণতা রয়েছে, সাধারণ ভাষায় তাঁদেরকে ‘আওলিয়া’ বলা হয়। আর যাঁরা দ্বীনের প্রয়োজনে স্বীয় জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন, তাঁদেরকে বলা হয় শহীদ। আর সালেহীন হচ্ছেন, যাঁরা ওয়াজিব-মুস্তাহাব প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রে শরীয়তের পুরোপুরি অনুসরণ ও আমলকারী। সাধারণ পরিভাষায় তাঁদেরকে দ্বীনদার বলা হয় (তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, পৃষ্ঠা নং-৮)।

ইসলাম আবির্ভাবের পর হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জামানার পর বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে অবদান রাখেন ছাহাবীগণ, তাবেঈনগণ, তাবে-তাবেঈনগণ এবং এর পর মূখ্য ভূমিকা রাখেন আওলিয়াগণ। আখেরী নবীর তিরোধানের পর নবুয়তের দরজা বন্ধ হলেও আল্লাহ পাক নেককার বান্দাদের বেলায়েতের দরজা উন্মুখ করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর মনোনীত মকবুল বান্দাগণকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছেন। এ সমস্ত বেলায়েতধারী সূফী, অলী, দরবেশ, আউলিয়াগণ বিশ্বের যে সকল স্থানে ইসলামের আলো পৌঁছায়নি সে সকল স্থানে নিজের ভোগ বিলাস বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। নবী রাসুলগণ এর একটি বিশেষ ক্ষমতা থাকে যাকে বলা হয় ‘মোজেজা’ আর আওলিয়াগণ এর একটি বিশেষ ক্ষমতা থাকে যাকে বলা হয় ‘কারামত’। এমনি এক মহাপুরুষ আউলিয়া হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (রঃ)।

খোদাপ্রেমিক ত্যাগী পুরুষ শাহ সূফী আমানত (র.) ছিলেন কাদেরীয়া তরীকার প্রবক্তা প্রখ্যাত সাধক বড় পীর হজরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী (র.) এর বংশধর । আধ্যাতিক জগতের ইশারায় আত্মিক জ্ঞানার্জনের জন্য সুদূর কাশ্মীর চলে যান হজরত আমানত। সেখানে মুর্শিদের খোঁজ করতে থাকলে জনৈক বুজুর্গ ব্যক্তি তাঁকে হজরত আবদুর রহিম শহীদ (র.) এর সন্ধান বলে দেন। কিন্ত সেখানে জানতে পারলেন আবদুর রহিম শহীদ (র.) লক্ষৌ অবস্থান করছেন। লক্ষৌ এসে জানতে পারলেন, তিনি কিছুদিন পূর্বে মখসুসাবাদ (মুর্শিদাবাদ) চলে গেছেন। অত:পর মখসুসাবাদে এসে হজরত আমানত (র.) প্রেমাস্পদ হজরত শহীদ (র.) এর সানিধ্য লাভে সক্ষম হন। জ্যোর্তিময় পূরুষের সাহচর্যে এলমে মারেফত দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এল্ম বাতেন শাস্ত্রে চরম উৎকর্ষতা লাভ করেন। পীর সাহেব বুঝতে পারলেন শাহ আমানতের অন্তর আল্লাহ প্রেমের জোয়ারে পরিপূর্ণ এবং রাব্বুল আলামীনের পরিচয় লাভের আকাংখায় মন তাঁর উন্মুখ। প্রায় ১২ বছর এখানে মুর্শিদের খেদমতে অবস্থান করেন এবং ব্যাপকভাবে কামালিয়াত ও রূহানী ফয়েজ লাভে সক্ষম হন। আমানতের ঐশী ক্ষমতার ব্যাপকতা ও গভীরতা দর্শন করে মুর্শিদ তাঁকে কাদেরীয়া, নকশবন্দীয়া, মুজাদ্দেদীয়, চিশতিয়া এবং মাদারীয়া তরীকার খেলাফত প্রদান করেন এবং বিবাহিত জীবন যাপন ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ এবং ইসলামের খেদমত করার জন্য চট্টগ্রাম যেতে নির্দেশ প্রদান করেন। ১১২০ সালে হিজরী সনে হজরত শহীদ (র.) নিজেও মখসুসাবাদ ত্যাগ করে তদীয় ভ্রাতুষ্পুত্র সূফী নাজমুদ্দীন এবং ভাগ্নে সূফী বাহাউদ্দীনকে সাথে নিয়ে ঢাকা তশরীফ নিয়ে আসেন। চট্টগ্রামের আত্মিক জগতের কর্তৃত্বের ভার গ্রহণ করে শাহ সূফী আমানত খান (র.) অত্যন্ত ধন্য হলেন।

চট্টগ্রামে এসে হজরত আমানত (র.) জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থানীয় আদালতে একটি ছোট্ট চাকুরি জুটিয়ে নেন। তাঁর চাকুরি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন মতামত পোষণ করেছেন। কারো মতে তিনি ছিলেন হাকিম সাহেবের চাপরাশী, কারো মতে আদালতের মীর দপ্তরী, আবার অনেকে মত প্রকাশ করেছেন হজরত হাকিম সাহেবের পাখা টানতেন। সে যাই হোক, সারাদিন চাকুরির দায়িত্ব পালন শেষে রাতে তিনি মগ্ন হতেন আধ্যাতিক সাধনায়। পার্থিব জীবনের মায়া মমতা তাঁকে গৃহাভিমুখি করতে পারেনি। রাতের ইবাদতের জন্য তিনি বেছে নেন আন্দরকিল্লা পাহাড়ের পাদদেশে পীর বদরুদ্দিন আল্লামার সমাধির কিছুটা পশ্চিমে বদর পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একটি নিরিবিলি স্থানটিকে। এখানে তিনি একটি খানকাহ্ স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এটি “খানকাহ্ আমানতিয়া” নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।

আদালতের কর্মজীবনে হজরত আমানত নম্র ব্যবহার, পরম ধৈর্য্যগুণ এবং মৌনতা দিয়ে সকলের মন জয় করেছিলেন। এসময় তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে ‘মিয়া ছাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সব সময়ই এহ্্রামের কাপড়ের মত সাদা কাপড় পরিধান করতেন। সারাদিন আদালতে দায়িত্ব পালন আর রাত্রি জেগে জীর্ণ কুঠিরে আল্লাহ পাকের ধ্যানে মগ্ন থাকেন হজরত আমানত (র.)। নিজের সত্যিকারের পরিচয় তিনি গোপন রেখেই চলেছিল জীবন। জাগতিকতার আবরণে চাকুরির ছদ্মবেশে তিনি দিনের বেলা যদিও কাজ করতেন কিন্তু গভীর রাত্রি পর্যন্ত তিনি মরমীবাদের কঠোর সাধানায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। এমনই এক মহেন্দ্রক্ষণে এক চরম অসহায় ব্যক্তিকে মামলার দলিলপত্র সংগ্রহে সাহায্য করতে গিয়ে জনসমক্ষে তাঁর আধ্যাতিক আবরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। পানিতে রুমাল বিছিয়ে সাম্পান বানিয়ে চোখের পলকে দুর্গম সমুদ্রের শত মাইল পথ সংকুচিত করে মুহুর্তের মধ্যে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহের অত্যাশ্চার্য ঘটনার কিংবদন্তি আজও বংশ পরম্পরায় চট্টগ্রামবাসীর মুখে মুখে উচ্চারিত। হজরত আমানত খান (র.) এর কারামত নিয়ে আলোপাত করা হলো।

রুমাল যখন সাম্পান: মহেশখালীর এক বাসিন্দা চট্টগ্রামে এসেছিলেন বাজার করতে। ফিরতে পথে তার এক পুরাতন মামলার খবর জানতে উকিলের কাছে গিয়ে জানতে পারেন আগামীকালই তার মামলার তারিখ পড়েছে। সংবাদ শুনে লোকটির মাথায় যেন বজ্রাঘাত পড়ে। পুরাতন মামলা মনে করে এত তাড়াতাড়ি তারিখ পড়বে আর তাছাড়া পুরাতন কাগজপত্র সংগ্রহ করা এবং রাতের মধ্যেই দলিলাদি বাড়ি থেকে এনে আদালতে দাখিল করাও সম্ভব না ভেবে লোকটি মুষড়ে পড়েন। উকিল সাহেব আদালতে সময় প্রার্থনা করে সময় বাড়িয়ে নেবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করে। কিন্তু পরদিন উকিল সাহেবের সময়ের প্রার্থনা আদালতে নামঞ্জুর হয় এবং পরদিনই শুনানীর তারিখ ধার্য্য করেন। এ সংবাদে লোকটি যার পর নাই বিচলিত হয়ে পড়েন। মুকদ্দমায় হেরে গেলে সারাজীবনের কষ্টার্জিত সহায় সম্পদ হাতছাড়া হয়ে পথে বসতে হবে ভেবে কাঁদতে শুরু করেন। আদালতের ছুটি শেষে হজরত পথিমধ্যে দেখেন লোকটি সব সম্পদ হারানোর ভয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। হজরত স্নেহের হাতখানি লোকটির মাথায় রেখে জিজ্ঞেস করেন, “সম্পত্তিগুলো কি হালাল উপায়ে অর্জন করেছেন?” লোকটি জবাব দেয়, “হ্যা সম্পূর্ণ হালাল উপায়ে অর্জন করেছি।” হজরত আমানত (র.) মাগরিবের নামাজের পর সদরঘাটে আসতে বলে চলে যান। লোকটি আদালতের সামান্য বৃত্তিজীবির এমন আন্তরিকতা এবং সৌম্যদীপ্ত চেহারা দেখে চোখের পানি সহসা মিলিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর নির্জন স্থানে হজরত লোকটি বললেন, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তার যদি কোন উপকার করে দেন তবে শপথ করতে হবে এ বিষয়টি অন্য কাউকে জানাতে পারবে না। লোকটি কাউকে জানাবে না বলে শপথ করে। এর আগে লোকটি মনে মনে ভেবেছিল হয়ত লোকটি আমার মুকাদ্দমার জন্য হাকিমের কাছে সুপারিশ করবে। কিন্তু বর্তমান চেহারা দেখে তার মনে এক আলোড়ন সৃষ্টি হলো। হজরত নিজের শরীরে জড়ানো সাদা চাদর খানা কর্ণফুলীর পানিতে বিছিয়ে দিয়ে বললেন, ‘রুমালখানায় আরোহণ করলেই ওটা সাম্পানে পরিণত হবে এবং চোখ বন্ধ করলেই সেটা চলতে থাকবে। সাম্পান কোথাও ঠেকলে চোখ খুলে নেমে পড়তে হবে এবং ওই স্থানটাই বাড়ি ঘাট। নথিপত্র নিয়ে সাম্পানে চেপে আবার চোখ বন্ধ করতে হবে।’ হজরতের কথা মত লোকটি রুমালে পা রেখে চোখ বন্ধ করতেই চলতে শুরু করে সাম্পান এবং বাড়ি ঘাটে গিয়ে থামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যথারীতি ফেরত আসেন মুহুর্তের মধ্যেই। অসহায় মানুষের কান্ডারী হজরত বাক্য ব্যয় না করে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে নিজ কুঠিরে ফিরে যান।

পরদিন আদালতে মামলার নথি কোথা থেকে এল হাকিম জানতে চাইলে লোকটি আমতা আমতা করে আত্নীয়ের বাড়ি ছিল। কিন্তু আদালত তার কথায় বিশ্বাস না করে জেরা করতে থাকেন এবং সত্য না বললে সাত বছরের জেল হতে পারে বলে জানিয়ে দেন। লোকটি তখন ভয়ে ভয়ে গতরাতে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা দেন। সাথে সাথে হামিক সাহেবে মনে যেন এক দমকা হাওয়া বয়ে যায়। লুটিয়ে পড়েন হজরতে পায়ে। সেদিনই শেষ হয় হজরত আমানত (র.) এর কর্মজীবন।

চাদরের নীচে নূর: হজরত শাহ আমানত খান (র.) কদম মোবারক মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতেন। এসময় ঘড়ির ব্যবহার না থাকায় বেলা দেখে দেখে নামাজ আদায় করা হতো। এক জুমার দিন মুসুল্লীরা ইমাম সাহেবকে নামাজ পড়ানোর জন্য বার বার তাগাদা দিচ্ছে। কিন্তু ইমাম সাহেব হজরতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সাদা কাপড়ে দেহাবৃত্ত জ্যোতির্ময় পুরুষ এলে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে নামাজ শুরু করেন। এদিকে অনেক মুসুল্লীদের মধ্যে এক যুবক দেরীতে নামাজ পড়ানো জন্য ইমাম সাহেব দায়ী করেন। হজরত স্মিত হেসে যুবকটিকে নিজের চাদরখানা আপাদমস্তক ঢেকে দিয়ে চোখ বন্ধ করতে বললেন। কথা মত যুবকটি চোখ বন্ধ করতেই চোখের পর্দায় ভেসে উঠে এক নূরানী সমজিদ, সেখানে মুয়াজ্জিন সাহেব অজু করছেন আজান দেয়ার জন্য। হজরত চাদর সরিয়ে নিলে মুহুর্তের মধ্যে মিলিয়ে যায় দেদীপ্যমান মসজিদখানা। তাঁকে ঘিরে থাকা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলে অসংখ্য নামাজীর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করেন। ক্ষমা প্রার্থনা করেন হজরতের কাছে। পরবর্তীতে যুবকটি হুজুরের খানকায় আসে। তার চরম ধৈর্যশীলতা, পরম বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা এবং কল্বের যাবতীয় গুণাগুণের জন্য অত্যন্ত খুশী হয়ে হজরত তাকে শিষ্যত্ব দান করেন। আর এই যুবকই হলো প্রখ্যাত খলিফা হজরত শাহ্ সূফী মোহাম্মদ দায়েম (র.)।

নিরক্ষর হয় উকিল, পায় খ্যাতি, অত:পর শাস্তি: হজরত এর খানকায় খোসামাবুদি নামে এক বিধবা মহিলা খেদমত করতেন। আবদুল ওয়াহাব নামে তার এক কিশোর ছেলে ছিল। শহরের বিভিন্ন জায়গায় কাজের চেষ্টা করেও কোন কাজ পায়নি ছেলেটি। অত:পর হুজুরের কাছে বিষয়টি জানালে বলেন, তোমার ছেলেকে আদালতে গিয়ে ওকালতি করতে বলো। হুজুরের কথা কিছুই না বুঝে একদিন কোর্টে গেলে সত্যি সত্যি আদালতের হাকিম সাহেব তার হাতে একখানা ওকালত নামা ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে এই আবদুল ওয়াহাব চট্টগ্রামে কোর্টের একজন নামকরা উকিল হন। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে খ্যাতি। হয় অর্থ-বিত্তের মালিক। হুজুরের অনুমতি নিয়ে উকিল আবদুল ওয়াহাব শহরের নানা পেশার মানুষের জন্য এক মেজবানির আয়োজন করেন। কথা ছিল সকল মানুষের জন্য একই খাবার ও বিছানার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু উকিল সাহেব অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে সেখানকার দারোয়ানরা হুজুরকে ঢুকতে দেয়নি এবং জানতে পারেন যে, সেখানে বিছানা ও খাবারের মধ্যে বৈষম্য করা হয়েছে। হজরত অনুষ্ঠানস্থলের কিছুদুর যেতে না যেতেই পুরো অনুষ্ঠানস্থল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় ভেঙ্গে পড়েন আবদুল ওয়াহাব।

এমনি অসংখ্য কারামতের মধ্যে আছে সাধু সন্তের ইসলাম গ্রহণ, হযরত দায়েমের (র.) কারামাত প্রদর্শনের দরুন কারামতের ক্ষমতা প্রত্যাহার, অন্ধের চোখে আলো দান, সংযমহীন দরবেশের শাস্তি, বিনা মৌসুমে কুল ফল, কুঁজো সাত্তারের সুস্থতা লাভ, অলৌকিক বস্ত্র লাভ যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সেসময়কার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।

হজরত এর পবিত্র দর্শন লাভের মানসে ভক্তগণ বিচলিতভাবে খানকাহ শরীফের পার্শ্বে পায়চারী করতেন। অত্যন্ত ধীন পদক্ষেপে অভ্যাগতদের সামনে এলে হজরতের নূরানী চেহারা মোবারক জ্যোতির্ময় চাঁদের মতো চমকাতো এবং সারা মুখমন্ডল ঘিরে নূরের প্রভা বিকশিত হতো। ভক্তরা তাঁকে এক নজর দেখেই আবেগে আত্মহারা হতেন। তখন ভক্তদের অবস্থা এমন হতো যে, বেহেস্তের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ঐশ্বরিক আকর্ষণে বিভোর অন্তর যেন জিকির এর স্পন্দনে আন্দোলিত হতে হতে আল্লাহ পাকের গোপন রহস্যের পর্দাগুলো একে একে উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে। হজরতের উপস্থিতিতে রূহানীয়াত এবং মা’রিফাতের কল্যাণধারা এমনভাবে প্রবাহিত হতো যে, খানকাহ্ শরীফে প্রতীক্ষারত কোন ভক্তই কাঙ্খিত ফল লাভে বঞ্চিত হতেন না। মৌনতা অবলম্বনকারী, প্রচার বিমুখ এই আধ্যাতিক সাধক আদবের অত্যন্ত সমাদর করতেন কিন্তু বে-আদবকে তিনি কখনো প্রশয় দিতেন না।

হিজরী ১১৮৭ সনের জ্বেলক্কদ চান্দ্রমাসের শেষ রজনীতে আদরের মিয়া ছাহেব বিদায় নেন পৃথিবী থেকে আল্লাহ পাকের দীদার লাভের বাসনায়। বুঝতে পেরেছিলেন স্রষ্টা তাঁর সাথে মিলনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। তাইতো মৃত্যুর পূর্বে পুত্র শাহজাদা আনোয়ার খান এবং খাদেমকে ডেকে বলেন, বাঁশের চুঙ্গির ভিতর কাফনের কাপড় আছে। আমার মৃত্যু পর গোসল শেষে সামনের খোলা মাঠে নিয়ে যেতে হবে জানাজার জন্য। কিন্তু কেউ ইমামতি করবে না। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেই শ্বেতবর্ণের ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে সাদা চাদরে মুখমন্ডল আবৃত একজন লোক আসবেন এবং উনিই আমার জানাজার নামাজের ইমামতি করবেন।

চারিদিকে শোকাহত মানুষের ঢল। প্রিয় মানুষের বিচ্ছেদে মানসিক যন্ত্রণায় কাতর সবাই। হজরত আমানত খান (র.) এর শেষ ওছিয়ত মোতাবেক মৃত্যু পরবর্তীকালে গোসল শেষে বাঁশের চ্ঙ্গুা থেকে কাফনের কাপড় বের করে পড়ানো হয়। অত:পর খোলা মাঠে খাটিয়া রেখে মুসুল্লীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতেই দেখা যায় একটি সাদা ঘোড়ায় চড়ে এক জ্যোতির্ময় পুরুষ এসে ইমামতির জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। মুখ ঢাকা থাকায় কেউই তাকে দেখতে পারেননি। জানাজা শেষে কিছু বুঝে উঠার আগেই মুহুর্তের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যান আগন্তক। উপস্থিত মুসুল্লীদের মধ্যে অনেকেই বলাবলি করতে থাকেন, তাহলে কি হজরত নিজের জানাজায় নিজেই ইমামতি করলেন?



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
মৌলভীবাজারে সড়কে দুর্ঘটনায় মোটরবাইক আরোহীর মৃত্যু
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুরহাট
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা, আটক হয়নি কেউ
গাইবান্ধায় ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ॥ দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসির মানববন্ধন
কুষ্টিয়ায় গরু ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা !
কুষ্টিয়ায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার !
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২৪
১২’শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি রয়েছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর : দুদক
যে কারণে বিয়ে করেননি অটল বিহারী বাজপেয়ী
শিমুল থেকে শিমুর ২০ বছর
আড্ডায় মাতলেন জয়া-প্রিয়াঙ্কা
তিন দিনের রিমান্ডে ফারিয়া
ফ্যাশন শোতে হাঁটলেন সোনাগাছির বারবণিতারা
জিয়া পরিবারের দুষ্কর্মের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরী: তথ্যমন্ত্রী
ডোমারে গ্রাম পুলিশের গোডাউন থেকে ভিজিএফ চাল আটক,গোডাউন সিলগালা
জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাব মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির চা চক্র অনুষ্ঠিত
আল্লারদর্গা বাজারে এক রাতে ৪ দোকানে সার্টার ভেঙ্গে চুরি : ১ ঘন্টা সড়ক অবরোধ !
আগামীকাল শপথ নিবেন ইমরান খান
মাদক কারবারিদের তালিকায় পুলিশ ও নেতাদের নাম
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ উপজেলার হাসপাতাল গুলিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ব বৃদ্ধি : অসহায় রোগিরা