শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫
Bijoynews24.com
সোমবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০১৮
প্রথম পাতা » Slider » নীরবে ঘটে গেছে বোরকা বিপ্লব
প্রথম পাতা » Slider » নীরবে ঘটে গেছে বোরকা বিপ্লব
৭৪ বার পঠিত
সোমবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নীরবে ঘটে গেছে বোরকা বিপ্লব

---Bijoynews : বাংলাদেশে নীরবে একটি বোরকা বিপ্লব ঘটে গেছে। নারীর পোশাকে এতবড় নীরব পরিবর্তন, অভূতপূর্ব। এটা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অভিজাত বিদ্যাপীঠ থেকে শুরু করে অজপাড়াগাঁয়ের সর্বত্র চোখে পড়ছে। কয়েক শত বছর আগে প্রাচীন বাংলার জনগণ, যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তারা সেটি করেছিলেন দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখে। অনেকেই বলছেন, এই পরিবর্তন বা বিপ্লবের অর্থ ও তাৎপর্য কী? প্রশ্ন হলো যেসব দেশের নারীরা বেশি বোরকা পরবেন, তাদেরকেই অধিকতর ডান, গোঁড়া বা রক্ষণশীল বলার কি কোনো যুক্তি আছে? এর বৈশ্বিক মাত্রা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো দেশের বাস্তবতা কোনো দেশের সঙ্গে মেলে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে কি কোনো বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বা আর্থ-সামাজিক ঘটনার প্রতিফলন এসেছে কিনা সেটাও এক প্রশ্ন।

বাহারি নামের পাশাপাশি পাকিস্তানি, সৌদি, ইরানি, দুবাইয়ের বোরকার দেখা মেলে সহসাই। বিভিন্ন দেশের নামে হলেও তা মূলত তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশেই।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ মনে করেন, মুসলিম প্রধান দেশে বোরকার এই বিপ্লব খুবই স্বাভাবিক। নিজের মেয়ে-সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে বোরকাকে  শক্ত হাতিয়ার ভাবেন অনেক অভিভাবক। আসলেই কি বোরকার কারণে নিরাপদ থাকতে পারছেন নারীরা? আশা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা ইমি বলেন, বাস থেকে নামার সময় অভিনয় করে হেলপাররা প্রায়শই মেয়েদের শরীরে হাত দিয়ে থাকে। অভিনয় বলছি, এই কারণে- ওরা বয়স্ক মহিলার শরীরে প্রয়োজন ছাড়া হাত দেয় না। আবার অকারণে যুবতীদের শরীরে হাত দিয়ে থাকে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক নায়লা কবিরের মতে বাংলাদেশে এখন সৌদি আরবের সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্ম পালন করা হচ্ছে। মহিলার গায়ে বোরকা, মাথায় হিজাব, হাতে-পায়ে মোজা, চোখে সানগ্লাস- এটা সৌদি আরবের সংস্কৃতি। নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর ভর করেই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছিল। কিন্তু সেই ইসলাম এখন আর নেই।

পহেলা ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী হিজাব দিবসও পালিত হচ্ছে। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি নারী নাজমা খানের উদ্যোগে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম তিনি এ দিবস পালনের আহ্বান জানান। বাংলাদেশসহ ১৯০টি দেশে গত বছর এ দিবসটি পালিত হয়।

বোরকা, নেকাব কিংবা হিজাব সংক্রান্ত পরিবর্তনের একটি বৈশ্বিক মাত্রাও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে জার্মান সংসদে নেকাব পরে গাড়ি চালনা এবং পুরো মুখঢাকা সিভিল সার্ভেন্টদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। সেখানকার  একটি ধর্মীয় সংগঠন একে বোরকা ও হিজাবের ওপর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ২০১১ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ফ্রান্স মুখঢাকা নিষিদ্ধ করে। এরপর বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সুইজারল্যান্ড তা অনুসরণ করে। নেদারল্যান্ডস সরকারি অফিস-আদালতে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। ডাচ্‌ সংসদে ১৫০ সদস্যের মধ্যে ১৩২ জন বোরকাবিরোধী বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি কাজকর্ম করতে গিয়ে এমন অনেক সময় আসে যখন মুখোমুখি তাকিয়ে কথা বলতে হয়, তখন সেটা ভিন্ন কিন্তু যখন তারা কর্মক্ষেত্রের বাইরে বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবে, তখন তারা তাদের দরকার পড়লে অবশ্যই পুরো মুখাবয়ব ঢেকে নেবেন।

ডেনমার্কে দেখা গেছে, বোরকা ও নেকাব বন্ধ করা নিয়ে বিরোধী দল সরকারি দলের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার সংক্রান্ত শীর্ষ আদালত বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। দুজন মুসলিম নারী আদালতে আর্জি পেশ করেছিলেন যে, বেলজিয়াম সরকার প্রকাশ্যে পুরোপুরি মুখ ঢেকে চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। এটা ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত। কিন্তু আদালতে তাদের আর্জি খারিজ হয়েছে।

অনেকের মতে কাকতালীয়ভাবে হোক বা না হোক, পশ্চিমা বিশ্বের দেশে দেশে যতই বোরকা ও হিজাববিরোধী খবরাখবর মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়ায় ঝড় তৈরি করেছে, ততই বাংলাদেশে বোরকা ও হিজাবের ব্যবহার বেড়েছে। মনে হয়, অনেক বিশেষজ্ঞ এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র  থাকার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দিচ্ছেন না।  ইউরোপীয় দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে, একটি পোশাক হিসেবে বোরকা নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের যুক্তি হলো, মুখাবয়ব পুরোপুরি ঢেকে চলাচলকারী নিরাপত্তার দিক থেকে কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ঘটেছে মজার কাণ্ড। সেখানে আইন পাসের পরে পুলিশ খবর পেলো যে, এমন একটি পুতুলকে দোকানে শোপিস হিসেবে রাখা হয়েছে, তার পুরোপুরি মুখ ঢাকা। ব্যস, তাতেই পুলিশ হানা দিয়েছিল।

মার্কেল ১০ লাখের বেশি সিরীয় উদ্বাস্তু গ্রহণ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলই একমাত্র কণ্ঠস্বর, যিনি বোরকা বিতর্কে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন যে, সম্পূর্ণরূপে আবৃত কোনো পোশাক মেলবন্ধন বা সামাজিক ইন্টেগ্রেশনের জন্য একটি অন্তরায়। তবে তিনি মনে করেন, বোরকা আবার এমনো কোনো পোশাক নয়, যা কোনো অবস্থাতেই পরা যাবে না। তিনি একটা মধ্যপন্থা নিয়েছেন। অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। যেমন- কোনো আদালত বা পাবলিক সেক্টরের কোথাও এটা গ্রহণযোগ্য নয়, অন্যত্র গ্রহণযোগ্য



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
চট্টগ্রামে গণধর্ষণের শিকার দুই কিশোরী
পদ্মার ডান তীরে ভাঙন ফের আতঙ্ক
২৯শে সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নাগরিক সমাবেশ
ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিএনপি’র সমাবেশ
ডিআরইউ’র বিবৃতি : ডিজিটাল আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়
দুর্নীতিবাজদের নিয়ে জোট করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হচ্ছে
বৃহত্তর ঐক্যের কর্মসূচি প্রণয়নে লিয়াজোঁ কমিটি হচ্ছে
সিলেটে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ
মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার
আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারা
চাকরি না পেয়ে সুইসাইড নোট লিখে খুবি ছাত্রের আত্মহত্যা
গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়
সিএনজি থেকে লাফ দিয়েও বাঁচতে পারলনা প্রিয়া!
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস এবার ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে দর্শনার্থীদের জন্যে নির্মাণ করে দিলেন অত্যাধুনিক বিশ্রমাগার
জকিগঞ্জে আবারো শ্রেণি কক্ষে এক শিক্ষিকাকে ঘুমে পেলেন উপজেলা চেয়ারম্যান
কুষ্টিয়ায় হঠাৎ বাস বন্ধ করে দিলেন পরিবহনশ্রমিকেরা
স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গী সঙ্গীদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হবে না —তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মলনে সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়
পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন ও মেলা অনুষ্ঠিত
কমলগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ