ঢাকা, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮, ৪ মাঘ ১৪২৪
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » চট্রগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব ও আমাদের করণীয়
বৃহস্পতিবার ● ৭ ডিসেম্বর ২০১৭
Email this News Print Friendly Version

চট্রগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব ও আমাদের করণীয়


---: সুলাইমান মেহেদী হাসান :

: বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের যাত্রা খুব বেশী দিনের নয় । বলা যায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ন নতুন ধারার একটি সংবাদ মাধ্যম। কিন্তু খুব অল্প সময়ে অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার ভিড়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম হিসেবে পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এই অনলাইন গণমাধ্যম। ঘটনার সাথে সাথেই সেই ঘটনার খবর, ছবি ও ভিডিও পেতে এই মাধ্যমের কোন বিকল্প নেই। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের আলোচনা সমালোচনা করতে পারছে পাঠক। কোন বাড়তি খরছ ছাড়াই পাঠক সংবাদ পেতে ও সংগ্রহে রাখতে পারছে। প্রবাসী এক কোটি গ্রাহকের একমাত্র মাধ্যমও এখন অনলাইন। ফলে অবিশ্বাস্যভাবে বেড়েছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের পাঠক সংখ্যা। বিবিসির তথ্য আনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে আনলাইন পাঠক ৬ কোটি ১৩ লক্ষ। যাদের চাহিদা মেটাচ্ছে মুল ধারার প্রায় ৫ হাজার অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এ ছাড়া বিভিন্ন সপ্তাহিক, দৈনিক, পাত্রিকা ও টিভি মিডিয়া ও অলাইন নিউজ পোর্টাল চালু করেছে।


উল্লেখিত মূলধারার ৫ হাজার অনলাইন নিউজ পোর্টাল যারা শুধুমাত্র অনলাইনেই সংবাদ পরিবেশন করছে। ফলে নিউজ পোর্টাল পরিচালনার যাবতীয় খরচ তাদের এই পোর্টাল থেকেই সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর কোন সরকারী নীতিমালা নেই। নেই কোন সরকারী বিজ্ঞাপনসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা। অথচ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চেয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টালের ব্যায় অনেকাংশে বেশী বৈ কম নয় । কারন একটি নিউজ পোর্টালকে সার্বক্ষনিক সংবাদ পরিবেশনের প্রস্তুতি গ্রহন করতে হয়। কিন্তু সে পরিমান সুযোগ সুবিধা না থাকায় এই মাধ্যমে কাজ করতে অনেকে আগ্রহ হারাতে পারে।


এমতাবস্থায় অনলাইন সাংবাদিকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, এই মাধ্যমকে বাঁচানোর তাগিদে এগিয়ে আসলেন বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধ্যমের পথিকৃত শামসুল আলম স্বপন। নিউজ পোর্টালগুলোর মালিকদেরকে নিয়ে গঠন করলেন বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা)। শুরু হল অনলাইন নীতিমালা তৈরীর আন্দোলন।


ইতিমধ্যে বেনিয়া টাইপের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল দাবি করল পোর্টাল চালাতে হলে ৫ লক্ষ টাকা সরকারকে জমা দিতে হবে। তাৎক্ষণিক গুটি কয়েক পোর্টাল মালিকের এমন হটকারী দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে সরকারের কাছে বিনে পয়সায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেজিষ্ট্রেশনের লিখিত দাবী জানান শামসুল আলম স্বপন। তিনি দাবি করেন ‘অনলাইন নিউজ পোর্টাল সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অন্যতম সারথির ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে ২৪ ঘন্টা দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। এমতাবস্থায় সরকারের উচিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে ভূর্তুকি দেয়া। যাতে তারা নির্বিগ্নে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সহযোগীতা করে যেতে পারে।’

তাঁর এই যুক্তিসংগত দাবীর ফলশ্রুতিতে সরকার অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া চুড়ান্ত করেছে। একই সাথে বিনে পয়সায় নিউজ পোর্টাল রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তথ্য অধিদপ্তর বরাবরে আবেদনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


অন্যদিকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনলাইন ভার্সন থাকলেও তাদের সংবাদকর্মীরা মূলত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকেই বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। আবার আপদকালীন তাদের সহযোগীতায় রয়েছে প্রেস ক্লাব ও ইউনিয়নসহ বহু সংগঠন। কিন্তু মূলধারার অনলাইন সংবাদকর্মীদের (যারা শুধুমাত্র অনলাইনে কাজ করেন) স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন সংগঠন নেই। বিষয়টি অনুধাবন করে শামসুল আলম স্বপন এর নেতৃত্বে গঠিত হয় সকল অনলাইন সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠন জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাব। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সিলেটসহ প্রায় সকল বিভাগ-জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই সংগঠনের কমিটি গঠিত হয়েছে। এক কথায় সারাদেশে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পুরোদমে চলছে অনলাইন প্রেস ক্লাবের কার্যক্রম।

অবশ্য এই দুটি সংগঠনের সফলতা যে কোন বাধা ছাড়াই অর্জিত হয়েছে তা কিন্তু নয়। এখানে সু-বাঁশ গংসহ নানা ব্যক্তিদের নানা চক্রান্ত কাজ করেছে। চক্রান্ত হয়েছে সংগঠনের ভিতর ও বাহির থেকে। কিন্তু শামসুল আলম স্বপনের দৃঢ় নেতৃত্ব সংগঠন দুটিকে অনন্য উচ্চততায় দাঁড় করিয়েছে। তাঁর যে গুনটি সবচেয়ে বেশী প্রশংসিত হয়েছে সেটি হল তিনি সংগঠনের স্বার্থে কোন বড়-জাতীয় ব্যক্তিত্ব অথবা বড় সাংবাদিকের তোয়াক্কা না করে সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিযেছেন। কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করেননি কখনো। এমনকি চাটুকার বা পদলেহনকারীদেরও তিনি পাত্তা দেননি। যা সারা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে বিস্তৃত সংগঠন দুটির ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য অনুকরনীয় হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রামেও একই ধারাবাহিকতায় বনপা চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব গঠিত হয়েছে । তবে বাংলাদেশের অন্য সব স্থানের চেয়ে চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। এখানে সংগঠন গঠনের আগেই প্রতিষ্ঠিত ছিল চক্রান্তকারীরা। ফলে নিউজ পোর্টাল মালিক ও কর্মরত সাংবাদিকদের সংঘবদ্ধ করতে প্রতিমূহুর্তে এখানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। সু-কৌশলে বেছে বেছে এক-দু পা করে সম্মুখে আগাতে হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য একটিমাত্র অফিস ব্যতীত যে কয়টি অফিসে সংগঠন দুটো গঠনকল্পে বৈঠক হয়েছিল একদিন পরেই ঐ আয়োজক পোর্টাল চক্রান্তকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর এত সাবধানতা সত্বেও চট্টগ্রামের এই দুটো সংগঠন গঠিত হয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেনি। গঠনের মূহুর্ত থেকে শুরু আভ্যন্তরিন চক্রান্ত। যা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম আমরা, সেই পূর্বের প্রতিষ্ঠিত চক্রান্তকারীদের অনুপ্রবেশ কোনভাবে ঠেকানো যায়নি। এছাড়া নিউজ পোর্টাল মালিক ও সাংবাদিকদের এই সংগঠন দুটিতে সাংবাদিকের লেবাস ধরে ঢুকে পড়েছে কতিপয় ব্যক্তি। যারা প্রতিমূহুর্তে ফেসবুকিং, ব্যবসা আর বাইরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

ঠিক যেমন শামসুল আলম স্বপনের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে বনপা ও জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাব গঠনের পর চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জসহ কিছু জায়গার কতিপয় ব্যক্তিরা লেবাস দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল। আর মনে করেছিল স্বপনের দরকার কি আমরাই মনে হয় ভাল পারি। কিন্তু এই তথাকথিত ভাল পারা লোকগুলোকে এখন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। আজ কোথায় তারা! শামসুল আলম স্বপন এর দৃঢ় সিদ্ধান্তে তারা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমরাও দ্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বনপা চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। কত রাত জেগেছি, কত সময়, মেধা, শ্রম ত্যাগ করেছি এ সংগঠনের জন্য। অতএব ভিতর-বাহিরের কোন অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার সুযোগ এখানে দেয়া হবে না। আমরা পিছপা হবো না আমাদের পথিৃকত, মডেল শামসুল আলম স্বপনের পদাংক অনুসরন করতে। যিনি অনলাইনের টিমটিম করে প্রজ্জলিত আলোক বর্তিকা নিয়ে ছুটে চলেছেন নিরন্তর। আমরা বিশ্বাস করি নতুন গণমাধ্যম অনলাইন যেভাবে ৬ কোটি ১৩ লক্ষ পাঠকের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গিয়েছে তেমনি অনলাইনের স্বার্থ রক্ষার এই দুটো সংগঠন বাংলার বুকে নিউজ পোর্টাল মালিক ও সাংবাদিকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।


সেদিন ইতিহাস শ্রদ্ধাভরে স্মরন করবে বনপা ও জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল আলম স্বপন, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ সংগঠক ড. জানে আলম রাবিদ, অধ্যাপক আকতার চৌধুরী, নির্মল বড়ুয়া মিলন, বনপার সাধারণ সম্পাদক রোকমুনুর জামান রনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে। আর ইতিহাস ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে সেই সকল চক্রান্তকারীদের যারা জাতি ও সংগঠনের চেয়ে আত্মপ্রচার ও আত্মমর্যাদাকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছিল।


লেখক :


সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাই নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা) চট্টগ্রাম।


ও সভাপতি, চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাব।



তিন দিনের সফরে ভারত গেলেন সেনাপ্রধান

রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যৎ সমিতির গাফিলতিতে শ্রমিকের মৃত্যু
রণক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ, আইভীসহ আহত শতাধিক
আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা
সন্ধ্যায় চূড়ান্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নাম
কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বাস খাদে, হেলপার নিহত:আহত -১৫
ডিএনসিসি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করুন: রিজভী আহমেদ
৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে বিভক্ত আদেশ হাইকোর্টের
ডিএনসিসিতে সালিশ বৈঠকে অপু
বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত কমপক্ষে -৩৮
৮ উইকেটের দাপুটে জয় পেল বাংলাদেশ
বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ: শাবি ছাত্র গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রণব মুখার্জির সাক্ষাৎ
আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষ রায় হত্যা মামলা: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড
অস্ত্র মামলায় গাংনীর পৌর মেয়রের ১০ বছর কারাদণ্ড
ডিআইজি মিজানের ‘স্বর্ণকমল’ ও পরিবারের ক্ষমতার দাপট
রাজশাহীতে অতিরিক্ত মদপানে কলেজছাত্রীর মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জাতিকে হতাশ করেছে: বিএনপি
ভৃমিদস্যুদের দখলে বরাখ নদী : মৌলভীবাজারে সরকারী খাস জায়গা জবরদখল করে যুবলীগ নেতার কেজি স্কুল নির্মান
চিরিরবন্দরে অচল পা কেটে বাচঁতে চায় প্রতিবন্ধী রবিন্দ্র
রাঙামাটি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জনসাধারনের পায়ে হাটার ফুতপাত কেটে ফেলেছেন