ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২৪
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » বিডিআর বিদ্রোহ : ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার ● ২৮ নভেম্বর ২০১৭
Email this News Print Friendly Version

বিডিআর বিদ্রোহ : ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

---Bijoynews : হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে রায়ের অপেক্ষায় আসামির স্বজনরা -ছবি: শাহীন কাওসার

ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় এলো হাইকোর্ট থেকে। মৃত্যুদণ্ড বহাল রইলো ১৩৯ আসামির। একই সঙ্গে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর হাইকোর্টের রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে ১৯৬ জনকে। গতকাল বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ পিলখানা হত্যা মামলার এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারক হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

 

দুইদিন পর্যবেক্ষণ পড়া শেষে গতকাল দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা শুরু করেন আদালত। প্রথমে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া ১৯৬ জনের রায় ঘোষণা করেন। এরপর সরকারের করা ৬৯ জনের আপিলের রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। এরপর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। সব শেষে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। দেশের ইতিহাসে আলোচিত এই মামলার রায়ে এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। তবে, দুইদিন পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়ে শোনান আদালতের বিচারপতিগণ।
গতকাল সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিট থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত রায়ের পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। এ সময় তিনি বেশকিছু পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করাই বিডিআর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম
। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল এই বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য। এমন ঘটনা ঘটতে পারে- সেটি বুঝতে তৎকালীন বিডিআর’র নিজস্ব গোয়েন্দারা কেন ব্যর্থ হলো এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালতের বিচারক। তিনি বলেন, গোয়েন্দারা কেন ব্যর্থ হলো? তারা কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারলো না। সেই ব্যর্থতা খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। বর্তমান বিজিবিতে কোন সমস্যা এলে, জওয়ানরা কোন সমস্যা নিয়ে এলে এই বাহিনীর মহাপরিচালককে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে বলেন আদালত। একই সঙ্গে সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ দেন আদালত। ওই সময়ে বিডিআর’র ডাল-ভাত কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালতের বিচারক। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কোনো কর্মসূচি যেন না নেয়া হয়, সে ব্যাপারেও বিজিবিকে সতর্ক করেন তিনি। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, তখনকার বিডিআর-এ কোনো সেনা কর্মকর্তা থাকবেন না- এটিই ছিল বিদ্রোহে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মূল উদ্দেশ্য। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, আমাদের একই দেশ। এখানে কেউ আমাদের ভাই, কেউ আমাদের ছেলে। আমাদের এ ধরনের (ঔপনিবেশিক) মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি ভালো প্রশাসন পাওয়া যাবে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিডিআর’র তখনকার মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী। এ ঘটনায় ২৮শে ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ই নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জন খালাস পান। পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের নথি হাইকোর্টে আসে। আর খালাস পাওয়া ৬৯ জনের সাজা চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৫ সালের ১৮ই জানুয়ারি হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত ১৩ই এপ্রিল মামলার রায় যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রোববার মামলার রায় ঘোষণা শুরু করেন আদালত। দুই দিন পর্যবেক্ষণ পড়া শেষে গতকাল ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মূল রায় ঘোষণা করা হয়।
এ মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রয়েছে। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে তাদের যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন ৪ জন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এক আসামি মির্জা হাবিবুর রহমান বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে এ মামলায় বিচারে যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছিলেন ১৬০ জন। গতকাল হাইকোর্টের রায়ে এদের মধ্যে ১২ জন খালাস পেয়েছেন। আর বিচার চলাকালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু (বিএনপি নেতা) ও মো. শফিকুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। এ মামলায় বিচারিক আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল হাইকোর্টের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হয়েছে। ওই ৬৯ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ৩১ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। ৪ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ৩৪ জন। এ মামলায় নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছিলেন ২৫৬ জন। এর মধ্যে গতকাল হাইকোর্টের রায়ে ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮২ জন ১০ বছর করে সাজা পেয়েছেন। আর দুই জনের ১৩ বছর, ৮ জনের ৭ বছর এবং ৪ জনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২৯ জন খালাস পেয়েছেন। ২৮ জন আপিল করেননি।
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে সাবেক বিডিআর’র চাকরিচ্যুত ডিএডি তৌহিদুল আলমের। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- সেলিম রেজা, শাহ আলম, গোফরান মল্লিক, এসএম আলতাব হোসেন, মো. সাজ্জাদ হোসেন, আবু তাহের, মো. আজিম পাটোয়ারী, মো. রেজাউল করিম, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, মো. জাকারিয়া মোল্লা, মো. আবদুল করিম, জিয়াউল হক, মো. রুবেল মিয়া, খন্দকার শাহাদাত হোসেন, মো. ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল মামুন, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, রাজিবুল হাসান, সিদ্দিকী আলম, সুমন মিয়া, কামাল মোল্লা, মো. অনোয়ারুল ইসলাম, মো. শাহজাহান আলী, আবদুল মুহিত, রিয়ন আহমেদ, মো. ইব্রাহীম, শাহীন সরকার, জালাল উদ্দিন আহমেদ, মতিউর রহমান, কাজী আরাফাত হোসেন, হায়দার আলী শেখ, মতিউর রহমান, ওয়াজেদুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান, মো. হারুন-অর-রশিদ, মো. আতিকুর রহমান, বিল্লাল হোসেন খান, মাসুদ ইকবাল, ওমর আলী মোল্লা, রাজু মারমা, আল-মাসুম, সফিকুল ইসলাম ওরফে শফি, জসিম উদ্দিন খান, জিয়াউল হক, মো. মহসিন আলী, সফিউজ্জামান, সৈয়দ কবির উদ্দিন, নাজমুল হোসেন, মো. আবদুল বারী, রাখাল চন্দ্র দাস, মো. রফিকুল ইসলাম, আরশাদ আলী, মো. নজরুল ইসলাম, পল্টন চাকমা, মইন উদ্দিন, হাসিবুল হাসান, রেজাউল করিম, মুকুল আলম, মো. বাকী বিল্লাহ, মো. আনিসুর রহমান, মকবুল হোসেইন, মো. সালাউদ্দিন, নুরুল হুদা, শাহী আখতার, আনোয়ার হোসেইন, হাসনাত কামাল, এমদাদুল হক, বেলায়েত হোসেন, আবুল কালাম আজাদ। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন, মো. সেলিম, কামরুল হাসান, আলী হোসেন, মনোরঞ্জন সরকার, রমজান আলী, সাইফুদ্দিন মিয়া, জাকির হোসাইন, মোজাম্মেল হক। আর খায়রুল আলম, আলী আকবর, বিল্লাল হোসেন ও মেজবাহ উদ্দিন মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে জাকির হোসেইন ছাড়া বাকি সবাই তৎকালীন বিডিআর-এ বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন।
এ মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছিলেন সাবেক বিডিআরের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা তোরাব আলী। গতকাল হাইকোর্টের রায়ে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে আরো ১১ জন খালাস পেয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- আলতাব হোসেন, মো. কামরুজ্জামান, রায়হান চৌধুরী, গৌতম দেব, সিরাজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, জিল্লুর রহমান, দেলোয়ার হোসেইন, আলম আলী, বুলবুল হোসেইন উ চিং মারমা, জাকিরুল ইসলাম, রেনেল চাকমা, জিয়াউর রহমান, আবদুল রশিদ, আবদুল গোফরান, সফিকুল ইসলাম, মফিজুল হক, মাসুদ রানা, মো. দলিল উদ্দিন, মো. ফেরদৌস, আবু তৈয়ব, ওমর ফারুক, অসীম কুমার কুণ্ডুু, আলমগীর হোসেইন, আশরাফ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, আব্দুল করিম, হাতেম আলী, জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার খান, গোলাম কিবরিয়া, আবু বকর সিদ্দিকী, মো. আবু মোয়াজ্জেম, মো. শাহ আলম মো. সেলিম ভূঁইয়া। এর সবাই তৎকালীন বিডিআর-এ বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত যে, ৫৭ জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সরকারের বুদ্ধিমত্তা ও অনতিবিলম্বের ব্যবস্থা নেয়ার কারণে আরো বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে জাতি রেহাই পেয়েছে। তবে মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকর বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে এটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের যে বর্তমান সাংবিধানিক বিধান আছে, তাতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোনো আসামি যদি আপিল করে তাহলে আপিলটা এমনিতেই আদালতে শুনানি করতে হয়। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়েও একই বিধান রয়েছে। তিনি আদালতের দেয়া পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলেন, আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিজিবি সদস্যদের যেন আর ডাল-ভাতের মতো কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত করা না হয়। এই বাহিনীর যারা সদস্য আছে, তাদের একের সঙ্গে অন্যের সদভাব যেন আরো দৃঢ় করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাতে এই বাহিনীর সবার অভাব-অভিযোগের দিকে নজর রাখে। কোনো গোপন অভাব-অভিযোগও যদি থাকে তাও খোঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। আর এ বাহিনীর সদস্যদের যাদের টিএ-ডিএসহ বিভিন্ন বিল এখনও পাওনা আছে তা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। তাদের ছুটি ও অন্যান্য বিষয়গুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আর তৎকালীন বিডিআরের যে সিকিউরিটি ইউনিট ছিল তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কেন তারা সরকারকে তথ্য দিতে পারেনি। সে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে তাদের ব্যর্থতার কারণ খোঁজে বের করার জন্য। রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উচ্চ আদালতের রায় আমদের জন্য শিরোধার্য। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমরা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো। এ মামলায় আসামী পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল বাসেত মজুমদার, মহসীন রশীদ, এসএম শাহজাহান, সালাহউদ্দিন, শামীম সরদার প্রমুখ।
খালাসপ্রাপ্তদের স্বজনদের আনন্দাশ্রু: তৎকালীন বিডিআরে ৩২ বছরের চাকরি জীবনের শেষের দিকে অবসরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে বদলি হয়ে পিলখানায় এসেছিলেন আলী আসগর। এসেই তিনি এই ঘটনার মধ্যে পড়ে যান। নিম্ন আদালতে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছিল। গতকাল আপিলের রায়ে তিনি খালাসের আদেশ পান। এই রায় শুনে আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলেন তার স্ত্রী রেহেনা বেগম। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর থেকে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আমার কষ্টের জীবন শুরু হয়। আমার এক মেয়ের প্রবাসী জামাতা জাহিদ হাসানের সহায়তায় মামলা লড়তে হয়েছে। মামলায় আমাদের ৮ লাখের বেশি টাকা খরচ হয়েছে। তারপরও ন্যায়বিচার পেয়ে আমরা খুশি।
রায়ের পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা: হাইকোর্টে আপিলের রায় ঘোষণা শুরুর পর থেকে গত দু’দিন ধরে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন বেশ কিছু আসামির স্বজনরা। যৌথভাবে তিন বিচারপতির রায় ঘোষণার পর আইনজীবীরা বেরিয়ে আসলে তারা মামলার রায় জানতে পারেন। এ সময় বেশ কয়েকজন স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এনেক্স ভবনের সামনে অপর এক নারী স্বজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জন্নাতুল ফেরদৌস। বার বার ‘বাবা ও ভাই’ বলে বিলাপ করছিল। আপিলের রায়ে তার ভাই জাকির হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। তার দুই ভাই ও এক চাচার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।


ঝিনাইদহে এবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীর জরিমানা

রাজশাহী কারা হাসপাতালের বেড বাণিজ্যে ডাঃ সায়েম


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে: প্রধানমন্ত্রী
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভূমিমন্ত্রীর ছেলে কারাগারে
সাবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি
শ্রুতির বেপরোয়া কাণ্ড
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াই গর্ভবতী স্ত্রী, অবাক প্রবাসী স্বামী!
কোনো মুসলিম দেশ মার্কিন নীতি অনুসরণ করলেই সম্পর্ক ছিন্ন করবে ওআইসি
গরু চুরির মামলায় সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছে পিবিআই
ফুলবাড়ী ভুমি অফিসে চলছে সীমাহীন দুর্নিতি
সুন্দরগঞ্জে কৃষি জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মানের অভিযোগ
নীলফামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২১টি পরিবার ভষ্মিভূত
মৌলভীবাজারে প্রাইম ফার্মার ঔষধে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের দায়ে জরিমানা আদায়
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্ণীতিসহ অনিয়মের অভিযোগ
খাগড়াছড়ির গুইমারায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার: ছয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক
বগুড়ার শাজাহানপুরে অটোরিক্সার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১০শিক্ষাথী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক
আলামপুরে মাদক বিরোধী আলোচনা সভায় বক্তারা মাদক ব্যবসায়ীরা এদেশের নব্য রাজাকার
কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পনকারী জঙ্গি সদস্যকে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান
আজ পুনমের জন্মদিন