ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৭ ফাল্গুন ১৪২৪
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » ‘ডুব’ দেখে চুপ
শুক্রবার ● ৩ নভেম্বর ২০১৭
Email this News Print Friendly Version

‘ডুব’ দেখে চুপ

 

 

 

---Bijoynews : একটি সুন্দর সুখী পরিবার। যে পরিবারটির অতীত হয়তো একটু সংগ্রামী ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় একটি আলোকিত সুখী পরিবারে রূপ নেয়। সে পরিবারে ভালোবাসা স্নেহ মমতার কোনো অভাব নেই। পাশাপাশি আছে সামাজিক মর্যাদা, সুনাম ও খ্যাতি। পিতাপ্রধান আমাদের এ সমাজে এমন সুখী পরিবারের সন্তানরাই আলোকিত আগামীর দিকে এগিয়ে চলে। আর এমনটাই আমরা দেখে আসছি। এ আলোকিত পরিবারটি হলো একজন মধ্যবয়স্ক স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা জাভেদ হাসানের জীবন কাহিনি। তার সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে। বাবা-মায়ের সংসারে বেশ আনন্দে জীবন কাটছে তাদের। এটি হচ্ছে ‘ডুব’ চলচ্চিত্রের কাহিনি। এ চলচ্চিত্রের মূল আলোচনায় এলে দেখা যায়, একটা পেপার কাটিং এবং তা নিয়ে তুমুল কলহের জেরে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপড়েন, ক্ষমা চাওয়া এবং স্যরি বলে বেড়াতে যাওয়ার পরও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হতে থাকা। স্ত্রী জাভেদকে প্রশ্ন করে, ১২১ নম্বরে তুমি এখনো ওর সঙ্গে কথা বলো। ১২১ দিয়ে জাভেদের মোবাইলে যে নম্বর সেভ করা আছে তা হলো তার মেয়ে সাবেরীর বান্ধবী নীতুর নম্বর। দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপড়েন শেষ হতে না হতেই নতুন করে আবার শুরু। নীরবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলে তুমুল কলহ। সাবেরী আড়াল থেকে সব কিছু খেয়াল করছে। একদিন সকালে খাবার টেবিলে জাভেদ পানি না পেয়ে তার স্ত্রীকে ডাকে, কিন্তু উত্তর মেলে না কারো। এমন একটি অবস্থায় জাভেদ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বাবার চলে যাওয়া বুঝে সাবেরী দৌড়ে এসে গ্লাসে পানি নিয়ে বাবার কাছে ছুটে যায়। নীরবে বাবার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সাবেরী নীরবতার মধ্যে ছিল নীরব ক্ষোভ, অভিমান ও অসহায় বোধের চিহ্ন। জাভেদ গ্লাসটি হাতে নিয়ে পানি খেয়ে সাবেরীর দিকে একটু অপরাধীর মতো তাকিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যায় শুটিং হাউসের বাসায়। সেখানে চুপি চুপি সাবেরীর বান্ধবী হাউসের কেয়ারটেকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়ে। এর পর রুমে ঢুুকলে জাভেদ তাদের ধমক দিয়ে বলে এখানে কেন এসেছ? জাভেদ দরজা বন্ধ করে দেয়। এমন সময় মেয়ের বান্ধবী নীতু জাভেদকে বলতে থাকে, তুমি এমনটা করতে পার না আমার সঙ্গে। এর পর বের হয়ে গিয়ে নিজের গাড়িতে বসে থেকে বাসার দিকে খেয়াল রাখতে থাকে। এর আগে একদিন জাভেদকে শুটিং হাউসের বাসায় রাতে থাকতে দেখা যায়। সে দিনও হাউসের কেয়ারটেকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুুকে মেয়ের বান্ধবী নীতু বিষণœœ জাভেদের পাশে এসে বসে আর ব্যাগ থেকে একটি সিগারেট বের করে নিজেই টানতে থাকে। এর পর জাভেদ তাকে বলে, তোমার কাছে কি সিগারেট আছে? নীতু উত্তর দেয়, আমার সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। জাভেদ তাই করে। এর পর ভোরে মেয়ে নীতু হাউসের প্রাচীর টপকে বের হতেই কেয়ারটেকারের সামনে পড়ে যায়। এখানে একটি গভীর বিষয় হলো মেয়ের বান্ধবী একজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলার সাহস পায় কীভাবে এবং সারারাত এক ঘরে কাটায়? এখানে বিরাট একটি প্রশ্ন সামনে এসে যায়। গভীরভাবে ভাবলে অনেক কিছুই উঠে আসে এখানে। এসব ঘটনার সবটাই কেয়ারটেকার জাভেদের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী মায়ার কাছে বলে। এসব দৃশ্যের পর পরই দেখা যায় মেয়ের বান্ধবী নীতুকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছে জাভেদ। বিষণœ জাভেদকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নীতু বলছে, এমন একজন মানুষের সঙ্গে আমার সারাজীবন সংসার করতে হবে যে কিনা মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় বিষণœ থাকে। এর পরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। নির্মাতা জাভেদের মেয়ে সাবেরী কলেজে তার সহপাঠীদের এড়িয়ে লুকিয়ে ক্লাসে ঢোকে। আবার কখনো কলেজ থেকে কাঁটাতারের প্রাচীর টপকে বেরিয়ে আসে। ছেলেও তার সহপাঠীদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সব মিলিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে এক সময়ে সুখী পরিবারটি। আপসহীন মা মায়া সংসারের দায়িত্ব নেন নিজের হাতে। একটি কলেজে শিক্ষিকার চাকরি নেন মায়া। স্বামী জাভেদ হাসানের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে মেয়ে সাবেরী বাবার কাছে যান এ কথা জানাতে যে, বাবা তুমি আর কোনো দিন আমাদের কোনো খবর পাবে না। এর পর জাভেদ অনেক বার চেষ্টা করেন মেয়ে সাবেরীর সঙ্গে যোগাযাগ করতে। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এর পরের কাহিনিতে অসহায় সুখী পরিবারটি বাবা ও স্বামী ছাড়া সুখ খুঁজতে থাকে প্রকৃতির মাঝে। একদিন হঠাৎ নির্মাতা জাভেদ পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুর খবর জাভেদের ছোট ভাই মায়াকে জানান। সময়টা তখন ছিল সকাল। অন্য সব সকালের মতো সাবেরী ঘুম থেকে ওঠে। তার ছোট ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। তখনো সাবেরী জানে না তার বাবার মৃত্যুর খবরটি। তারা নাশতা করতে বসেন। মা মায়া নাশতার শেষে তার বাবার মৃত্যুর খবরটি জানান। দৃশ্যটি এমন ছিলÑ বাবার মৃত্যুর খবরে যেন তারা আগেই পেয়ে আছেন। ‘ডুব’ চলচ্চিত্রে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘হুমায়ূন আহমেদ’-এর জীবনী তুলে ধরেছেন বলে এতদিন শোনা গেলেও আসলে একটি আলোকিত পরিবার কীভাবে একটি অন্ধকূপে পড়ে যায়, সে বিষয়টি দেখিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। ফারুকীর ছবির ভিজ্যুয়াল এবং কাহিনির গভীরতা মস্তিষ্কে নাড়া দেবে। আমাদের সমাজে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। তার কয়টা কাহিনি হয়ে চলচ্চিত্র আকারে প্রকাশ পায়? যে মানুষগুলোর সুখের সংসার এভাবে একটি মেয়ের লোভ ও অসুস্থ মোহে ভেঙে যায়, কেবল তারাই বলতে জানে এ বেদনার তুষের আগুন কতটা নির্মম ও অসহনীয়। পাশাপাশি আমাদের নেতিবাচক সমাজ সেই আগুনে তো প্রতিনিয়ত ঘি ঢালতে থাকে। আলোচনা-সমালোচনা সব মিলিয়ে আমাদের সমাজ। এভাবেই এগিয়ে চলেছে আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবন।


‘২০-২৫ বছর পর বোঝা যাবে গান টিকে থাকার বিষয়টি’

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের জোড়া খুন


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
যে কারণে “অনলাইন প্রেসক্লাব” গঠন করবেন ?
‘শয্যসঙ্গী হওয়ার বিনিময়ে ত্রাণ…….!’
৬৬ জন আরোহী নিয়ে একটি ইরানি বিমান বিধ্বস্ত
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ৮ম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক প্রদান -২০১৮
মৌলভীবাজারে মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ
গাইবান্ধায় বিএনপির স্মারকলিপি প্রদান
২৯ প্রকল্প উদ্বোধন করতে রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
পরকীয়ার অভিযোগে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায়, ৩ নারী আটক
গুলি করে পালানো যুবক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
কুষ্টিয়ায় স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা
সাংবাদিক হত্যা ও হয়রানীমূলক মামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মানববন্ধন
গ্যাস লাইটেই নিভে গেল অনিলের জীবন
নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
ভালোবাসা দিবস থেকে অনশন, অতঃপর বিয়ে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটককে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী আটক, পোড়াদহে অজ্ঞাত বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার
জোবায়েদা নয়; ঢাকায় আসছে শর্মিলা
পুরুষ সেজে দুই মেয়েকে বিয়ে করে সুইটি!
চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল ক্ষতি, পুড়েছে ব্যাংকের বুথ, ফার্নিচারের শো-রুম
চমক নিয়ে আসছেন বুবলী
‘আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না’