ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৭ ফাল্গুন ১৪২৪
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ
সোমবার ● ৩০ অক্টোবর ২০১৭
Email this News Print Friendly Version

পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ

———————————————————————————————–
এম নজরুল ইসলাম
————————————————————
---সামাজিক সংগঠন, মাদক বিরোধী সামাজিক আন্দোলন’কে সব ধরণের সহযোগিতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগদান করে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক সহ অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে জোড়ালো বক্তব্য দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সৃষ্টি করেছিলেন অভূতপুর্ব গণজাগরণ। বহু মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী তাঁর কাছে আতœসমর্পণ করে ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক জীবনে। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বাহুশক্তি বা ক্ষমতা শক্তি দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে গণসচেতনা গড়ে তুলেছেন এবং বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষনা করেছিলেন ‘জিরো টলারেন্স’। সাধারন মানুষের সাথে সখ্যতা অর্জনে সফল ও সহযোগীতার মাধ্যমে অপরাধ দমনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়া ও নওগাঁ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো : মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম। এই দুই জেলা থেকে বিদায়কালে কেঁদেছিল পুলিশের সকল সদস্য ও সাধারন মানুষ। বগুড়া ও নওগাঁর স্বপ্নের মাদক তথা অপরাধমুক্ত জেলা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সেবা (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় সন্ত্রাস এবং নাশকতা প্রতিরোধ, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযানে সফল নেতৃত্ব। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পুলিশ বাহিনীতে কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের জন্য আইজিপি পদক, বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট মেডেল (পিপিএম) সেবাসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ সুপার হিসেবে ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত হন। তিনি ২০০৮ সালে শাস্তিরক্ষা মিশনে বিচক্ষণতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তি পদকে ভূষিত হন।
মোজাম্মেল হক ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন এবং ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগ দেন। ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করে জয়পুরহাট জেলায় যোগ দেন। জয়পুরহাট জেলায় তিনি সফলতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, কালাই উপজেলার কয়েকটি গ্র্রামে অবৈধ এবং অমানবিকভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কিডনির পাচারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এই সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে মোজাম্মেল হককে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি পুলিশ ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হিসেবে পিপিএম পদক দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি বগুড়ার পুলিশ সুপার হিসেবে হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩ জুন তিনি নওগাঁর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন। গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলার মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র্রে পেশাগত দক্ষতা অর্জনেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় কর্মোদ্যোমে রাত-দিন ছুটে চলা এই কর্মকর্তার বদলীর খবরে ভারাক্রান্ত সহকর্মী, অধীনস্থ সদস্যগনসহ সর্বমহল অশ্রুসিক্ত নয়নে ভেঁসেছেন। বিদায়কালে মোজাম্মেল হক রেখে গেছেন স্মৃতি আর অভুতপুর্ব সৃষ্টিকর্ম। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা হয়েও তিনি বিভাগীয় উর্দ্ধতন ও অধঃস্তন সদস্যগন ছাড়াও নিরহংকারী, নিরলসভাবে কাজ করে মন জয় করেছেন সর্বস্তরের মানুষের। এ যেন বিশেষ করে পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তার জন্য ব্যতিক্রমী অনেক বড় পাওয়া। ‘পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সৃষ্ট ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ কমিটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল দীর্ঘদিন ধরে। মোজাম্মেল হক যোগদানের পর এই কমিটিকে সক্রিয় করে নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে দুই জেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। যা জনমানুষের কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। কবির ভাষায় ‘যেতে নাহি দেব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবুও চলে যায়।
মোজাম্মেল হক ১৯৬৮ সালে ১৫ জানুয়ারি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কাশীপুর গ্রামে নানার বাড়িতে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ  করেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল জব্বার বিশ্বাস। মায়ের নাম মোমেনা বেগম। ১৯৮৪ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৮৬ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ডিভিএম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই প্রতিষ্ঠানে এমএস কোর্সে ভর্তি হন। ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী সুলতানা হক কণা একজন গৃহিণী। তিনি মেধাবী দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।


মগবাজারে বোমা বিস্ফোরণ, পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ

২৩ তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ ২৩) ঃ জলবায়ু অর্থায়নে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংগতি, জনঅংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিতে সনাক কুষ্টিয়ার মানববন্ধন


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
যে কারণে “অনলাইন প্রেসক্লাব” গঠন করবেন ?
‘শয্যসঙ্গী হওয়ার বিনিময়ে ত্রাণ…….!’
৬৬ জন আরোহী নিয়ে একটি ইরানি বিমান বিধ্বস্ত
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ৮ম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক প্রদান -২০১৮
মৌলভীবাজারে মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ
গাইবান্ধায় বিএনপির স্মারকলিপি প্রদান
২৯ প্রকল্প উদ্বোধন করতে রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
পরকীয়ার অভিযোগে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায়, ৩ নারী আটক
গুলি করে পালানো যুবক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
কুষ্টিয়ায় স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা
সাংবাদিক হত্যা ও হয়রানীমূলক মামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মানববন্ধন
গ্যাস লাইটেই নিভে গেল অনিলের জীবন
নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
ভালোবাসা দিবস থেকে অনশন, অতঃপর বিয়ে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটককে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী আটক, পোড়াদহে অজ্ঞাত বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার
জোবায়েদা নয়; ঢাকায় আসছে শর্মিলা
পুরুষ সেজে দুই মেয়েকে বিয়ে করে সুইটি!
চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল ক্ষতি, পুড়েছে ব্যাংকের বুথ, ফার্নিচারের শো-রুম
চমক নিয়ে আসছেন বুবলী
‘আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না’