ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪
Bijoynews24.com
প্রথম পাতা » Slider » প্রেয়সীর ঘাতক ও বর্বর ধর্ষক তুফানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ
সোমবার ● ৩১ জুলাই ২০১৭
Email this News Print Friendly Version

প্রেয়সীর ঘাতক ও বর্বর ধর্ষক তুফানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ

 ---: পীর হাবিবুর রহমান :

বগুড়ায় মা-মেয়েকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার মতো নৃশঃস বর্বরতার ঝড় থামতে না থামতেই রাজধানীর বাড্ডায় রোববার রাতে মা-বাবার একমাত্র আদরের কন্যা ও শিশু প্রেয়সীকে অজ্ঞাতনামা ঘাতক ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। কি বিভৎস, কি মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনা। নূন্যতম মনুষত্ববোধ থাকলে এমন পাশবিকতা কেউ করতে পারে না। হিংস্র জানোয়ারের পক্ষে যে কাজ সম্ভব নয়, সেটিই করেছে যৌনবিকৃত, মানসিক বিকারগ্রস্ত পুরুষ। এই লজ্জা আমাদের সবার। ঘাতকের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার আইনে প্রাপ্য শাস্তি সবার দাবি। গোটা দেশ বগুড়ার ঘটনায় প্রতিবাদমুখর। একটি অসুস্থ, অনিরাপদ সমাজে বাস করছি আমরা। যেখানে সংবিধান প্রদত্ত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দূরে থাক একটি অবুঝ শিশু ও নারীর সম্ভ্রম রক্ষার গ্যারান্টি রাষ্ট্র দিতে পারছে না।
আজ সবার প্রশ্ন রিক্সাচালকের সন্তান দু’বছরেই তুফান সরকার কোটিপতি, ধর্ষক ও বিত্তবান হয় কি করে? কেমন করে জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক লীগের বগুড়া পৌর শাখার সভাপতি হয়ে যায়? হাইব্রিড, হাইব্রিড বলে এত চিৎকার, এত আর্তনাদ, এত সতর্কবাণী সারাদেশ জুড়ে তবুও বিএনপির এককালের দুর্গখ্যাত বগুড়া শহরে শ্রমিক লীগের নেতা হয়ে তুফান সরকার হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য, বর্বর, শয়তান। কারা তাকে দলে নিয়েছেন? কারা তাকে আশ্রয়, প্রশয় এমনকি দুধ কলা দিয়ে সাপের মতো পুষেছেন? কারা তার মাদক ব্যবসার শক্তির উৎস? কারা তার রাজনৈতিক শেল্টার? এই অপরাধের দায় বা একজন নিষ্ঠুর ধর্ষক তুফান সরকার তৈরিতে তাদের ভূমিকাও অস্বীকার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে যারা প্রশ্রয় দিয়েছেন, দলীয়ভাবে তাদেরকেও জবাবদিহিতায় আনতে হবে।
বগুড়া শহরে তুফান সরকার দু’বছর ধরে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত। মাদক ব্যবসায় তার পরিবার কয়েক দশক ধরেই জড়িত। ২০১৫ সালে শহর শ্রমিক লীগে যোগ দেয়। এরপর নেতাদের ম্যানেজ করে প্রশাসনের নাকের ডগায় চালিয়ে যায় মাদক ব্যবসা। সেই ব্যবসার হাত ধরেই হয়ে উঠে কোটিপতি তুফান। গড়ে তোলে তুফান বাহিনী।

প্রশাসন যেমন তার ব্যাপারে নিশ্চুপ তেমনি ভয়ে আতংকে বোবা হয়েছিলেন এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীরা। রাজনীতিতে তুফানের যেমন উত্থান ঘটেছে, তেমনি তার দ্বারা দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা হয়েছে কোনঠাসা। ২০১৫ সালে ২ বস্তা ফেনসিডিল ও বিপুল পরিমাণসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল তুফান। কিছুদিন পর আপন বড় ভাই যুবলীগ নেতা মতিন সরকারের সহায়তায় শ্রমিক লীগে যোগ দিয়ে হয়ে উঠে প্রভাবশালী নেতা। শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি হয়েই মাদক সাম্রাজ্যের বিস্তৃতিই ঘটায়নি পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির থাবা বসায়। শহরে জুয়ার আসর বসিয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা বিচারাধীনও ছিল।

তবুও প্রশাসন ও দলীয় পর্যায়ে তুফানের বিরুদ্ধে উঠে নি কোনো অভিযোগ। এতে এলাকায় ত্রাস হিসাবে পরিচিতি বাড়তেই থাকে না, ফুলে ফেঁপে উঠতেই থাকে না সম্পদ, নিজেও হয়ে উঠে মাফিয়া ডন। এরআগেও মামলা খেয়ে জেলে গিয়ে মুক্তি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মুখে কলুপ। ভয়ে ও আতংকে সবাই চেপে যান। তুফানের বাবার নাম মজিবর রহমান। সাত ভাইয়ের মধ্যে তুফান সবার ছোট। তার বাবা একসময় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তার পরিবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পরে। সেই থেকে প্রতিটি সরকারের প্রশাসনকে ম্যনেজ করে চালিয়ে যায় মাদক ব্যবসা।

অনেকে বলেন, তুফান ও তার ভাই রাজনীতিতে মূলত নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক লীগের যোগ দেয়। তুফান বাহিনীর ত্রাসের মুখে তার চাঁদাবাজি, জমি দখল, চোরাচালনসহ নানান আইন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। শহর জুড়ে জায়গা দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করেননি।

২০১২ সালে তুফান সরকারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়। চোরাই গাড়ি কেনাবেচার অভিযোগে অভিযুক্ত তুফান শহরের ১০ হাজার ইজিবাইকের ওপর চাঁদাবাজি শুরু করে। তার স্টিকার ছাড়া বগুড়া শহরে কোনো রিক্সা চলতো না। প্রতিটি রিক্সা থেকে এককালীন দেড় হাজার টাকা, রোজ ২০ টাকা চাঁদা নিয়েছেন তিনি।

বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করার নামে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন তুফান। তুফানের স্ত্রী এ ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে দায়ী না করে কিশোরীটিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং সরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার সভা বসিয়ে নির্যাতিতা ও তার মায়ের চুল কেটে দেন। পরে নাপিত ডেকে তাদের জন্য ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। স্থানীয় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সে রাতেই তুফান তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই শনিবার তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে নির্যাতিতা কিশোরী।

শ্রমিক লীগ বর্বর, ধর্ষক তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পরও তার সম্পদের বিষয়ে এখনো মন্তব্য আসেনি। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, তুফান সরকারের আগে মামলা সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। তবে ২০১৫ সালের একটি মাদক মামলা বিচরাধীন রয়েছে। তুফানের সম্পত্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিলেই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারবে।

এত অনিশ্চয়তা, এত মূল্যবোধহীন জীবন তবুও কেন তুফান করুণাস্রিত হয়ে পাদপ্রদীপে বসে থাকেন? এই বেয়াদব, উগ্র, যৌন বিকারগ্রস্ত, ক্ষমতার দ্বম্ভে, কাঁচা টাকার উন্মাসিকতায় যে বর্বর জীবন তার এত লোভ, লালসা ও নিরপরাধ মেয়েকে ডেকে এনে ধর্ষণ, অত্যাচার মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। মা-মেয়েকে ধরে এনে পাশবিক নির্যাতন, সাদা কাগজে সই রাখা, মাথা ন্যাড়া করে দেয়া গোটা সভ্যতা, আইন-বিধি, বিধান এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বুঁড়ো আঙুলই প্রদর্শন নয়, রীতিমতো সরকার ও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া। এই ধরণের পাশবিক, বিকৃত, বর্বর, অমানবিক ঘটনা গোটা বাংলাদেশকেই ঝাঁকুনি দিয়েছে।

কত রাজনৈতিক কর্মীর, কত সন্ত্রাসীর জীবনে ক্রসফায়ারের মতো, বন্দুক যুদ্ধের মতো নির্মম পরিণতি ঘটে থাকে। যদিও বিনা বিচারে মানুষ হত্যার এই ক্রসফায়ারের বিরোধিতা  বরাবর করে এসেছি। কিন্তু বগুড়ার নৃশংসতায় রাগে, ক্ষোভে, আবেগে জ্বলে উঠে লিখেছিলাম, তুফান সরকারের ক্রসফায়ার চেয়েছি। কিন্তু পেশাদারিত্বের জায়গায় সংবিধান, আইন ও বিধি-বিধানের প্রতি আনুগত্য রেখে ক্রসফায়ার চাইতে পারি না।

এত মানুষ যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে তাহলে তুফান সরকারের মতো ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মানুষের ইস্পাত কঠিন ঐক্য কেন গড়ে উঠবে না? দল থেকে বহিষ্কার করলেই হবে না, হয় একে দ্রুত বিচার আইনে তার প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই ধরণের পাশবিক নির্যাতনকারীর বিচার দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকে। ধর্ষকের যেন বুক কাঁপে, নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের সাহস যেন আর না পায়। যে শাস্তি দেখে সকল বর্বর নারী ও শিশু ধর্ষক শিউরে উঠে। সুত্র: পূর্ব-পশ্চিম বিডি ডটকম


রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলবে

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
ওরা ক্ষমতায় এলে ১ লক্ষ লোককে খুন করবে’
নিজের স্ত্রীকেই ছয়বার বিয়ে করে তুফান!
৩১টি করিডর খুলে দেওয়ায় ভারত সীমান্ত দিয়ে আসছে গরুর পাল
“ক্যাম্পাস ” ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন
হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লো সমাজসেবা কর্মকর্তা
অন্তঃসত্ত্বার কারণেই রিয়া সেনের তড়িঘড়ি বিয়ে!
ন্যান্‌সির আক্ষেপ
ভারতে ট্রেন দূর্ঘটনায় ১০ জন নিহত, আহত ৩০
আজব এক দম্পতি
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে : হাজ্বী রবিউল ইসলাম
গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত : করতোয়া নদীর পানি বেড়ে গোবিন্দগঞ্জে বন্যা
নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত: বন্যার পানিতে পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু
১০ দিন পর বগুড়া থেকে ইবি শিক্ষার্থী উদ্ধার
বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন
চিরিরবন্দরে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত
পঞ্চগড়ে জমি দখল নিতে এ কেমন বর্বরতা!
নন্দীগ্রামে মাধবকুড়ি গ্রামে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করলেন এমপি তানসেন
অপহরণের তিন‌দিন পর ক‌লেজ ছা‌ত্রের লাশ উদ্ধার : গ্রেফতার ১
তৃতীয়বারও ক্ষমতায় আসবে শেখ হাসিনা: ভারতীয় পত্রিকা
দক্ষিণবঙ্গের জালিয়াত চক্রের প্রধান জলিল হুজুর গ্রেফতার